রোববার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

নারায়ণগঞ্জে হকারদের দখলে সিরাজউদ্দৌলা সড়ক

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২২, ১৬:০৭

নগরীর ব্যস্ততম সড়কগুলোর মধ্যে একটি হলো নবাব সিরাজউদ্দৌলা সড়ক। একটি বিদ্যালয়, একটি বিশ্ববিদ্যালয়সহ নগরীর প্রধান কাঁচাবাজার ও বিভিন্ন অফিস থাকায় সর্বত্র মানুষের যাতাযাতে মুখরিত থাকে এই সড়কটি। আর সড়কটিকে ঘিরেই শুরু হয়েছে হকার নামক দখলদারদের দৌরাত্ম্য। 

সরেজমিনে দেখা গেছে, নবাব সিরাজউদ্দৌলা সড়কের প্রায় চার ভাগের তিন ভাগ এখন দখল হয়ে গেছে। প্রতিদিন এই সড়কে বসে প্রায় ১৬৫ জন হকার। ফুটপাত দখল করে এসব দোকানি বসছেন স্থায়ীভাবেই।

আর যারা ফুটপাতে জায়গা পাচ্ছেন না। তারা মালামাল নিয়ে বসে পড়েছেন রাস্তার উপরেই। এমনকি রাস্তার ড্রেনের উপরে বসেছে ফলের দোকান, পোশাকের দোকান, জুতার দোকান, কসমেটিক্সের দোকান, গজ কাপড়ের দোকান, ব্যাগের দোকানসহ নানা পণ্যের দোকান।

তাছাড়া নারায়ণগঞ্জ হাইস্কুলের সামনে, ফুটপাত দখল করে আরও ২৫টি দোকান বসেছে। অপর পাশে নারায়ণগঞ্জ রেলওয়ে মার্কেটের প্রায় সব দোকানগুলো দোকানের বাহিরে রাস্তা দখল করে রেখেছে। ফুটপাত বলতে এখানে কিছুই নেই। আর এই অবৈধ দখলদারদের জন্যই যানবাহনের সঙ্গে দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছে সাধারণ পথচারী ও স্কুল কলেজের হাজারো শিক্ষার্থী।

কালির বাজার ফ্রেন্ডস মার্কেটের সামনে যানজটের ভুক্তভোগী হাসান বলেন, রাস্তায় দুইপাশেই দোকান বসায় রাখলে আমাদের চলাচলে সমস্যা তো হবেই। ফুটপাতের কোন চিহ্ন দেখি না। রাস্তার উপর দিয়েই কোনভাবে হাঁটি। এই রাস্তা দিয়ে যখন বাস চলে তখন আর হাঁটার জায়গা থাকে না। আর যানজট তো লেগেই থাকে।

ফুটপাত দিয়ে হাঁটতে গিয়ে ভিড়ের কারণে সামনে এগোতে পারছিলেন না এক পথচারী। তিনি বলেন, ফুটপাতের যে টুকু অংশ ফাঁকা আছে, সেটা তো লোকজনের চলাচলের জন্য নয়। ওই অংশটা হল ক্রেতাদের দাঁড়িয়ে কেনাকাটা করার জন্য। রাস্তার ওপর দোকান। মূল সড়কে হেঁটে চলা মানুষ, বাস, সিএনজি, প্রাইভেটকার, রিক্সা সব মিলিয়ে প্রচণ্ড বিশৃঙ্খলা। একটু পর পর লেগে যায় যানজট।

নারায়ণগঞ্জ কলেজের শিক্ষার্থী রবিন জানায়, ক্লাস শেষে বের হলেই এখানে যানজটের কবলে পড়তে হয়। ক্লান্ত অবস্থায় তাড়াতাড়ি বাসায় যেতে চাইলেও যেতে পারি না। কারণ এখানে যে ভাসমান হকার আছে তাদের কারণে রাস্তার প্রায় এক তৃতীয়াংশ ব্লক হয়ে থাকে। হেঁটে যেতে হয় অনেকটা পথ। 

পথচারী রেদওয়ান বলেন, কাজে যাওয়ার জন্য এই পথেই নিয়মিত যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু বর্তমানে ফুটপাতের পুরো অংশেই দোকান হয়ে গেছে। আর এ সকল দোকানের ক্রেতাদের ভিড় থাকে অনেক। তাই রাস্তায় ঠিক মত চলাচল করতে পারি না।

ইত্তেফাক/পিও/এআই