বৃহস্পতিবার, ০৬ অক্টোবর ২০২২, ২১ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

জাবিতে সাংবাদিক নির্যাতন

আবাসিক হলে থাকছেন বহিষ্কৃতরা, তদন্ত কাজে গড়িমসির অভিযোগ

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২২, ১৬:৫৫

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) থেকে সাময়িক বহিষ্কৃত হওয়ার পরেও আবাসিক হলে থাকছেন ছাত্রলীগের চার কর্মী। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের গেস্টরুমে নিয়ে এক সাংবাদিককে শারীরিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগে তাদের সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। এছাড়া ছাত্রলীগের কর্মকান্ডে তাদের অবাঞ্ছিত ঘোষণার পরেও দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বহিষ্কৃতদের মধ্যে নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৪৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আসাদ হক ও আরিফ জামান সেজান হলের ২০৭ ও ২০৬ নম্বর কক্ষে থাকছেন। এছাড়া নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৪৭তম ব্যাচের রায়হান বিন হাবিব এবং আইন ও বিচার বিভাগের ৪৭তম ব্যাচের মাসুম বিল্লাহ হলের ২০৩ ও ২০৪ নম্বর কক্ষে থাকছেন। তবে মাঝেমধ্যে আরিফ জামান সেজান ও মাসুম বিল্লাহ হলের তৃতীয় তলার একটি কক্ষে অবস্থান করেন। এ কক্ষগুলো ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানা গেছে। বহিষ্কৃতরা সবাই বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান লিটনের অনুসারী বলে পরিচিত।

জানা যায়, গত ২ আগস্ট বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের গেস্টরুমে ডেকে নিয়ে একটি অনলাইন পোর্টালের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আল-আমিন হোসাইন রুবেলকে শারীরিক নির্যাতন ও মারধরে অভিযোগ ওঠে শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মীর বিরুদ্ধে। পরে রাতেই ঘটনায় অভিযুক্তদের মধ্যে আট ছাত্রলীগ কর্মীকে সংগঠনের কার্যক্রমে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ। 

ছাত্রলীগের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার বিষয়ে হাবিবুর রহমান লিটন বলেন, তারা কোন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে আসেনি। তারা সিনিয়রদের সাথে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করতে এসেছে। তিনি আরো বলেন, সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনার দিন রাতেই আমরা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছি। তাহলে পরে আবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে কেন যাওয়া হলো? 

এ বিষয়ে বিশ^বিদ্যালয়ের হল প্রাধ্যক্ষ কমিটির সভাপতি ও বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আব্দুল্লাহ হেল কাফী ইত্তেফাককে বলেন, বহিষ্কৃতদের হল ছেড়ে দেওয়ার জন্য বলেছি। যদি তারা এখনও হলে অবস্থান করে, তাহলে খোঁজ নিয়ে হল থেকে বের করার ব্যবস্থা করবো।

  • তদন্ত কাজে ‘গড়িমসি’

এদিকে শৃঙ্খলা কমিটির সভা থেকে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনাটি অধিকতর তদন্তের জন্য শহীদ সালাম-বরকত হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক সুকল্যাণ কুমার কুন্ডুকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। জানা যায়, কমিটিকে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে ইতিমধ্যে সাত কার্যদিবস শেষ হলেও তদন্ত কার্যক্রমের দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি দেখা যায়নি। এমনকি অভিযোগকারী সাংবাদিককেও ডাকেনি কমিটি। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির প্রধান অধ্যাপক সুকল্যাণ কুমার কুন্ডু ইত্তেফাককে বলেন, তদন্ত কার্যক্রম শুরুর জন্য আমাদের চিঠি দেওয়া হয়নি। এছাড়া আমাদের কাছে প্রয়োজনীয় তথ্যও পাঠানো হয়নি, ফলে এখনও তদন্ত কাজ শুরু করতে পারিনি।

ইত্তেফাক/ইআ