শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৫ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

চীনা মুদ্রায় এলসি খোলার সুযোগ বাড়াল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৬:২০

প্রচলিত বৈদেশিক মুদ্রার পাশাপাশি এখন থেকে চীনা মুদ্রা ইউয়ানে আমদানি দায় পরিশোধ করা যাবে। এজন্য বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনে অনুমোদিত (এডি) ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে এই মুদ্রায় ক্লিয়ারিং অ্যাকাউন্ট খুলতে বলা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত নির্দেশনা ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক লেনদেন চীনা মুদ্রায় করার সুযোগ বাড়াতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ব্যাংকগুলো এখন থেকে চীনের মুদ্রা ইউয়ানে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে এবং তাদের বৈদেশিক শাখার মাধ্যমে আন্তঃসীমান্ত লেনদেন নিষ্পত্তি করতে পারবে। আগে শুধু অনুমোদিত ডিলাররাই বাংলাদেশ ব্যাংকে ফরেন কারেন্সি ক্লিয়ারিং অ্যাকাউন্ট খুলতে পারত। নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ব্যাংকগুলোকেও তাদের বৈদেশিক শাখায় ইউয়ানে অ্যাকাউন্ট রেখে, লেনদেন নিষ্পত্তির সুযোগ করে দেওয়া হলো।

বর্তমানে দেশের বেশির ভাগ ব্যাংকের ‘নস্ট্রো’ অ্যাকাউন্ট রয়েছে। বিদেশি ব্যাংকে এ ধরনের অ্যাকাউন্ট বৈদেশিক মুদ্রায় খোলা হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই যা মার্কিন ডলারে করা হয়। বিশ্বব্যাপী কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো যখন তাদের রিজার্ভে ইউয়ানের পরিমাণ বাড়াচ্ছে তখনই দেশের ব্যাংকিং খাতকে এ সুযোগ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, ডলার ও ইউরোর বাইরে অন্য কোনো মুদ্রায় খুব একটা এলসি হয় না। যদিও ২০১৮ সাল থেকে এ ধরনের সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা ইউএস ডলার, যুক্তরাজ্যের পাউন্ড, ইউরোপিয়ান দেশগুলোর মুদ্রা ইউরো, জাপানি ইয়েন এবং কানাডিয়ান ডলার—এ  ধরনের মুদ্রার বিপরীতে আমদানি দায় পরিশোধ করা যায়। 

তবে সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশে বিভিন্ন পণ্য আমদানি বেড়েছে। ডলারে আমদানি ব্যয় পরিশোধ করলে বিনিময়জনিত একটা লোকসান হতো। এ মুদ্রা বিনিময়জনিত লোকসান তুলনামূলক কম হবে। এর পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রেও চীনা মুদ্রার দুয়ার খোলা থাকবে। ফলে সুবিধামতো যে কেউ চাইলে চীনা মুদ্রায় এলসি খুলতে পারবেন।

ইত্তেফাক/এএইচপি