বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

‘বিএনপি লাঠি নেওয়ার আগেই আওয়ামী লীগের কোমর ভেঙে গেছে’

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ২২:১০

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিও করতে দেয়া হয় না। বিএনপি লাঠি নেয়ার আগেই আওয়ামী লীগের কোমর ভেঙে গেছে। বিএনপি হাটুভাঙা নয়, আন্দোলনে জনসম্পৃতক্তা দেখে আওয়ামী লীগেরই হাঁটু ভেঙে গেছে। আপনারা শুধু লাঠি নয়,আপনারা ইতিমধ্যে রামদা-তলোয়ার এবং পুলিশের বন্দুকের ওপরে তারা নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। আপনারা জনগণের সঙ্গে নাই,সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছেন। সেজন্য আজকে আপনাদেরকে সেই রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে ক্ষমতায় টিকতে হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের ওপর হামলার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার নয়াপল্টনে এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

ছাত্রদলের সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েলের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস,সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব সাবেক ছাত্রদল সভাপতি রুহুল কবির রিজভী,সাবেক ছাত্রদল নেতা আমান উল্লাহ আমান,শামসুজ্জামান দুদু,ফজলুল হক মিলন,নাজিম উদ্দিন আলম,খায়রুল কবির খোকন, শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, কামরুজ্জামান রতন, এবিএম মোশাররফ হোসেন, আজিজুল বারী হেলাল,আলহাজ সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু,আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, এসএম জিলানী, আবদুল মোনায়েম মুন্না, আমিনুল হক,রফিকুল আলম মজনু,ইশরাক হোসেন, ছাত্রদলের রাশেদ ইকবাল খান, রাকিবুল ইসলাম ও আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহিয়া প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। এই সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মীরা অংশ নেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের আহত নেতারাও মঞ্চে এসে নেতা-কর্মীদের সালাম দিয়ে চলে যান।

ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ বরাবরই একটা সন্ত্রাসী দল। তাদের জন্ম হয়েছে সন্ত্রাসের মধ্য দিয়ে। সেজন্য একদিকে তারা বলে যে, আমার সোনার ছেলেদের হাতে আমি কলম তুলে দিয়েছি। আর অন্যদিকে তারা সোনার ছেলেদের হাতে বন্দুক-পিস্তল-লাঠি-সোঠা সব কিছু দিয়ে দিয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন,তারা শুধু লাঠি দিয়ে নয়,রামদা, অস্ত্র আর পুলিশের বন্দুক নিয়ে আছে। শিক্ষাঙ্গনগুলো সন্ত্রাসীদের দখলে। এদের অত্যাচার নির্যাতনের জবাব একটাই তা হলো সরকারের পতন। আওয়ামী লীগের আমলে সুষ্ঠু নির্বাচন হয় এমন কথা হাস্যকর। রাষ্ট্রযন্ত্রের সহায়তা নিয়ে রাজনীতি ও সরকারে টিকে থাকা আওয়ামী লীগ নিজেদের পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছে। তিনি বলেন,আওয়ামী লীগ ইতিমধ্যে পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছে। কেনো? তারা শান্তিপূর্ণ সমাবেশে, শান্তিপূর্ণ মিছিলে, ছাত্রদলের একেবারে একটা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে তারা লাঠি, বন্দুক এবং টিয়ার গ্যাস নিয়ে আক্রমণ শুরু করেছে। আমাদের দায়িত্ব একটাই সমস্ত মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। দুর্বার গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে এই সরকারকে পদত্যাগের বাধ্য করতে হবে। ইনশাআল্লাহ জনগণের বিজয় হবেই।

পুলিশের গুলিতেই শাওনের মৃত্যু হয়েছে: রিজভী

সমাবেশে অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি আমার বিরুদ্ধে একটা প্রতিবাদলিপি দিয়েছে। আমি নাকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ও প্রক্টরকে চাকর-বাকর বলেছি। তো আমি আর কি বলতে পারি? চৌকিদার বলব নাকি হোটেলের ম্যানেজার বলবো? 

রিজভী বলেন, আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড বলে থাকি; এখানে স্যার এফ রহমান, বজলুল হালিম চৌধুরী, শামসুল হক, অধ্যাপক এমাজ উদ্দিন আহমেদরা ভাইস চ্যান্সেলর ছিলেন। উনারা শিক্ষক ছিলেন। কোন ছাত্র কোন দল করে, এটা তাদের বিবেচ্য ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয়ের যে অ্যাকাডেমিক টোন সেই টোনকে নষ্ট করেছে, ধ্বংস করেছে, ঢাবির ভিসি আখতারুজ্জামান। 

মুন্সিগঞ্জের পুলিশ সুপারকে আওয়ামী আদর্শ সন্তান মন্তব্য করে বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, আজ দেখেন মুন্সিগঞ্জের এসপিও অনর্গল মিথ্যা কথা বলে। পুলিশ গুলি করে হত্যা করেছে শাওনকে। তার ডেট সার্টিফিকেটে স্পষ্ট করে লেখা আছে ‘মেসিব হেড ইনজুরি ডিউ টু গান শট’। 

এসপি বললেন, ইটের আঘাতে মারা গেছে। কিসের জন্য নিজের অপরাধ ঢাকতে চান এসপি সাহেব? ঢেকে লাভ নাই। 

রিজভী বলেন, বিদায়ী আইজিপি বেনজির আহমদকে নিয়ে একটা সার্কুলার দেওয়া হয়েছে নিরাপত্তা দেওয়া হবে। এটা নজিরবিহিন। ইতিপূর্বে কোন আইজিপিকে অবসরের পর এমনভাবে সার্বক্ষনিক পুলিশ প্রহরা দেওয়া হয়নি। সরকারকে বলতে চাই সাবেক আইজিপিকে আপনি কেন নিরাপত্তা দিবেন? আপনি তাকে দিয়ে কি অন্যায় করিয়েছেন যে অবসরের পরও নিরাপত্তা দিতে হবে? এগুলোর অনেক অর্থ অনেক বিষয় জানা যাবে। কারণ অনেক গুম হওয়া পরিবারের কান্না, অনেক ক্রসফায়ারের কান্না এখানে নিহিত আছে।

ইত্তেফাক/এএএম