মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

ঢাকাই সিনেমায় সুবাতাস

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৩:৩১

সুন্দরবনের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনরক্ষা, মৎস্য ও বনজ সম্পদের সংরক্ষণ সর্বোপরি সুন্দরবনকে বাঁচানোর লক্ষ্যে ২০১৬ সালের ৩১ মে থেকে ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর পর্যন্ত অভিযান চালায় র‍্যাব। সেই অভিযানে ৩২টি বাহিনীর ৩২৮ জন জলদস্যু ৪৬২টি অস্ত্র ও বিপুল গোলাবারুদসহ আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। এরপর ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুন্দরবনকে জলদস্যুমুক্ত হওয়ার ঘোষণা দেন। সুন্দরবনে র‍্যাবের সেই ‘রোমাঞ্চকর অভিযান’ জনসাধারণের সামনে তুলে ধরার জন্য নির্মিত হয়েছে ‘অপারেশন সুন্দরবন’। 

বন্যজীবন নিয়ে বাংলাদেশের প্রথম রোমাঞ্চকর কাহিনিচিত্র এটি। ২০১৯ সালে ২০ ডিসেম্বর সাতক্ষীরার বুড়িগোয়ালিনী এলাকায় শুটিং শুরু হয়েছিল এই সিনেমার। করোনার কারণে কয়েক ধাপ পিছিয়ে গত বছরের ১০ নভেম্বর মংলার বানিয়াশান্তা এলাকায় সিনেমাটির শুটিং শেষ হয়। সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন রিয়াজ আহমেদ, সিয়াম আহমেদ, নুসরাত ফারিয়া, জিয়াউল রোশান, দর্শনা বণিক, তাসকিন রহমান, রওনক হাসান, তুয়া  চক্রবর্তী, মনোজ প্রামাণিক, সামিনা বাশার, রাইসুল ইসলাম আসাদ, আরমান পারভেজ মুরাদ, নরেশ ভুইয়া, মানস বন্দোপাধ্যায়, মনির খান শিমুল প্রমুখ।

এ চলচ্চিত্র প্রসঙ্গে পরিচালক দীপংকর দীপন বলেন, ‘সুন্দরবন দস্যুমুক্ত হবার গল্প নিয়ে নয়, অপারেশন সুন্দরবন তৈরি হয়েছে সুন্দরবন দস্যুমুক্ত হওয়াকে উদযাপন করতে। এটি কোনো ডকুমেন্টারি নয়, এটি সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক সিনেমা; যেখান ড্রামা-সাসপেন্স, নারী-পুরুষের সম্পর্ক, প্রেম-ভালবাসা সবকিছু আছে। এতে ওঠে আসবে সুন্দরবনে র‍্যাবের দুঃসাহসিক অভিযান, জীববৈচিত্র্য, প্রেম-প্রকৃতির সবকিছুই!’ তিনি আরও বলেন, ‘এই ছবি দীর্ঘদিনের কষ্টের ফসল। এই কষ্ট শুধু আমি একা করিনি। র‍্যাবের বিভিন্ন অফিসার, সদস্য থেকে আমার সরকারী পরিচালকরা, শিল্পী, কলাকুশলী, রাইটার প্রত্যেকেই করেছেন। সুন্দরবনে যে পরিস্থিতিতে গিয়ে কাজ করেছি সত্যিকার অর্থে খুবই কঠিন। আশা করি দর্শকরা হলে আসবেন। ছবিটি দেখবেন। তাহলেই আমাদের এতদিনের পরিশ্রম সার্থক হবে।’  

তারকাবহুল এই চলচ্চিত্রের অর্থায়নে রয়েছে র‍্যাব ওয়েলফেয়ার কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড। প্রযোজনা করছে থ্রি হুইলারস লিমিটেড। 

অন্যদিকে, গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী সার্কাস, জাদুর পাশাপাশি সম্পর্ক, সমাজ ও প্রতিশোধের গল্পে নির্মিত হয়েছে ‘বিউটি সার্কাস’। এ সিনেমার প্রধান আকর্ষণ দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান। সিনেমাটির অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন চিত্রনায়ক ফেরদৌস আহমেদ, তৌকীর আহমেদ, এবিএম সুমন, শতাব্দী ওয়াদুদ, গাজী রাকায়েত, হুমায়ূন সাধু, মানিসা অর্চি প্রমুখ।

সিনেমাটি প্রসঙ্গে জয়া আহসান বলেন, ‘দেড় বছর পর আমার নতুন সিনেমা আসতে যাচ্ছে। এটা আমার জন্য অনেক আনন্দের। বিউটি সার্কাস  আমার জন্য স্পেশাল একটি কাজ।’ তিনি বলেন, ‘অনেক সময় নিয়ে কাজটি করেছি। এ ছবির চরিত্রটিই আমাকে আগ্রহী করে তুলেছে কাজটি করতে। এখানে একজন সার্কাসের মেয়ে হিসেবে অনেক কিছু শিখতে হয়েছে, জানতে হয়েছে। পরিচালক অনেক গ্রামার মেনে কাজ করেন। তার নির্দেশ মেনে কাজ করেছি আমরা সবাই। দারুণ একটা টিম ছিল ছবিটির।’ 

জয়ার কথায়, আরও আগেই হয়তো এই ছবিটি মুক্তি পাওয়া উচিত ছিল। অবশেষে ছবিটি হলে আসছে এটাই স্বস্তির। আশা করছি, দর্শকের ভালো লাগবে। প্রথমবারের মতো সার্কাস নিয়ে কাজ হলো। সবাই দেখে মজা পাবেন। এ ছবিতে তৌকির আহমেদ ভাই, রাকায়েত ভাই (গাজী রাকায়েত) আরও অনেকের সঙ্গে অনেকদিন পর কাজ করা হয়েছে। সেই ‘গেরিলা’ ছবির পর আবার ফেরদৌস ভাইয়ের সঙ্গে কাজ করা হলো। এখানে আমাদের কেমিস্টটা ভিন্ন। দর্শক উপভোগ করবেন বলে প্রত্যাশা করছি।

সরকারের অনুদানপ্রাপ্ত ইমপ্রেস টেলিফিল্ম প্রযোজিত এ সিনেমার পরিচালক মাহমুদ দিদার বলেন, ‘সবার সম্মিলিত পরিশ্রমের ফল বিউটি সার্কাস। আপনার হলে আসবেন। সিনেমাটা দেখবেন। অনুভূতির কথা সামাজিক মাধ্যমে লিখবেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘জয়া আপা খুব ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তাকে ভিজতে ভিজতে শুটিং করতে হয়েছে। ফেরদৌস ভাইও অনেক পরিশ্রম করেছেন।’

 

 


 

 

 

ইত্তেফাক/ইআ