শনিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২২, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

অবেশেষে দখল মুক্ত কক্সবাজারে গণপূর্তের মাঠ

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৩:৫৩

পূর্ব পুরুষরা টাকা নিয়ে গেলেও ক্ষতিপূরণের টাকা না পাওয়ার দাবী তুলে একের পর মিথ্যা মামলায় উচ্চ আদালতের স্থিতাবস্থার অর্ডার নিয়ে বছরের পর বছর কক্সবাজারের কলাতলীর হোটেল লং বীচের বিপরীত পাশে গণপূর্তের মাঠটি দখল করে রেখেছিলেন বাহারছড়ার অছিউর রহমানের ছেলে গিয়াস উদ্দিন চক্র। সেখানে অবৈধভাবে দেড়শতাধিক দোকান নির্মাণ করে ভাড়াও দিয়েছিল চক্রটি। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আদালতে মামলা লড়েছে কক্সবাজার গণপূর্ত বিভাগ।

অবশেষে মামলার রায় নিজেদের পক্ষে এলে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়ে মঙ্গলবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত যৌথ অভিযান চালিয়ে দেড় শতাধিক দোকানঘর গুড়িয়ে দিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। এবার দখলমুক্ত হওয়া মাঠে পার্ক নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন তরান্বিত হবে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহজাহান। 
 
কউক ও গণপূর্ত সূত্র জানায়, কলাতলী সড়কে আবাসিক ভবন নির্মাণের জন্য প্লট বরাদ্দের পর ওই এলাকায় ৩টি স্থানে ১ দশমিক ৫০ একর করে জমি খেলার মাঠ হিসাবে রাখা হয়। ২০১৭ সালে তিনটি মাঠেই পার্ক তৈরি করতে বরাদ্দ দেয় সরকার। এরমধ্যে দুটি মাঠে পার্ক নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু লংবীচের বিপরীত পাশের জমিটি গিয়াসের নেতৃত্বে প্রভাবশালীদের দখলে থাকায় সেটিতে এতদিন পার্ক নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। 

এবিষয়ে গণপূর্তের কক্সবাজারস্থ নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহাজাহান বলেন, ১৯৬৩-৬৪ সালে অধিগ্রহণ করা জমি ব্যক্তি মালিকানা দাবি করে গিয়াস উদ্দিন আদালত থেকে স্থিতাবস্থা এনেছিল। কিন্তু তিনি সেখানে অবৈধভাবে দোকানপাট নির্মাণ করে এতদিন জোর দখল করে রাখে। মালিকানার পক্ষে নিম্ন বা উচ্চ আদালতের কোথাও যথাযথ কাগজপত্র উপস্থাপন করতে না পারায় উচ্চ আদালত জমিটি মালিকানা গণপূর্তের বলে রায় দেন। একইসাথে সেখানে থাকা অবৈধস্থাপনা উচ্ছেদে বাঁধা নেই বলেও অ্যাটার্নি জেনারেলকে লিখিতভাবে অবহিত করেছে আদালত। এই রায়ের পরেই মঙ্গলবার অভিযানটি চালানো হয়েছে।

প্রকল্প তদারক কর্মকর্তা কক্সবাজার গণপূর্ত বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আরিফুর রহমান ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. ওমর ফারুক বলেন, আদালতের আদেশ পেয়ে আমরা কউকের সহযোগীতা চাই। পরে কউক, বিদ্যুৎ অফিস, আনসার বাহিনী ও পুলিশের সহযোগীতা নিয়ে ওই মাঠের চারপাশে নির্মিতি দেড় শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করি।

তারা আরও বলেন, ওই মাঠে এখন পার্ক নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। ওখানে পর্যটকসহ পথচারীদের বসার ব্যবস্থা থাকবে। 

কউক চেয়ারম্যান কমোডর মোহাম্মদ নুরুল আবছার বলেন, কলাতলী সড়কের পূর্ব পাশের আবাসিক এলাকার ব্লক-এ ও বি এর মধ্যকার মাঠটির মালিক গণপূর্ত। তাদের নামে বিএস খতিয়ান ও গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু সেই মাঠটি দীর্ঘদিন ধরে দখলে ছিল প্রভাবশালীদের। ২০১৮ সালে গণপূর্ত সেই মাঠে পার্ক নির্মাণ করতে গেলে গিয়াসউদ্দিন ক্ষতিপূরণের টাকা পায়নি দাবী করে কক্সবাজার যুগ্ম জেলা জজ আদালতে একটি মিথ্যা আবেদন করেন। পরে ২০১৯ সালের ৩১ মার্চ সেই আবেদন খারিজ করে দেন আদালত। কিন্তু সেই আবেদনের তথ্য লুকিয়ে ফের উচ্চ আদালত থেকে ৬ মাসের স্থিতাবস্থা আনেন গিয়াস উদ্দিন। সেটিও ২০২২ সালের ২৩ আগস্ট উচ্চ আদালত একটি আদেশে তুলে নেন এবং একইসাথে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে চলমান মামলাটি বাতিল করেন। এছাড়া স্থিতাবস্থা তুলে নেওয়ায় অবৈধস্থাপনা উচ্ছেদে কোন ধরনের আইনি বাঁধা নেই বলেও আদালত লিখিতভাবে জানিয়েছেন। আদালতের এমন আদেশ পেয়েই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। 

কউক চেয়ারম্যান আরও বলেন, সবুজায়নের মাধ্যমে পরিকল্পিত সমুদ্র নগরী নির্মাণে কক্সবাজারের সকল ধরণের অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে কউকের উচ্ছেদ অভিযান চলমান থাকবে। 

ইত্তেফাক/এআই