বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

খসে পড়ছে ছাদের পলেস্তারা, আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা 

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:০১

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার ২১৭ নম্বর খাউলিয়া নিশানবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলছে পাঠদান। খেলার মাঠটি পরিণত হয়েছে ডোবায়। আর এ কারণে একদিকে শিখন কার্যক্রম এবং অপরদিকে মাঠ না থাকায় শিক্ষার্থীদের খেলাধুলাও বন্ধ রয়েছে।

সরজমিনে গিয়ে জানা গেছে, ২০০০ সালে ৫২ শতক জমির ওপর নির্মিত হয় বিদ্যালয়টি। শিক্ষার্থী রয়েছে ৮৫ জন। ৪ কক্ষবিশিষ্ট বিদ্যালয় ভবন। ২২ বছরের পুরনো এ ভবনটি এখন বয়সের ভারে ন্যুব্জ। প্রথম শ্রেণি ও পঞ্চম শ্রেণির কক্ষ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ছে। ভেঙে যাওয়া ছাদের রড দৃশ্যমান। প্রতিটি কক্ষ এখন ঝুঁকিপূর্ণ। ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করছে শিক্ষার্থীরা। 

গত সোম ও মঙ্গলবার বিদ্যালয় চলাকালীন ২টি ক্লাসের পলেস্তারা খসে পড়ে। বিদ্যালয়ের বাহিরের অবকাঠামোর পলেস্তারা খসে পড়াও দৃশ্যমান। বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীরা ক্লাস করতে বাধ্য হচ্ছে। অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন। অনেকে বিদ্যালয় আসা বন্ধ করে দিয়েছে। এ ছাড়াও, এ বিদ্যালয়ে আসতে নিশনবাড়িয়া খালের ওপর একটি ঝুঁকিপূর্ণ পুল রয়েছে। এ পুলটিও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে যাচ্ছে।

পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র রমজান ফরাজী, সিয়াম শিকারি, মনি আক্তার, জামিলা আক্তারসহ একাধিক শিক্ষার্থী বলে, ‘ক্লাস চলাকালীন সময় হঠাৎ ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ায় আমরা আতঙ্কে রয়েছি। আমাদের নতুন বিদ্যালয় করে দিন।’ 

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নির্মল চন্দ্র হালদার বলেন, ‘বিদ্যালয়ের দুটি কক্ষ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। ফলে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কমে যাচ্ছে। ক্লাস্টারের সহকারী শিক্ষা অফিসার মো. মনিরুজ্জামানের পরামর্শক্রমে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিতভাবে আবেদন করা হয়েছে।’ 

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দিন বলেন, ‘ওই বিদ্যালয়ের সমস্যা সম্পর্কে আমি জানি। খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। যাতে শিক্ষার্থীদের ক্লাস করতে কোনোরকম সমস্যা সৃষ্টি না হয়।’

উপজেলা প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘উপজেলার ৫২টি বিদ্যালয়ের সয়েল টেস্ট সম্পন্ন হয়েছে। যা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে।’

ইত্তেফাক/এইচএম