রোববার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৩, ১৪ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

জীবনবৃত্তান্তেই আটকে আছে হাবিপ্রবি ছাত্রলীগের কমিটি

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২২, ১৬:৫১

প্রায় একযুগ পার হলেও নতুন কমিটি পায়নি দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) শাখা ছাত্রলীগ। সর্বশেষ ২০১০ সালে ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্স অনুষদের শিক্ষার্থী ইফতেখারুল ইসলাম রিয়েলকে সভাপতি ও কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থী অরুণ কান্তি রায় সিটনকে সাধারণ সম্পাদক করে হাবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়। এরপর দীর্ঘ ১১ বছর পর গত বছরের ২৭ নভেম্বর হাবিপ্রবি ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে বিজ্ঞপ্তি দেয় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ। 

গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে হাবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশীদের জীবনবৃত্তান্ত জমা নেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির গণশিক্ষা সম্পাদক আব্দুল্লাহ হীল বারী ও উপ-ক্রীড়া সম্পাদক মেহেদী হাসান। হাবিপ্রবি ক্যাম্পাসেই জমা নেওয়া হয় জীবনবৃত্তান্ত এবং সেখানে মোট ২৮৯ জন পদপ্রত্যাশী তাদের জীবনবৃত্তান্ত জমা দেন। এছাড়াও এরআগে ২০১৬ সালেও জীবনবৃত্তান্ত জমা নেয় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ। 

এদিকে গত ১৪ মে গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়ের বক্তব্যে সংবাদে আশাবাদী হন নেতাকর্মীরা। ঐ ভিডিও সাক্ষাৎকারের একপর্যায়ে জয় বলেন, 'হাজী দানেশ বিশ্ববিদ্যালয়সহ আরো কিছু ইউনিটে ছাত্রলীগ কমিটি করার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।' কেন্দ্রীয় নেতার এমন বক্তব্যে হাবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ  উচ্ছ্বসিত হলেও এখনো কমিটি না হওয়ায় সেই উচ্ছ্বাস এখন হতাশায় পরিণত হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগের নেতারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কমিটি না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের মধ্যে নানা গ্রুপিং তৈরি হচ্ছে। নেতৃত্ব না থাকায় ছাত্রলীগের চেইন অব কমান্ড ভেঙে গেছে। এর ফলে তৈরি হচ্ছে বিশৃঙ্খলা।   

তারা আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করার পরও সাংগঠনিক পরিচয় না নিয়েই বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সমাপ্তি ঘটাতে হচ্ছে। এদিকে চাকরির বয়স শেষ হওয়াতেও হতাশা গ্রাস করে বসেছে আমাদেরকে।

এ বিষয়ে জানতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তারা সাঁড়া দেননি। এ বিষয়ে মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠালেও কোনো প্রতিত্তুর কররেনি তারা।

তবে হাবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের কমিটির বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির গণশিক্ষা সম্পাদক আব্দুল্লাহ হীল বারী বলেন, এবিষয়ে আমি আমার ব্যক্তিগত জায়গা থেকে আমাদের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে কথা বলেছি এবং ওনাদের সাথে গতকালও এবিষয়ে কথা হয়েছে। তারা জানিয়েছেন খুব অল্প কিছুদিনের মধ্যেই হাবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের কমিটি দেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, জয় ভাই এবং লেখক ভাই নিজেদের মেয়াদ থাকাকালীন সময়ের মধ্যেই কমিটি দিয়ে দেবে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সাথে সমন্বয় করতে কিছুটা সময় লাগছে হয়তো। তবে সমন্বয়ের সুরাহা অনেকটাই হয়ে গেছে হয়তো।

ইত্তেফাক/এআই