বুধবার, ০৫ অক্টোবর ২০২২, ১৯ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

বৃদ্ধা শাশুড়িকে মারধরের ভিডিও ভাইরাল, পুত্রবধূ গ্রেপ্তার

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৯:০১

রংপুরের কাউনিয়ায় পারিবারিক কলহের জেরে আয়শা বেগম (৬০) নামে এক বৃদ্ধা শাশুড়িকে পুত্রবধূ নির্যাতন করছেন এমন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত পুত্রবধূ রত্না বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাত ১০টার দিকে তাকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সকালে কাউনিয়া উপজেলার বালাপা ইউনিয়নের হরিচরণ লস্কর মাঠের পাড় গ্রামে পুত্রবধূর নির্যাতনের শিকার হন শাশুড়ি। নির্যাতনের শিকার বৃদ্ধা আয়শা বেগম মৃত আব্দুল সিদ্দিকের স্ত্রী। শুক্রবার তাকে আহত অবস্থায় কাউনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। 

ভাইরাল হওয়া এক মিনিট ছয় সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, গ্রামের কোনো একটি রাস্তায় ফেলে এক বৃদ্ধাকে মারধর করছেন আরেক নারী। বৃদ্ধা নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা পেতে বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করলেও অনেক মানুষ আশেপাশে দাঁড়িয়ে দেখছিলেন। কখনো হাত দিয়ে, আবার কখনো পা দিয়ে মুখে মাথায় মারতে থাকেন। একজন বয়স্ক পুরুষ এসে তাদের আলাদা করার চেষ্টা করেন। কিন্তু ওই নারী ক্ষিপ্ত হয়ে আবারও বৃদ্ধাকে স্যান্ডেল দিয়ে পেটাতে থাকেন। বৃদ্ধা নিজেকে বাঁচাতে নির্যাতনকারীর চুল টেনে ধরে। ভিডিওতে দুজনকেই এক পর্যায়ে পাল্টা-পাল্টি চুল নিয়ে টানাটানি করতে দেখা গেছে।

এ ব্যাপারে বালাপাড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য হায়দার আলী জানান, আয়েশা বেগমের এক ছেলে ও এক মেয়ে। মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। এরপর তিনি স্বামীর বাড়িতে একা বসবাস করতেন। ছেলে আশরাফুল ইসলাম (৩০) তার স্ত্রীসহ পাশে আলাদা বাড়িতে থাকতেন। আশরাফুল ঠিকমতো কাজকর্ম করতেন না। বৃদ্ধার ছেলে কাউকে কিছু না বলে ঢাকায় চলে যান। এ নিয়ে শাশুড়িকে সন্দেহ করে বৃহস্পতিবার সকালে তার বাড়িতে গিয়ে তার কাছে স্বামীর খোঁজ চায়। একপর্যায়ে রত্না তার শাশুড়িকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। বৃদ্ধা শাশুড়ি প্রতিবাদ করলে তাকে বাড়ি থেকে টেনে বের করে রাস্তায় ফেলে প্রকাশ্যে নির্যাতন করেন। পরে নির্যাতনের ভিডিও শুক্রবার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি জানার পর রাত ৯টার দিকে ওই বৃদ্ধাকে নিয়ে থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়।

কাউনিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সেলিমুর রহমান বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর রত্মা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

ইত্তেফাক/এএএম