হিজাব পরতে বাধ্য করলে প্রতিবাদ করবো: মালালা 

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৬:৩২

ইরানের পুলিশি হেফাজতে গত ১৬ সেপ্টেম্বর মারা যান ২২ বছর বয়সী কুর্দি তরুণী মাহশা আমিনি। এরপর থেকে দেশজুড়ে চলছে তুমুল বিক্ষোভ। টানা ৯দিনের মতো দেশটির অন্তত ৫০ টি শহরে ছড়িয়ে পড়েছে এই বিক্ষোভ। বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের তাণ্ডবে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫০ জনের নিহতের খবর পাওয়া গেছে।

মাহশার এমন মৃত্যুতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোসহ বিশ্বের অধিকারকর্মীরা প্রতিবাদ জানচ্ছেন। ইরানে চলমান হিজাববিরোধী বিক্ষোভের বিষয়ে এবার কথা বলেছেন নোবেল বিজয়ী পাকিস্তানী বংশোদ্ভূত মালালা ইউসুফজাই। 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে মালালা লিখেছেন, একজন নারী যাই পরুক না কেন, তার সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রয়েছে। আমি আগেই বলেছি, যদি কেউ আমাকে আমার মাথা ঢেকে রাখতে বাধ্য করে, আমি প্রতিবাদ করবো। যদি কেউ আমাকে আমার স্কার্ফ খুলতে বাধ্য করে, তাহলেও আমি প্রতিবাদ করবো।

এর আগেও ভারতের কর্নাটকে হিজাব বিতর্কের সময় জোরপূর্বক হিজাব পরতে না দেওয়ার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন মালালা। 

এদিকে আজ শনিবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ দেশটিকে বহু বছরের মধ্যে এবার মারাত্মক চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে।

পুলিশের অভিযোগ, মাহশা আমিনি হিজাব সম্পর্কিত নিয়ম ভঙ্গ করে। এরপরেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তার মৃত্যু হয়েছে স্বাস্থ্যগত কারণে। তবে পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শী এবংবহু ইরানির দাবি, পুলিশি নির্যাতনে মৃত্যু হয়েছে মাহশার।

বিক্ষোভকারীরা বলছেন, তারা যদি এখনই এর বিরুদ্ধে রুখে না দাঁড়ান তাহলে একদিন তাদেরও একই ভাগ্য বরণ করতে হতে পারে। দেশটিতে এমন সময়ে এই ঘটনা ঘটলো যখন ইরানের মানুষ এমনিতেই ক্ষুব্ধ।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের এলিট রাজনীতিকদের দুর্নীতি, ৫০ শতাংশের বেশি মুদ্রাস্ফীতির কারণে দারিদ্র বেড়ে যাওয়া, পারমাণবিক আলোচনায় অচলাবস্থা এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার অভাব তরুণদেরসহ একটি বিরাট জনগোষ্ঠীকে হতাশ করে তুলেছে।

ইত্তেফাক/এসআর