শেখ হাসিনার কূটনৈতিক নেতৃত্বে সুসংহত অবস্থানে বাংলাদেশ

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০১:৪২

১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে জয়লাভের পর বাংলাদেশের শাসনভার নিজের কাঁধে নিয়ে যে শান্তি ও প্রগতির রাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তার সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনাও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে একই নীতি অনুসরণ করে এগিয়ে চলেছেন সামনে। ‘সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়’ বিশ্বশান্তির পক্ষে বঙ্গবন্ধুর এই অমোঘ নীতিই এখনো বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূলমন্ত্র। এই মূলমন্ত্রের ওপর ভর করেই সব বাধার পাহাড় ডিঙিয়ে দেশকে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন এদেশের সর্বকালের সফল প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা। তার শাসনামলের প্রতিটি পদে পদে রচিত হচ্ছে সফলতার ইতিহাস।

বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রশ্নটিকে গুরুত্ব দিয়ে অনুসরণ করছে দেশের পররাষ্ট্রনীতি। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি অর্জনের জন্য সুনির্দিষ্ট ভিশন নির্ধারণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার লক্ষ্যে রূপকল্প ২০২১ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বিশ্বের কাতারে উন্নীত করার লক্ষ্যে রূপকল্প ২০৪১ ঘোষণা করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। এর আলোকে কার্যকর ও যুগোপযোগী সহায়ক নীতি গ্রহণ ও কার্যক্রম পরিচালনা করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সরকারের নীতি ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপসমূহ বিদেশি কূটনৈতিক মিশনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরাম, সভা ও সেমিনারে তুলে ধরছে। বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি অর্জন করেছে আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাফল্য। বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মন্দা থাকা সত্ত্বেও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদারের কারণে বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। বর্তমান সরকারের দক্ষ নেতৃত্বে বিগত কয়েক বছরে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ১১ বিলিয়ন ডলার থেকে ৫২ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্রমবর্ধমান বিনিয়োগ, রপ্তানি ও বিদেশে কর্মসংস্থানের ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০০৫ সালে ছিল ৩ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার, এখন তা ৪০ বিলিয়ন হয়েছে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের অবিসংবাদী ভাষণ ‘বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ দলিল’ হিসেবে ইউনেসকোর ইন্টারন্যাশনাল মেমরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর জাতিসংঘের ইউনেসকো সদর দপ্তরে মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভার ঘোষণার মাধ্যমে এটি বাস্তবায়িত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অব্যাহত ও ঐকান্তিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে অর্জিত হয় এ স্বীকৃতি।

শেখ হাসিনা সরকারের সফল কূটনৈতিক তত্পরতায় ভারতের সঙ্গে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত স্থলসীমানা ও সমুদ্রসীমা শান্তিপূর্ণভাবে নির্ধারিত হয়েছে। ২০১১ সালে বাংলাদেশ ও ভারত স্থলসীমানা চুক্তি ১৯৭৪-এর প্রটোকল স্বাক্ষর এবং ২০১৫ সালে স্থলসীমানা চুক্তির অনুসমর্থন আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সুদীর্ঘ প্রচেষ্টারই সুফল। ইন্সট্রুমেন্ট অব রেটিফিকেশন এবং লেটার অব মোডালিটিস স্বাক্ষরের মাধ্যমে তৎকালীন ১১১টি ভারতের ছিটমহল বাংলাদেশের এবং আমাদের ৫১টি ছিটমহল ভারতের অংশ হয়ে যায়। ছিটমহল বিনিময়ের মাধ্যমে এর আগে নাগরিকত্বহীন ৫০ হাজারের বেশি মানুষ তাদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নাগরিকত্ব লাভ করে।

ডাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের নির্বাহী চেয়ারম্যান প্রফেসর ক্লাউস শোয়াবের বিশেষ আমন্ত্রণে ২০১৭ সালের ১৭-২০ জানুয়ারি সুইজারল্যান্ডের ডাভোস শহরে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ৪৭তম বার্ষিক সভায় অংশ নেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। ইতিহাসে এটিই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের কোনো নির্বাচিত সরকারপ্রধান এ সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রিত হন, যা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গৌরব ও মর্যাদার বিষয়। ডাভোস আলোচনায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা, কর্মক্ষেত্রে সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং শিল্পকারখানাগুলোতে যথাযথ পরিবেশগত মান বজায় রাখার ক্ষেত্রে তার সরকারের আন্তরিকতা ও গৃহীত পদক্ষেপসমূহের ওপর আলোকপাত করেন। ‘রূপকল্প ২০২১’ এবং ‘রূপকল্প ২০৪১’ সামনে রেখে সরকারের ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ কর্মসূচির কথাও বিশ্বনেতৃবৃন্দের সামনে তুলে ধরেন তিনি। বার্ষিক এ সভা চলাকালে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের দি ইনক্লুসিভ গ্রোথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট রিপোর্ট ২০১৭-এ বলা হয়, উন্নয়নশীল ৭৯টি দেশের মধ্যে সুষম উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান ৩৬। এক্ষেত্রে প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে অনেক এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ।

শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্ব ও সফল কূটনৈতিক তৎপরতার ফলে আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ের মাধ্যমে ২০১২ সালে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার এবং ২০১৪ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সমুদ্রসীমা নির্ধারণ সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তি হয়। ঐতিহাসিক এই নিষ্পত্তিতে বঙ্গোপসাগরে ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার সমুদ্র-এলাকার ওপর বাংলাদেশের সার্বভৌম অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। বিরোধ নিরসনে বিরল এ পদক্ষেপ গ্রহণ এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানে উপনীত হওয়ার এ নীতি আন্তর্জাতিক আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রশংসিত করেছে। এ রায়ের মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরে প্রাণিজ ও অপ্রাণিজ সম্পদের ওপর বাংলাদেশের সার্বভৌম অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের জলসীমায় সম্ভাবনাময় সব সম্পদ আহরণের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ২০১৮ সালে ভারত ও চীনের সঙ্গে ‘ব্লু ইকোনমি’ এবং ‘মেরিটাইম খাতের মান উন্নয়নে সহযোগিতা’ বিষয়ে দুটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

শেখ হাসিনা সরকারের দূরদর্শী কূটনৈতিক তৎপরতায় ইউরোপ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গতি সঞ্চার হয়েছে। ২০১৪ সালের জুলাই মাসে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে যুক্তরাজ্য সফর করেন। সেখানে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রতি পূর্ণ আস্থা ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও নারীর ক্ষমতায়নে অর্জিত সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন। বর্তমান সরকার এশীয়, বিশেষত দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় অঞ্চলে কূটনৈতিক সম্পর্ক বৃদ্ধির লক্ষ্যে সার্ক, বিমসটেক, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে কার্যকর সংযোজক বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডর (বিসিআইএম-ইসি), বাংলাদেশ-ভুটান-ভারত-নেপাল (বিবিআইএন) প্রভৃতি আঞ্চলিক/উপ-আঞ্চলিক জোট/ফোরামকে গুরুত্ব দিচ্ছে। বিমসটেক সচিবালয় বাংলাদেশে কোনো আঞ্চলিক সংস্থার প্রথম সদর দপ্তর। ঢাকায় বিমসটেক সচিবালয়ের সফল প্রতিষ্ঠা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন বিষয়ে তার দূরদর্শী নেতৃত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতিও পেয়েছেন ব্যাপকভাবে। ভূষিত হয়েছেন অজস্র আন্তর্জাতিক পুরস্কার ও সম্মাননায়। আন্তর্জাতিক খ্যাতিমান ফোর্বস ম্যাগাজিন ২০১৮ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বিশ্বের ৩০তম ক্ষমতাশালী নারী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ২০১৪ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা সম্পর্কিত ‘ভিশনারি অ্যাওয়ার্ড’ এবং ইউনেসকোর ‘শান্তি বৃক্ষ’ পুরস্কার লাভ করেন। ২০১৫ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণে বাংলাদেশকে মর্যাদাপূর্ণ ‘উইমেন ইন পার্লামেন্ট (ডব্লিউআইপি) গ্লোবাল ফোরাম অ্যাওয়ার্ড ২০১৫’ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। ২০১৬ সালে ইউএন-উইমেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ‘প্ল্যানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। জাতিসংঘের একই অধিবেশনে নারী সমাজকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করে বিচক্ষণ নেতৃত্বদানের স্বীকৃতিস্বরূপ গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফোরাম মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ‘এজেন্ট অব চেঞ্জ’ শীর্ষক সম্মানজনক পুরস্কারে ভূষিত করে। জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা এবং ইউএন পিস বিল্ডিং কমিশনে বাংলাদেশের ভূমিকা বিশ্বে বিপুলভাবে প্রশংসিত। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে ধারাবাহিকভাবে সর্বাধিক সৈন্য প্রেরণকারী দেশ হিসেবে নিজের শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে তারা। এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশ শান্তিরক্ষা মিশনে শুধু মহিলা পুলিশ সদস্য নিয়ে গঠিত একটি সম্পূর্ণ কন্টিনজেন্ট প্রেরণ করেছে। এর মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নারী ক্ষমতায়ন ও নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে দেশটি।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১১ সালে জাতিসংঘ মহাসচিবের স্কেলিং আপ নিউট্রিশন (এসইউএন) মুভমেন্টের শীর্ষ সাত নেতৃত্বের অন্তর্ভুক্ত হন। ২০১২ সালে জাতিসংঘ মহাসচিবের শীর্ষনেতাদের লিড গ্রুপে অন্তর্ভুক্ত হন শেখ হাসিনা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ২০১৩ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর সাউথ-সাউথ কোঅপারেশনের পুরস্কার গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন এবং দারিদ্র্য বিমোচনে বর্তমান সরকারের অসামান্য সাফল্যের জন্য অ্যাচিভমেন্ট ইন ফাইটিং পোভার্টি অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হন। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের কারণে ২০১৩ সালে বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার এফএও ডিপ্লোমা অ্যাওয়ার্ড, ইন্দিরা গান্ধী শান্তি পদক এবং ব্রিটিশ পার্লামেন্টের গ্লোবাল ডাইভার্সিটি অ্যাওয়ার্ড ২০১১ লাভ করেন। এগুলো ছাড়াও আরো অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা তিনি লাভ করেছেন। ট্রি অব পিস অ্যাওয়ার্ড, কালচারাল ডাইভারসিটি মেডাল ২০১২, গ্লোবাল উইমেনস লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড ২০১৮, অ্যাওয়ার্ড ফর হিউম্যানিটারিয়ান লিডারশিপ ফ্রম গ্লোবাল হোপ কোয়ালিশন ২০১৮ এবং অনন্য নেতৃত্বের জন্য ২০১৮ সালে ইন্টার প্রেস সার্ভিস থেকে পাওয়া আইপিএস ইন্টারন্যাশনাল অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের মর্যাদা বাড়িয়েছে বহুগুণ।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এদেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার শেষ ভরসাস্থল। এদেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির রূপকার তিনি। তার যোগ্য নেতৃত্বে বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আজ ধ্রুব তারার মতোই উজ্জ্বল। তার নেতৃত্বেই একদিন উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছে যাবে আমাদের এই প্রিয় দেশটি। ২৮ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর ৭৬তম জন্মদিন। জন্মদিনে অশেষ শ্রদ্ধা জানাই তাকে।

লেখক : পররাষ্ট্রমন্ত্রী, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

ইত্তেফাক/ইআ