শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৫ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

অফিস সহকারীর ‘অজ্ঞতায়’ ডিগ্রিতে ভর্তি হতে পারেননি ৩৪ শিক্ষার্থী

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০:৫৭

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার তিলকপুর মহাবিদ্যালয়ে যথাসময়ে আবেদন করেও ৩৪ জন শিক্ষার্থী ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষে ডিগ্রি পাস কোর্সে ভর্তি হতে পারেননি। ভুক্তভোগীদের দাবি, তারা অফিস সহকারীর ‌অজ্ঞতার কারণে বাদ পড়েছেন।  

এদিকে নিজের অদক্ষতার কথা স্বীকার করে মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অফিস সহকারীর দায়িত্বে থাকা শরিফ উদ্দিন বলেন, ‘কলেজের অফিস সহকারী অবসরে গেছেন। আমি নিম্নমান সহকারীর পদে ছিলাম। আমাকে অফিস সহকারীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমার কম্পিউটার সর্ম্পকে তেমন ভালো ধারণা নেই।’ 

শরিফ উদ্দিন আরও বলেন, ‘আমি ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে মানবিক শাখার ৩৪ জন শিক্ষার্থী ডিগ্রি পাস কোর্সের ভর্তি নিশ্চয়নের ঘরে ক্লিক করেছিলাম। অনেক পরে জানতে পারি, ভর্তি নিশ্চয় সম্পূর্ণ হয়নি। এরমধ্যে ভর্তির নির্ধারিত সময়ও শেষ হয়েছে। ওই শিক্ষার্থীদের ভর্তির বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১৫ জন মেয়ে এবং ১৯ জন ছেলে রয়েছেন।’

তিলকপুর মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মহসীন হোসেন বলেন, ‘আমিসহ ৩৪ জন শিক্ষার্থী কলেজে ডিগ্রি পাস কোর্সে ভর্তি হতে পারিনি এমন কথা গত কয়েক দিন আগে জানতে পেরেছি। এখন আমাদের ভবিষ্যৎ কী হবে, এর দায় কে নেবে?’

আব্দুল মজিদ মন্ডল নামে এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, ‘আমার ছেলেকে তিলকপুর মহাবিদ্যালয়ে ডিগ্রিতে ভর্তি করিয়েছিলাম। এখন শুনছি ছেলের ভর্তিই হয়নি। কলেজ কর্তৃপক্ষের খেসারত আমরা কেন দেবো?’ 

মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ আবু হাসনাত মো. জুবায়ের বলেন, ‘ভর্তির কাজে নিয়োজিত অফিস সহকারীর অজ্ঞতায় কলেজে ডিগ্রি পাস কোর্সে ভর্তির জন্য আবেদনকৃত ৩৪ জন শিক্ষার্থী ইনলিস্টেট হয়েছে। তাদের ভর্তির নিশ্চয়নটা সময় মতো সাবমিট না হওয়ায় এই জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। এই নিশ্চয়নটা যদি আমরা করতে পারি, তাহলে সাবজেট কোড, রেজিস্ট্রেশন সবকিছুই কমপ্লিট হবে, তখন ভর্তি নিশ্চিত হবে। মূল সমস্যাটা হয়েছে ভর্তির নিশ্চয়নটাই আমরা সময় মতো করতে পারিনি। এবিষয়ে কলেজের সভাপতিসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। দ্রুত সমস্যাটা সমাধান হয়ে যাবে বলে আমরা আশা করছি।’

আক্কেলপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. মকবুল হোসেন বলেন, ‘তিলকপুর মহাবিদ্যালয়ের ডিগ্রি প্রথমবর্ষের ভর্তি বিষয়ে এমন কোনো তথ্য আমার জানা নেই।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম হাবিবুল হাসান বলেন, ‘তিলকপুর মহাবিদ্যালয়ে ভর্তি সংক্রান্ত ব্যাপারে যে সমস্যা তৈরি হয়েছে, এটিতে নিশ্চয় কলেজ কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা রয়েছে। এ কারণে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা বলেছি দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে যেন যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আমি যতদূর শুনেছি, এঘটনায় ইতোমধ্যেই দায়ী ব্যক্তিকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়েছে।’

ইত্তেফাক/এইচএম