পেয়ারা চাষে হযরত আলীর ভাগ্য বদল

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২২, ১৩:৪৪

পরিশ্রমে ধন আনে পূর্ণ আসে সুখ। এই প্রবাদ বাক্য প্রতিটি সফলতাকে ইঙ্গিত করে। তাই যখনই কোনো সুখবর আমাদের সামনে হাজির হয় আমরা চনমনে হয়ে উঠি। আর সে গল্পটি যদি হয় কৃষকের তাহলে আমাদের গর্বের সীমা থাকে না। কারণ কৃষিবান্ধব এই দেশের মাটিতে যেখানেই একটি বীজ রোপণ করা হয় সেখানেই ফলে সোনা। হযরত আলী চাষিও আমাদের সোনালী গল্পের এক মহান কারিগর।  

কুষ্টিয়ার পাঁচবিঘায় পেয়ারার চাষ শুরু করেন আলী। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে জমির পরিমাণ। একজন আলীই এখন ৬০ বিঘা বাগানের মালিক। তার ভাগ্যের চাকা ঘুরে গেছে এই পেয়ারা চাষে। আলীর সফলতায় এলাকায় গড়ে উঠেছে আরও অনন্ত ২০/২৫টি পেয়ারা বাগান।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার মোকারিমপুর ইউনিয়নের ফকিরাবাদ গ্রামের মাঠজুড়ে সবুজের সমারোহ। ফুলে-ফলে সুশোভিত পেয়ারা বাগান। ২০১৪ সালে ২ লাখ টাকা বিনিয়োগে লীজের পাঁচ বিঘা জমিতে তিনি পেয়ারা চাষ শুরু করেন। ধারাবাহিক সাফল্যে ৭/৮ বছরের ব্যবধানে কৃষক হযরত আলী এখন ৬০ বিঘা বাগানের মালিক। প্রতি বিঘায় সাড়ে তিন’শটি গাছের গড় হিসাব ধরে ৬০ বিঘার বাগানে রয়েছে ২১ হাজার পেয়ারা গাছ। সার. বালাইনাশক প্রয়োগ, পরিচর্যা, পেয়ারা ব্যাগিং ও উত্তোলন-বিক্রি বাবদ বাগানে প্রতিদিন কাজ করেন ১৮/২০ জন শ্রমিক। প্রতিদিন এই বাগানে গড়ে ২০/২৫ মন পেয়ারা সাড়ে ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

প্রতিমাসে বাগানটিতে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকার পেয়ারা বিক্রি করা হয়। এতে সব খরচ মিটিয়ে বাগান মালিক মাসে আয় করেন ১ লাখ ৩০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা। তাছাড়া শুধু মাত্র ২০২১ সালে পেয়ারা বিক্রিতে বাগান মালিক আয় করেন ১৮ লাখ টাকা। এই বাগানে থাই-৩, থাই-৫, গোল্ডেন-৮ ও সুপার-১০ জাতের পেয়ারা চাষ হচ্ছে। বাগানে উৎপাদিত পেয়ারায় দেশী ফলের ব্যাপক চাহিদা মিটছে।

এছাড়া পেয়ারা বাগানে নিয়োজিত শ্রমিকদের দৈনন্দিন আয়ের উপর নির্ভরশীল অনন্ত ৩০/৪০টি পরিবার। পাইকার ফল ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন বাগান থেকে সরাসরি পেয়ারা সংগ্রহের পর জেলা ব্যাপী সরবরাহ করেন। কৃষি বিভাগের সার্বিক পরামর্শ ও সহায়তায় পেয়ারা বাগান মালিক হযরত আলী সফল ও স্বাবলম্বী। তার সাফল্যে উপজেলার অন্যান্য কৃষকদের মধ্যে পেয়ারা চাষে আগ্রহ বেড়েছে।

বাগান মালিক হযরত আলী জানান, ২০১৪ সালে তিনি পেয়ারা চাষ শুরু করেন।এরপর ধারাবাহিক সাফল্যে তাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। পেয়ারা চাষে অর্থনৈতিক অগ্রগতির পাশাপাশি তার সামাজিক মর্যাদাও বেড়েছে বলে তিনি জানান।

কুষ্টিয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. হায়াত মাহমুদ জানান, বাণিজ্যিক ভিত্তিতে জেলায় পেয়ারা চাষ বাড়ছে। বাগান মালিকদের সার্বিক সহায়তা ও পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এতে দেশের জনগোষ্ঠীর ভিটামিন, পুষ্টি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি পেয়ারা চাষিরা লাভবান হচ্ছেন।

ইত্তেফাক/পিও/এআই