রোববার, ০২ অক্টোবর ২০২২, ১৭ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

রামেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত যুবকের মৃত্যু, বাড়ছে রোগী 

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ২২:২৭

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঈশ্বরদীর ডেঙ্গু আক্রান্ত যুবক রাকিবুলের (২২) মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকালে হাসপাতালের আইসিইউ বেডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। রাকিবুল পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে চাকরি করতেন।

ডেঙ্গুর কারণে মাত্রাতিরিক্ত জ্বরসহ কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন রামেক হাসপাতালের আইসিইউ ইউনিটের প্রধান অধ্যাপক ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামাল।

ডাক্তার বলেন, রাকিবুল গত ১৭ সেপ্টেম্বর বিকালে রামেক হাসপাতালে ভর্তি হন। এরপর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত ১৮ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টার দিকে তাকে হাসপাতালের আইসিইউতে প্রেরণ করা হয়। 

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের শুরুতে রাকিবুল বিয়ে করেছিলেন পাশের জেলায়। একমাস হলো নতুন চাকরিতে যোগদান করেছিলেন নিজ উপজেলার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে। তীব্র জ্বর, মাথা ও পেট ব্যথা নিয়ে প্রথমে ঈশ্বরদী উপজেলার হাসপাতালে এবং পরে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। 

চিকিৎসকরা জানান, রাকিবুলের প্রস্রাব কম হচ্ছিল। ওয়ার্ডের সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক কিডনির কার্যক্ষমতা পরীক্ষা করে স্বাভাবিকের চেয়ে ৪ গুণ বেশি রিপোর্টে খারাপ থাকায় তাকে রামেক হাসপাতালের আইসিইউতে পাঠিয়ে দেন। নিয়ম অনুযায়ী সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। তার ১০৬ ডিগ্রি পর্যন্ত জ্বর ছিল। 

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২ বছর পর হাসপাতালে এমন ঘটনা ঘটলো। মশাবাহিত এ রোগটি প্রতিরোধ করা সম্ভব। ঢাকা, কক্সবাজারের পর সারাদেশে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে ডেঙ্গু। একটু সচেতন হলে সবাই মিলে এটা নির্মূল করা সম্ভব। সরকারিভাবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি প্রচার করা হচ্ছে। 

এদিকে, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের দেওয়া তথ্য মতে, আজ ১৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন হাসপাতালটিতে। সোমবার এই সংখ্যা ছিল ৭ জন।
 
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডাক্তার শামীম ইয়াজদানী বলেন, ‘ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের হাসপাতালের বিভিন্ন মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের জন্য পৃথক ওয়ার্ডের ব্যবস্থা করা না হলেও প্রতিটি মেডিসিন ওয়ার্ডে ডেঙ্গু কর্নারে মশারির মধ্যে রেখে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’ 

 

ইত্তেফাক/এইচএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন