বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

আখের সঙ্গে সাথি ফসলে ভাগ্য বদল কৃষকের

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৫:১০

ঈশ্বরদীস্থ বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউটে কৃষকদের জীবনমান উন্নয়ন ও তাদেরকে সহায়তাকল্পে ‘আখের সাথে সাথি ফসল হিসাবে ডাল, মসলা ও সবজি জাতীয় ফসল উৎপাদন প্রকল্প’ নামে ৩ বছর মেয়াদি প্রকল্পটি ২০২১-২২ অর্থ বছর হতে শুরু হয়েছে। ১৫টি সুগার মিল এলাকায় এই প্রকল্প কাজ করছে।

প্রকল্প পরিচালক ড. মো. আবু তাহের সোহেলের কাছে প্রতি প্লটে কৃষককে কত টাকা দিতে হয় এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, কৃষককে কোনো টাকা দেওয়া হয় না। সার, কীটনাশক, বীজ, মসলাসহ চাষাবাদ সামগ্রী আলাদা আলাদা ভাবে ক্রয় করে কৃষককে সরবরাহ করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে কৃষক নিজেই শ্রমিকের কাজটা করতে চান। সেক্ষেত্রে কীটনাশক প্রয়োগ, সার প্রয়োগ, নালা তৈরি, ফসল সংগ্রহে শ্রমিকের মজুরি বাবদ যে অর্থ বরাদ্দ করা হয়, সেটি কৃষককে দিয়ে দেই। এখানে প্রকল্প পরিচালক কোনো খরচ করেন না। বিএসআরআই এর সব বিজ্ঞানীদের সমন্বয়ে কমিটি করা, তারাই খরচাদি করে থাকেন। উপকারভোগী কয়েকজন কৃষকের সাথে আলাপ করলে তারা এই প্রকল্পে যথেষ্ট উপকার হচ্ছে বলে জানিয়েছেন। 

নাটোরের কৃষক গোলাম রসুল বলেন, আমি ১ বিঘা (৩৩ শতাংশ) জমিতে আখের সঙ্গে সাথি ফসল রসুন চাষ করে ৩০ মণ রসুন পেয়েছি যার বাজার মূল্য প্রায় ৫০ হাজার টাকা। রসুন উত্তোলনের পর ২য় সাথি ফসল মুগডাল চাষ করে ৩ মণ মুগডাল পেয়েছি। এছাড়াও আমি ১ বিঘা জমি থেকে বিএসআরআই আখ ৪২ (রং বিলাশ) জাতের ৮০০০ টি  চিবিয়ে খাওয়া আখ  ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় পাইকারদের কাছে বিক্রি করেছি। যা দিয়ে ছেলে-মেয়েদের পড়াশুনা ও সাংসারিক ব্যয় মেটাচ্ছি। 

রাজশাহীর কৃষক আমিন উদ্দিন সরকার বলেন, প্রকল্প থেকে সাথি ফসল ও আখ চাষের যাবতীয় খরচ পেয়েছি। আমি ১ বিঘা (৩৩ শতাংশ) জমিতে আখের সঙ্গে সাথি ফসল পেঁয়াজ চাষ করে প্রায় ৫০ মণ পেঁয়াজ পেয়েছি যার বাজার মূল্য অর্ধ লক্ষ টাকার উপরে। এছাড়াও আখ বিক্রি করে ভালো লাভবান হবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এছাড়াও উপকারভোগী কৃষকরা বলেছেন, এমন প্রকল্প চলমান থাকলে অনেকেই আখ চাষে উদ্বুদ্ধ হবেন এবং আখের আবাদ উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে।

এ বিষয়ে বিএসআরআই এর মহাপরিচালক ড. মো. আমজাদ হোসেন বলেন, সাথি ফসল চাষ করিয়ে কৃষকদের আর্থিক ভাবে লাভবান করানোই হচ্ছে এই প্রকল্পের মুল লক্ষ্য। 

ইত্তেফাক/এআই