রোববার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

এবার দুই কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগ এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৩:৪০

টাঙ্গাইলের ভুঞাপুরে নামজারিসংক্রান্ত অনিয়মের কারণে দুই কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে। সোমবার দুপুরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে তাদের মারধর করা হয়েছে বলে গণমাধ্যমকর্মীদের জানিয়েছেন সার্টিফিকেট পেশকার মমিনুল ইসলাম। এ ঘটনায় মমিনুল ইসলামকে টাঙ্গাইল ডিসি অফিসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলায় ৪৭ জনের নামজারির বিষয়ে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে অফিসের সার্টিফিকেট পেশকার মমিনুল ইসলাম ও ডাটা এন্ট্রি অপারেটর খায়রুলের বিরুদ্ধে। তবে খায়রুল অফিসের কোনো নিয়োগকৃত কর্মচারী নন। তাদের বিরুদ্ধে টাকা নিয়ে অনিয়মের মাধ্যমে নামজারি করার অভিযোগ পাওয়ায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বরাবর লিখিত পাঠান। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আদেশে সার্টিফিকেট পেশকার মমিনুলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন এসিল্যান্ড। এদিকে এই ঘটনায় সোমবার দুপুরে অফিসে দুই কর্মচারীকে ডেকে বকাঝকা করেন এসিল্যান্ড অমিত দত্ত।

উপজেলা ভূমি অফিসের সার্টিফিকেট পেশকার মমিনুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, এসিল্যান্ডের কক্ষে প্রবেশ করা মাত্রই আমাকে লক্ষ্য করে জুতা নিক্ষেপ করেন। তবে সেটি আমার শরীরে লাগেনি। আমাকে মারধর করার আগে ডাটা এন্ট্রি অপারেটর খায়রুলকেও মারধর করেন তিনি।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অমিত দত্ত জানান, খায়রুল নামের ছেলেটি ভূমি অফিসের কোনো স্টাফ না। আমি স্টেশনে যোগদান করার আগ থেকে সে অফিসে ডাটা এন্ট্রির কাজ করছে। এতে খায়রুল ও সার্টিফিকেট পেশকার মমিনুল অনিয়ম করে নামজারি করতো। বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষ বরাবর তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চিঠি প্রেরণ করি। এছাড়া তাদের অনিয়মের বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। যখন তারা বুঝেছে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে তখন তারা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলেছে। এ ধরনের কোনো ঘটনাই সেদিন ঘটেনি। তবে অফিসিয়াল কারণে তাদেরকে বকাঝকা করা হয়েছে।

ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. ইশরাত জাহান বলেন, মমিনুল ও খায়রুল মিলে ৪৭ জনের নামজারিতে অনিয়ম করেছে। অনিয়মের বিষয়টি এসিল্যান্ড ধরে ফেলায় এমন মিথ্যা তথ্য দিচ্ছে তারা। এছাড়া মমিনুলকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসা করলে তাকে মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করেন। কর্মচারীদের মারধরের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।

 

ইত্তেফাক/ইআ