বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

ডলার সংকটে প্রভাব পড়ছে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০১:১৫

চলমান ডলার সংকটে সরকার আমদানি নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে। কিন্তু এই নিয়ন্ত্রণের ফলে অনেক বিনিয়োগকারী মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে সমস্যায় পড়েছে। বর্তমানে রিজার্ভের উপর চাপ কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংক চাইছে আমদানি নিয়ন্ত্রণ করতে কিন্তু বাজার চাহিদা ও সরবরাহ ব্যবস্থা ঠিক রাখতে এই নিয়ন্ত্রণ এক পর্যায়ে আরো সহজ করতে হবে। ব্যবসায়ীদের সংগঠন মেট্রোপলিট্যান চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এমসিসিআই) সভাপতি সাইফুল ইসলাম এ কথা বলেছেন। 

শনিবার রাজধানীর মতিঝিলে এমসিসিআইর কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন। এসময় তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, আমাদেরই একজন মেম্বার ক্যাপিটাল মেশিনারি আনতে গিয়ে হয়রানিতে পড়েছেন, অথচ ক্যাপিটাল মেশিনারি বা মূলধনী যন্ত্রপাতি অর্থনীতিতে কী অবদান রাখে তা আমরা সবাই জানি।

এসময় তিনি ডলারের পরিবর্তে রূপি বা ইউয়ানে লেনদেনের প্রসঙ্গে বলেন, ডলারের বিপরীতে টাকা বা ভারতীয় রূপিতে লেনদেন খুব সহজ হবে না। এজন্য উভয় দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক পর্যায়ে এর রূপরেখা ঠিক করতে হবে, ব্যবসায়ীরাও বসতে হবে। বিশেষভাবে ভারতের পক্ষ থেকে কী ধরণের শর্ত দেওয়া হয়, তা দেখতে হবে। ভারতের সঙ্গে প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হচ্ছে, তার চার বিলিয়ন ডলারও যদি নিজস্ব মুদ্রায় করা যায় তা ডলারের রেটে কিছু প্রভাব আসবে। এছাড়া সম্প্রতি চীনের সঙ্গেও ডলারের বিপরীতে উভয় দেশের মুদ্রায় লেনদেনের ফল কী দাঁড়ায়, তা দেখতে আরো অপেক্ষা করতে হবে বলে মনে করেন তিনি। 

ব্যবসায়ীদের ট্রেড লাইসেন্সসহ অন্যান্য লাইসেন্সের মেয়াদ এক বছরের স্থলে তিন থেকে পাঁচ বছর করা, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) ওয়ান স্টপ সার্ভিসকে সত্যিকারের ওয়ান স্টপ সার্ভিস করা, পোর্টসহ লজিস্টিকস খাতের উন্নয়নে উপর গুরুত্ব দেন তিনি। তিনি বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা ব্যবসাকে প্রভাবিত করে। তবে কোভিডের আড়াই বছরে বিশ্বের অন্যান্য দেশে অস্থিরতা থাকলেও বাংলাদেশে স্থিতিশীল ছিল।  দেশের আগামী দিনের সার্বিক অর্থনীতি নিয়ে এমসিআই’র পক্ষ থেকে আশার কথাই তুলে ধরা হয়। এমসিসিআই পরিচালক আবিদ হোসেন খান বলেন, আমাদের অর্থনীতি ঘাবড়ানোর মত অবস্থানে নেই। রপ্তানি, রেমিট্যান্সে ইতিবাচক থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধান রপ্তানি বাজারগুলো তৈরি পোশাক আমদানি কমাতে পারে। তবে আমরা যেহেতু বেসিক আইটেম তৈরি করে, আমাদের রপ্তানি সমস্যায় পড়বে না।

ইত্তেফাক/ইআ