বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

কার্যক্রম শুরু হচ্ছে জানুয়ারিতে

এনআইডিতে ফের দিতে হবে ১০ আঙুলের ছাপ

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৫:০১

জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) যাদের চার আঙুলের ছাপ দেওয়া আছে, তাদের পুনরায় ১০ আঙুলের ছাপ গ্রহণ কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই কার্যক্রমটি আগামী বছর হাতে নিতে যাচ্ছে  সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। তবে যারা ইতিমধ্যে ১০ আঙুলের ছাপ দিয়ে স্মার্টকার্ড সংগ্রহ করেছেন তাদের  আঙুলের ছাপ লাগবে না। গতকাল শনিবার ঢাকা অঞ্চলের সকল পর্যায়ের নির্বাচন কর্মকর্তাদের ত্রৈমাসিক সমন্বয় সভায় এ তথ্য জানিয়েছেন এনআইডি অনুবিভাগের মহাপরিচালক এ কে এম হুমায়ুন কবীর। নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ঐ সমন্বয় সভার আয়োজন করা হয়।

ঢাকার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ফরিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে বৈঠকে ইসি সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (ইটিআই) মহাপরিচালক আব্দুল বাতেন, যুগ্ম সচিব শাহেদুন্নবী চৌধুরী, ইটিআইয়ের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তারাসহ ঢাকা অঞ্চলের নির্বাচন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ঢাকা অঞ্চলের চার জন কর্মকর্তাকে শ্রেষ্ঠ নির্বাচন কর্মকর্তার পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। এরা হলেন—ঢাকা জেলার সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মনির হোসাইন খান, কেরানীগঞ্জের নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল আজিজ, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আফরোজা খাতুন এবং ডেমরা থানা নির্বাচন কর্মকর্তা আল আমিন। অনুষ্ঠানে মাঠ পর্যায়ের কাজের চিত্র তুলে ধরেন পল্লবী থানা নির্বাচন কর্মকর্তা আবজাল হোসেন, ডেমরার আল আমিন প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে ইসি সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার বলেন, আমরা সেবা দেই। কিন্তু যদি গতি বাড়াতে না পারি, নাগরিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। বর্তমানে যে হালনাগাদ করা হচ্ছে, এই ভোটার তালিকা দিয়ে আগামী জাতীয় নির্বাচন হবে। সুতরাং অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। কোনোভাবেই কেউ যেন বাদ না পড়ে এবং কেউ যেন একাধিকবার ভোটার হতে না পারে সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। নির্বাচন কর্মকর্তাদের পুরস্কারের পাশাপাশি তিরস্কারেরও ব্যবস্থা করতে হবে।

এনআইডির ডিজি বলেন, আমরা যেহেতু আগামী ভোট (জাতীয় নির্বাচন) আরো সুন্দর করতে চাই, এ কারণে আমরা ফিঙ্গার প্রিন্ট কিন্তু আপডেট করব। যারা স্মার্টকার্ড নিয়েছেন, তারা ১০ আঙুলের ছাপ দিয়েছেন। যারা ১০ আঙুলের ছাপ দেয়নি, আগামী জানুয়ারি থেকে আমরা ১০ আঙুলের ছাপ নেওয়ার চেষ্টা করছি। আমরা কমিশনের সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনা করছি। এ সময় তিনি কর্মকর্তাদের ভোটার তালিকা হালনাগাদের ক্ষেত্রে বেশ কিছু দিক-নির্দেশনা দেন।

এ কে এম হুমায়ুন কবীর বলেন, যারা নতুন ভোটার-এসএসসি, পিএসসি, জেএসসি প্রয়োজনে জন্ম নিবন্ধন দেখে নিচ্ছি, যাতে ভুল না হয়। একটি বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলব, যারা বয়স্কদের যেন সচেতনভাবে যাচাইবাছাই করে ভোটার করা হয়। ঢাকায় নানা ধরনের মানুষ বসবাস করে। পরিপূর্ণ তথ্য না দিলে ভোটার করবেন না।

সভায় ঢাকার আঞ্চলিক পর্যায়ের এনআইডি সংশোধন, স্থানান্তর ইত্যাদি সংক্রান্ত আবেদনের তথ্য তুলে ধরা হয়। এ পর্যন্ত মোট আবেদন পড়েছে ৩৯ হাজার ৩৫৩টি। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ২০ হাজার ৯৪৫টি। আর অনিষ্পন্ন অবস্থায় রয়েছে ১৮ হাজার ৪০৮টি আবেদন। সবচেয়ে বেশি আবেদন অনিষ্পন্ন অবস্থায় রয়েছে ঢাকা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার  কার্যালয়ে ৭ হাজার ৬৪৮টি।

দেশে বর্তমানে ভোটার সংখ্যা ১১ কোটি ৩২ লাখ। এদের মধ্যে স্মার্টকার্ড পেয়েছেন ৬ কোটির মতো নাগরিক। প্রায় সাড়ে ৫ কোটি নাগরিককে দিতে হবে ১০ আঙুলের ছাপ।

ইত্তেফাক/ইআ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন