বাংলাদেশ বর্তমান বিশ্বে উল্লেখযোগ্য অবস্থানের দিকে এগিয়ে চলেছে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশ এখন উদাহরণ নির্দেশনায় স্বীকৃত। উন্নত বিশ্ব এবং তার নেতৃবৃন্দ থেকে শুরু করে উন্নয়নশীল বিশ্বে বাংলাদেশ এবং দেশের উন্নয়ন অগ্রগতির নেতৃত্বকে সৃজনশীল দিক নির্দেশক, উদ্বদ্ধুকরণকারী, সত্ নেতৃত্ব, সর্বোপরি সাহসী নেতৃত্ব হিসাবে স্বীকৃতি দিচ্ছে। বর্তমান বাংলাদেশের প্রতিটি খাতভিত্তিক দৃশ্যমান অগ্রগতির তথ্য যথাযথ নেতৃত্বকে নির্দেশ করে। একথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, একটি দেশের অগ্রগতি তথা উন্নয়নের প্রামাণ্যে খাতভিত্তিক অগ্রগতির তথ্য সহায়ক প্রমাণ হিসাবে গৃহীত হয়। আর সেই আলোকে বাংলাদেশের বর্তমান বিভিন্ন খাতভিত্তিক অগ্রগতির তথ্যে দেখা যায়, জাতীয় প্রবৃদ্ধি, মাথাপিছু গড় আয়, জনগণের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধিসহ কৃষি খাত, শিল্প খাত, বিভিন্ন উত্পাদন খাত, বিদ্যুত্ খাত, শিক্ষা খাত, স্বাস্থ্য খাত, আবাসন খাত, সেবা খাত, সামাজিক নিরাপত্তা খাত, দুর্যোগ প্রতিরোধ খাত, গড় আয়ু বৃদ্ধি, অবকাঠামোগত খাত, যোগাযোগ খাত, তথ্য প্রযুক্তি খাত, রপ্তানি খাত, রিজার্ভ বৃদ্ধিসহ সব অর্থনৈতিক সূচকে বাংলাদেশের অভাবনীয় অগ্রগতি নির্দেশ করে যোগ্য নেতৃত্বকে।
শত সংগ্রাম আর ত্যাগ-তিতিক্ষার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে হচ্ছে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে। অসংখ্যবার মৃত্যুঝুঁকি সামলিয়ে অকুতোভয় দৃঢ়চিত্তে এগিয়ে চলেছেন সাহসী নেতৃত্ব দিয়ে শেখ হাসিনা। যার বুদ্ধিদীপ্ত চিন্তা চেতনা বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পরিচিত করে তুলেছে ইমার্জিং টাইগার হিসাবে। ফলে স্বীকৃতি লাভ করেছেন, পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন দেশ ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। শেখ হাসিনা অর্জন করেছেন অগণিত আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। প্রাসঙ্গিকভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, অর্থনৈতিক-সামাজিক কার্যক্রম, শান্তি এবং স্থিতিশীলতা আনয়নে শেখ হাসিনার অবদানের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সংগঠন, সংস্থা নানা পুরস্কারে ভূষিত করেছেন। যেমন : পার্বত্য চট্টগ্রামের সংঘাত অবসানের জন্য অসামান্য অবদানে শেখ হাসিনাকে ১৯৯৮ সালে ইউনেসকো স্থপে-বোয়ানি (Houphouet-Boigny) শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করে। এছাড়াও মানবাধিকার, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার দূরদর্শিতা সাহসিকতা এবং দৃঢ়চিত্তের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের র্যানডলপ ম্যাকন উইমেন্স কলেজ Randolph-Macon Women’s College ২০০০ সালে তাকে Pearl S. Buck-99 পুরস্কার দেয়। এছাড়া জাতিসংঘের বিশ্বখাদ্য কর্মসূচি ক্ষুধার বিরুদ্ধে আন্দোলনের অবদানের জন্য শেখ হাসিনাকে সেরেস (CERES) মেডেল দেওয়া হয়। আরো উল্লেখ্য যে, ১৯৯৮ সালে শেখ হাসিনাকে ‘মাদার তেরেসা’ পদক প্রদান করে সর্বভারতীয় শান্তি সংঘ থেকে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধাপে ধাপে আন্তর্জাতিক নেতা হিসাবে স্বীকৃতি পেতে থাকেন তার নেতৃত্বের গুণাবলী দিয়ে।
আন্তর্জাতিক এবং জাতীয় পর্যায়ে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ শেখ হাসিনা ভূষিত হয়েছেন অসংখ্য পুরস্কারে। যেমন : বাংলাদেশের করোনা টিকাদানসহ অন্যান্য টিকাদান কর্মসূচির সাফল্যের জন্য গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিন অ্যান্ড ইউমিনাইজেশন—শেখ হাসিনাকে ‘ভ্যাকসিন হিরো’ সম্মাননায় ভূষিত করে। আবার তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক তহবিল ইউনিসেফ শেখ হাসিনাকে ‘চ্যাম্পিয়ন অব স্কিল ডেভেলপমেন্ট ফর ইয়ুথ’ সম্মাননা প্রদান করে। বাংলাদেশের কৃষি খাতের সার্বিক উন্নয়নে প্রতিনিয়ত সহযোগিতা, খাদ্যোত্পাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি উন্নয়নে অবদানের জন্য ২০১৫ সালে আমেরিকার কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় শেখ হাসিনাকে সম্মাননা সনদ প্রদান করে। আবার ২০১৫ সালেই জাতিসংঘ পরিবেশ উন্নয়ন কর্মসূচি শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে পরিবেশ এবং টেকসই উন্নয়নে অবদান রাখার জন্য লিডারশিপ ক্যাটাগরিতে ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ ২০১৫’ পুরস্কার প্রদান করে। এটি তাদের সর্বোচ্চ পুরস্কার। পাশাপাশি টেকসই ডিজিটাল কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য ‘International Telecommunication Union (ITU)’ শেখ হাসিনাকে ICTs in Sustainable Development Award-2015 প্রদান করে। পিপলস অ্যান্ড পলিটিকস বিশ্বের পাঁচ জন সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচিত করেছেন যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ নেই, বিদেশে কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেই, এমনকি নেই প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ। শেখ হাসিনা সেই সত্ নেতাদের একজন। এছাড়া মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়ে যে মানবতার দৃষ্টান্ত দেখিয়েছেন শেখ হাসিনা এজন্য তিনি ‘মাদার অব হিউমিনিটি’ সম্মান অর্জন করেছেন আন্তর্জাতিক মহলে। এই রোহিঙ্গা ইস্যুতে দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং রোহিঙ্গাদের আশ্রয়দানে দায়িত্বশীল নীতি গ্রহণ ও মানবিকতার জন্য বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় নিউজ এজেন্সি দি ইন্টার প্রেস সার্ভিস (IPS) এবং নোওয়ার্ক গ্লোবাল হোপ কোয়ালিশন শেখ হাসিনাকে ‘আইপিএস ইন্টারন্যাশনাল এচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করে। দেশের লিঙ্গসমতা এবং নারীর ক্ষমতায়নের জন্য অবদান রাখায় শেখ হাসিনাকে ২০১৬ সালে জাতিসংঘের UN-Women ‘Planet 50-50 Champion’ এবং ‘Global Partnership Forum থেকে ‘Agent of Change Award’ দেওয়া হয়। প্রাসঙ্গিকভাবে বিশেষ উল্লেখযোগ্য যে, রাজনীতিতে নারী পুরুষের বৈষম্য কমানোর ক্ষেত্রে দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালনে ২০১৮ সালে শেখ হাসিনাকে ‘Global Women’s Leadership Award’ দেওয়া হয় অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে The Global Summit of Women সম্মেলনে। পাশাপাশি নারী ও শিশুশিক্ষা উন্নয়নে বিশেষ অবদানের জন্য ‘Peace Tree Award’, জাতিসংঘের মিলিনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল অ্যাওয়ার্ড, কালচারাল ডাইভারসিটি অ্যাওয়ার্ড, গ্লোবাল ডাইভারসিটি অ্যাওয়ার্ড, ইন্দিরা গান্ধী শান্তি পদক, ডক্টরস অব হিউম্যান লেটার্স, ‘নেতাজি মেমোরিয়াল’ পদকসহ অসংখ্য আন্তর্জাতিক সম্মাননা পেয়েছেন শেখ হাসিনা। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়, জাপানের ওয়াসেদা বিশ্ববিদ্যালয়, ভারতের বিশ্বভারতি ও ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়, অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, রাশিয়ার স্টেট ইউনিভার্সিটি অব পিটার্সবাগসহ আরো অনেক বিশ্ববিদ্যালয় শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি দিয়েছেন। সুতরাং একথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, শেখ হাসিনার রাষ্ট্রপরিচালনায় দক্ষতা এবং তার নেতৃত্ব তাকে অবিসংবাদিত জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক নেতায় পরিণত করেছে। বর্তমানে একথা বলতে অত্যুক্তি হবে না যে, শেখ হাসিনা এখন দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব এবং আন্তর্জাতিক নেতা হিসাবে স্বীকৃত।
অতএব সংগত কারণেই শেখ হাসিনার সাহসী, দৃঢ়চেতা, দূরদর্শিতা, সততা, অসাম্প্রদায়িক চেতনামনস্ক, সুদূরপ্রসারি পরিকল্পনাকারী, রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, পরিবেশ, জলবায়ুর নেতিবাচক প্রভাব নিয়ন্ত্রণকারীসহ সকল ক্ষেত্রে যোগ্য নেতৃত্ব হিসাবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। যা তরুণ প্রজন্মের জন্য উন্নয়ন নেতৃত্বের রোল মডেল হিসেবে দিক নির্দেশ করে।
লেখক : উপাচার্য, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়
