শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৫ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

ফুলপুরে উদ্ধার লাশ কি খুলনার নিখোঁজ রহিমার?

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:৪০

খুলনায় নিখোঁজ গৃহবধূ রহিমা বেগমের (৫২) লাশ উদ্ধার হয়েছে বলে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন তার মেয়ে মরিয়ম মান্নান। বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে তিনি এই স্ট্যাটাস দেন। তবে খুলনার দৌলতপুর থানা পুলিশ, মামলার তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই এবং ময়মনসিংহ পুলিশ বলেছে, বিষয়টি তারা মোটেও নিশ্চিত নয়। এদিকে, ফেসবুকে এই স্ট্যাটাস দেওয়ার খুলনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে নিখোঁজ রহিমা বেগমের মেয়ে মরিয়ম মান্নান ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন ‘আমার মায়ের লাশ পেয়েছি এই মাত্র’। এই স্ট্যাটাস দেওয়ার পর অনেকে শেয়ার করেছেন এবং স্ট্যাটাসের নিচে ৭৭৩টি কমেন্টস পড়েছে। এরপর তিনি আরেকটি স্ট্যাটাসে লেখেন ‘ আর কারো কাছে আমি যাবো নাহ! কেউকে আর বলবো নাহ আমার মা কোথায়! কেউকে বলবো নাহ আমার মাকে একটু খুঁজে দিবেন! কেউকে আর বিরক্ত করবো নাহ! আমি আমার মা’কে পেয়ে গেছি!’ এই স্ট্যাটাসের নিচে দেখা যায়, ৪৮জন শেয়ার করেছেন এবং ১৫৩টি কমেন্টস পড়েছে।

বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে মরিয়ম মান্নানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে, এক পর্যায়ে তিনি ‘আই উইল কল ইউ প্লিজ’ লিখে একটি ম্যাসেজ পাঠান।

মোবাইল ফোনে তার ভাই মো. সাদীকে ফোন দেওয়া হলে তিনি রিসিভ না করে কেটে দেন। পরে তার ফোনে একাধিকবার রিং দেওয়া হলেও বন্ধ পাওয়া যায়।

ময়মনসিংহের ফুলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, গত ১০ সেপ্টেম্বর ফুলপুর থানা এলাকা থেকে এক নারীর গলিত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ওই নারীর আনুমানিক বয়স ৩০ বছর উল্লেখ করে দাফন করা হয়েছে। আর খুলনার  নিখোঁজ নারীর বয়স আরো অনেক বেশি। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে খুলনার নারীর স্বজনরা ফুলপুর থানায় এসেছে। তাদের সঙ্গে কথা বলছি। ওই নারীর কাপড়-চোপড় দেখে যদি তারা সনাক্ত করে তারপর বলা যাবে। তবে লাশটি কার এখনো আমরা বলতে পারছি না।

নিখোঁজ ওই নারীর বাড়ি খুলনা মহানগরীর দৌলতপুর থানা এলাকায়। দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, তিনিও লোকমুখে ও সাংবাদিকদের কাছ থেকে শুনেছেন। কিন্তু বিষয়টি সম্পর্কে তারা নিশ্চিত হতে পারেননি।

ওই নারী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত করছে পিবিআই। এ ব্যাপারে জানতে সংস্থাটির খুলনার পুলিশ সুপারকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

গত ২৭ আগস্ট খুলনার দৌলতপুর থানার মহেশ্বরপাশা এলাকা থেকে রহিমা বেগম নামে এক গৃহবধূ নিখোঁজ হন। পরদিন রহিমা বেগমের মেয়ে আদুরী খাতুন বাদি হয়ে দৌলতপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।

ইত্তেফাক/কেকে