বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

বিশ্ব বসতি দিবস আজ

নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের আবাসনে নজর নেই

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২২, ০৭:০৪

বিশ্ব বসতি দিবস আজ। ‘বৈষম্য হ্রাসের অঙ্গীকার করি/ সবার জন্য টেকসই নগর গড়ি’ প্রতিপাদ্যে সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও পালিত হবে বিশ্ব বসতি দিবস। দেশে বস্তির সংখ্যা বৃদ্ধি, জমি ও গৃহ নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি, বাড়ি ভাড়ার হার বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসম্মত নাগরিক সুবিধার অপর্যাপ্ততা এবং মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ক্রয় সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ায় আবাসন সমস্যা জটিল হয়ে উঠছে। সরকারি ও বেসরকারিভাবে বিভিন্নভাবে আবাসনের চাহিদা মেটাতে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করলেও সেখানে নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের প্রাধান্য দেওয়ার সংখ্যা কম। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের আবাসনের চাহিদা দিনদিন বাড়ছে। এসব ক্ষেত্রে সরকারিভাবে প্রণোদনা বাড়ানোর কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

আবাসন খাত সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকা শহরে বাসস্থান সরবরাহ হয়ে থাকে প্রধানত তিন ভাবে। নিজ উদ্যোগে ব্যক্তিগতভাবে, বেসরকারি ডেভেলপার দ্বারা এবং সরকারি উদ্যোগে। এ ক্ষেত্রে সরকারি উদ্যোগে আবাসন সরবরাহের পরিমাণ মাত্র ৭ শতাংশ। বাকি অংশ হয়ে থাকে বেসরকারি ডেভেলপার দ্বারা এবং অল্প ক্ষেত্রে ব্যক্তিগতভাবে। আবাসন সরবরাহে ডেভেলপারের ভূমিকা অগ্রগণ্য হলেও তাদের আবাসনগুলো নিম্ন ও মধ্যবিত্ত জনসাধারণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে থাকে।

সরকারের গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, রাজধানী ঢাকায় বসবাসকারী প্রায় ১ কোটি মানুষের নিজস্ব কোনো বাসস্থান নেই। এ বিপুলসংখ্যক মানুষকে ভাড়া বাসায়, সরকারি বাসায় বা বস্তিতে বসবাস করতে হয়। এর মধ্যে বস্তিবাসীরা থাকেন সরকারি জায়গার ওপর। এ ছাড়া নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের বেশির ভাগেরই নিজস্ব কোনো বাসস্থান নেই। বিভিন্ন দেশে স্বল্পসুদে সরকার আবাসনের জন্য কম আয়ের মানুষকে ঋণ দিয়ে থাকে। বাংলাদেশে তা থাকলেও নানা জটিলতার কারণে এ ঋণের সুবিধা নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা পান না। এ কারণে সবার জন্য আবাসন নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হলেও নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা আবাসন পাচ্ছেন না। সরকারের বিভিন্ন আবাসন প্রকল্প থাকলেও এর সুবিধাভোগীরা হলেন—সরকারি কর্মকর্তা, সম্পদশালীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ। বাস্তুহারা, দরিদ্র, নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্তরা এসব সুবিধা পাচ্ছেন না। তবে বিভিন্ন কারণে বাস্তুহারা মানুষের জন্য রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্প।

নগরবিদেরা বলছেন, নিম্ন এবং মধ্যবিত্তদের জন্য শতভাগ আবাসন নিশ্চিত করতে হলে সরকারের পলিসিগত ভূমিকায় পরিবর্তন আনতে হবে। এ বিষয়ে ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির জন্য ফরমাল হাউজিংয়ের ব্যবস্থা রাষ্ট্র করে। কিন্তু বাংলাদেশে এ ধরনের সুযোগ না থাকায় নগর এলাকায় বস্তি তৈরি হয়। এর বাইরে মানুষ যেভাবে থাকে সেগুলোকেও কোয়ালিটি হাউজিং বলা যায় না। এর মূল কারণ হচ্ছে—ভূমির ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেই। তিনি বলেন ক্ষেত্রবিশেষে সরকার যা করছে নাগরিকের জন্য তা পর্যাপ্ত নয়। সরকার যদি বেসরকারি খাতে হাউজিংগুলোকে ভূমির ব্যবস্থা করে দিতে পারে, তাতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তদের আবাসন সংকটের একটা গতি হতে পারে।

তিনি আরো বলেন, নিম্নবিত্তদের জন্য আবাসন তৈরির ক্ষেত্রে আলাদা প্রণোদনার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। সরকারি ও বেসরকারি আবসান ব্যবসায়ীদেরও সবার কথা মাথায় রেখে আবাসন তৈরি করা দরকার।

এ ক্ষেত্রে ডেভেলপাররা বলছেন, ঢাকা শহরে আবাসনের উচ্চ মূল্যের পেছনে জমির উচ্চমূল্যই প্রধান কারণ। এ জন্য সব শ্রেণির মানুষের আবাসনের স্বার্থে সরকারকে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের ব্যবস্থা চালু করতে হবে। এ বিষয়ে আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট (প্রথম) কামাল মাহমুদ বলেন, রাজউক যেসব জমি অধিগ্রহণ করেছে সেসব জমিরই দাম বেড়েছে। এক্ষেত্রে সরকারিভাবে নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের আবাসনে নজর দিতে হবে বেশি। এছাড়া আবাসন ব্যবসায়ীদের যদি সরকার জমি অধিগ্রহণ করে দেয় তাইলে আমরা এ ক্ষেত্রে নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের প্রাধান্য দিয়ে আবাসন তৈরি করতে পারি। নয়তো জমির দাম দিয়ে স্বল্প মূল্যে আবাসন নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না।

সবার জন্য আবাসন নিশ্চিতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ বলেন, শেখ হাসিনার সরকার মনে করে দেশে কেউ গৃহহীন থাকবে না। এটি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচনি অঙ্গীকার। তিনি বলেন, দেশের বিত্তবান, মধ্যবিত্ত, নিম্ন-মধ্যবিত্ত, এমনকি যাদের কোনো কিছু নেই অর্থাৎ যারা ভাসমান বস্তিবাসী তাদের জন্যও সরকার বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এক জন লোকও দেশে আবাসনহীন থাকবে না।

 

ইত্তেফাক/ইআ