শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

ইউক্রেন যুদ্ধের শুরুতে পশ্চিমারা যা বলেছিল

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০২২, ০২:০১

চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক আগ্রাসন শুরু করে রাশিয়া। এর আগে থেকেই ইউক্রেন সীমান্তে সামরিক মহড়া শুরু করে রুশ বাহিনী। বাড়াতে থাকে সেনাসংখ্যাও। যুক্তরাষ্ট্র, ন্যাটো, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশ ও জোট ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসন নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করতে শুরু করে। এমনকি রাশিয়া আগ্রাসন চালালে নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ মস্কোর বিরুদ্ধে নানা পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন পশ্চিমা নেতারা। একই সঙ্গে ইউক্রেনকে আর্থিক ও সামরিক সহায়তা দিয়ে সর্বাত্মকভাবে পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন তারা।

রুশ আগ্রাসন শুরুর পর থেকেই ইউক্রেনের পাশে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা। তারা রাশিয়াকে বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করতে নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। নিষেধাজ্ঞা থেকে বাদ যাননি রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন, তার দুই মেয়ে এমনকি তার বান্ধবীও। পাশাপাশি তারা ইউক্রেনকে আর্থিক ও সামরিক সহায়তা অব্যাহত রেখেছে। তবে একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, তারা ইউক্রেনকে আর্থিক ও সামরিক সহায়তা দিলেও সরাসরি রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে যাওয়ার মতো কোনো পদক্ষেপ নেবে না। বাইডেন প্রশাসন স্পষ্ট করে জানায়, রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দিতে তাদের কোনো সেনা ইউক্রেনে পা রাখবে না। এমনকি এমন কোনো অস্ত্র দেবে না যা দিয়ে রাশিয়ায় হামলা চালাতে সক্ষম হয় ইউক্রেন। কারণ যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া যুদ্ধে জড়ালে তা সীমিত কোনো যুদ্ধ হবে না। তা হবে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ, এমনকি পরমাণু যুদ্ধ। এ যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি ও ভয়াবহতা হবে অকল্পনীয়।

ইউক্রেন যুদ্ধে এখন নতুন মোড় এসেছে। ইউক্রেনের চারটি অঞ্চলকে তড়িঘড়ি করে রাশিয়ার সঙ্গে সংযুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন। কিন্তু এর পরিপ্রেক্ষিতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে তা নিয়ে এখনো সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন পশ্চিমা মিত্ররা। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম পলিটিকোর এক খবরে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে মার্কিন সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল এবং সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম একটি আইনের প্রস্তাব করেছেন। এর আওতায় ইউক্রেনের অঞ্চলগুলোকে রাশিয়ার ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা বন্ধ করে দেবে। সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল বলেন, এটি জমি দখল। এটি ইউক্রেনের প্রতি পশ্চিমাদের সমর্থন পরীক্ষা করার জন্য পুতিনের নির্লজ্জ কৌশল।

গত বুধবার মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নেড প্রাইস সাংবাদিকদের বলেন, সামনের দিনগুলোতে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইউক্রেনকে সমর্থন করার পদ্ধতিতে কোনো পরিবর্তনের আদেশ দেবেন বলে মনে হচ্ছে না। আমরা দীর্ঘ পথ চলার জন্য প্রস্তুত রয়েছি। যদিও বাইডেনের মিত্রদের মধ্যে পুতিনের বর্তমান পদক্ষেপ নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে। সিনেটের পররাষ্ট্র সম্পর্ক বিষয়ক চেয়ারম্যান বব মেনেনডেজ বলেছেন, পুতিনের এই পদক্ষেপ ইউক্রেনীয়দের জন্য এগিয়ে যাওয়ার পথ খুঁজে পাওয়া আরো কঠিন করে তুলেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, পুতিন জানতেন এই গণভোট ও ভূমি সংযুক্তকরণে পশ্চিমাদের প্রতিক্রিয়ায় তেমন পরিবর্তন আসবে না। সাবেক ওবামা প্রশাসনের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের সদস্য জেফারি এডমন্ডস বলেন, ২০১৪ সালে রাশিয়া ইউক্রেনের ক্রিমিয়া দখল করে নিজের ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করে। কেউ এটিকে স্বীকৃতি দেয়নি, আবার কেউ কিছু করতেও যায়নি। 

ইত্তেফাক/ইআ