শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৫ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

গুমের অভিযোগ তদন্তে নানা সমস্যায় পড়েছি: মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৭:৪৩

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান নাছিমা বেগম এনডিসি বলেছেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কাছে গুমের ১১৯টি অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন থেকে অভিযোগ এসেছে ৪৮টি। কমিশন নিজে অভিযোগ নিয়েছে ৯টি। আর ৬২ জন সরাসরি গুমের অভিযোগ করেছেন। সরাসরি অভিযোগকারীদের অনেকে আর যোগাযোগ করেননি। গুমের অভিযোগ তদন্ত করতে নানা সমস্যায় পড়েছি। তিনি বলেন, গুমের সরাসরি অভিযোগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে গিয়ে দেখা গেছে, কারো আগ্রহ নেই আবার কেউ ফোন ধরেন না ।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বর্তমান মানবাধিকার কমিশনের মেয়াদ পূর্তিতে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা জানান চেয়ারম্যান নাছিমা বেগম।

নাছিমা বেগম বলেন, এই তারিখে গুম হয়েছে বা নিখোঁজ হয়েছে—এভাবে আমাদের কাছে অভিযোগ আসে। এ রকম ১১৯টি অভিযোগ এসেছে। এর মধ্যে গুম থেকে ফেরত এসেছেন ২৮ জন আর ৩৩ জন গ্রেফতার হয়েছেন।

কমিশনের কাছে যেসব মামলা হয়েছে, সেসবের মধ্যে ৬২ জন সরাসরি অভিযোগ দাখিল করেছেন জানিয়ে নাছিমা বেগম বলেন, ব্লাস্টসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে অভিযোগ এসেছে ৪৮টি। আর আমরা অভিযোগ নিয়েছি ৯টি। কখনো এমন হয়েছে যে, বিষয়টি নিয়ে কমিশন এগোতে পারেনি।

সম্প্রতি বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের উদ্বেগ প্রকাশ প্রসঙ্গে নাছিমা বেগম বলেন, জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে। আমরা মনে করি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আছে, সেগুলো সরকারের খতিয়ে দেখা উচিত। আমরা বলেছি, কমিশনকে আরো শক্তিশালী করা হোক। মানবাধিকার কমিশন যদি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে তদন্ত করতে পারে, তাহলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ এলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নেয়নি। তাহলে তাকে খুঁজে বের করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের।

‘বিএনপির রাজনৈতিক কর্মসূচিতে হামলা হচ্ছে। হামলায় দলটির নেতাকর্মীরা মারাও যাচ্ছেন। থানায় গেলে মামলা নিচ্ছে না। উলটো বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হচ্ছে।’ এতে মানবাধিকারের লঙ্ঘন হচ্ছে কি না, জানতে চাইলে নাছিমা বেগম বলেন, কোর্ট মামলা নিয়েছে। আমরা প্রতিবেদন চেয়েছি। প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেব।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি