বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

খুনি আজও অধরা, পলাতক ২৭ বছর

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০১:৫১

রংপুরের মিঠাপুকুরে দেড় শতক জমি নিয়ে বিরোধ। এই বিরোধকে কেন্দ্র করেই হত্যা করা হয় স্কুলশিক্ষার্থী আম্বিয়া খাতুনকে। এ ঘটনায় করা হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শফি উদ্দিন পলাতক রয়েছেন ২৭ বছর ধরে। আজ পর্যন্ত তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

ইতিমধ্যে বিচারের দুটি ধাপ পেরিয়েছে। বিচারের দ্বিতীয় ধাপেও এই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে দেশের উচ্চ আদালত। গতকাল সোমবার ডেথ রেফারেন্স গ্রহণ করে নিম্ন আদালতের ফাঁসির রায় বহাল রাখে বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. বশির উল্লাহর দ্বৈত হাইকোর্ট বেঞ্চ।

ছবি- সংগৃহীত

রংপুরের মিঠাপুকুরের খামার কুর্ষা এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে স্কুলশিক্ষার্থী আম্বিয়া খাতুন হত্যার ঘটনা ঘটে। ঐ ঘটনায় বাদী সোলায়মানের করা মামলার এজাহারে বলা হয়, কুর্ষা মৌজার ১ দশমিক ৬৪ শতক জমি আমরা নাবালক অবস্থায় আমার জেঠা সফর উদ্দীন যথাক্রমে মহিম উদ্দিন, তছবীর উদ্দিন, এজাব উদ্দিন ও আব্দুল গফুরের কাছে বিক্রি করে। ১৯৮৭ সাল থেকে আমি আমার ভাইদের নিয়ে উক্ত রেকর্ড করা জমি উল্লিখিত লোকদের কাছ থেকে পেতে গ্রামে সালিশ ডাকি। মহিম উদ্দিন বলে, তোমরা জমি পাবে না। যদি জমি নিতে চাও তবে আইন আদালত করে আস। এছাড়া আরও বলে তোমরা জমি দখল করতে আসলে খুন করে ফেলব। পরে বাড়ির পশ্চিম-উত্তর কোণের জমিতে হাল চাষ করতে গেলে বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। এ ঘটনার পর গ্রাম্য সালিশে আমাদেরকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। পরে জেঠাতো ভাগিনা শফি উদ্দিন নানাভাবে আমাদের খুন করার হুমকি দিত। পরে মাঠ জরিপে ঐ সম্পত্তি আসামিরা নিজেদের নামে রেকর্ড করে নেয়।

আমি এতে আপত্তি জানালে ১৯৯৫ সালের ১২ জুলাই সন্ধ্যা ৭টার দিকে আমাদের বাড়িতে এসে আমাকে খুন করার জন্য খোঁজ করতে থাকে। আমি বাড়িতে না থাকায় প্রাণে বেঁচে যাই। তখন আসামিরা আমার স্ত্রী আছেমা খাতুন ও ভাতিজি আম্বিয়া খাতুনকে ছোরা দিয়ে কোপ মারে। এতে ঘটনাস্থলেই আম্বিয়া মারা যায়। এ ঘটনায় পরদিন মিঠাপুকুর থানায় মামলা করেন বাদী। সেই মামলায় ২০১৭ সালের ৯ মার্চ পলাতক আসামি শফি উদ্দিনকে মৃত্যুদণ্ড দেন রংপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২-এর বিচারক আবু জাফর মোহাম্মদ কামরুজ্জামান।

ছবি- সংগৃহীত

রায়ে বলা হয়, প্রসিকিউশনের সাক্ষীদের সাক্ষ্য, জুডিশিয়াল কনফেশন-এর গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী কর্তৃক লাশ উদ্ধার, ফরেনসিক সাক্ষী ও তদন্তকারী কর্মকর্তার সাক্ষী, আসামি পলাতক থাকার সব সাক্ষ্যপ্রমাণ একত্রে পাশাপাশি রেখে বিচার বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় যে, আসামি শফি উদ্দিন দণ্ডবিধির ৩০২/৩২৬ ধারার অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণে আসামিকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান যুক্তিযুক্ত। এছাড়া আসামি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হলো। আসামির আত্মসমর্পণ বা পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে সাজা কার্যকর হবে। কিন্তু আজও আসামিকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

গতকাল হাইকোর্টে এই মামলার ডেথ রেফারেন্স নিষ্পত্তি হয়েছে। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) সামিরা তারান্নুম রাবেয়া মিতি ও পলাতক আসামির পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত কৌঁসুলি নারগিস আক্তার শুনানি করেন। ডিএজি বলেন, এই মামলায় তিন জন চাক্ষুষ সাক্ষী রয়েছেন। এছাড়া পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য পর্যালোচনা করে হাইকোর্ট ফাঁসি বহাল রাখার সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি হত্যা মামলার দণ্ডিত আসামি ২৭ বছর ধরে পলাতক রয়েছেন। তাকে আজও গ্রেফতার করা যায়নি। এর চেয়ে দুঃখজনক ঘটনা আর হতে পারে না।   

ইত্তেফাক/এমএএম