গাজীপুরে আট টুকরা লাশ

মদের ‘স্বাদ’ নিয়ে ঝগড়ার জেরে বন্ধুর হাতেই খুন হন সবুজ

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২২, ০১:১৮

গাজীপুরের কালীগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনার জেরে মদ্যপানের আসরে গার্মেন্টসকর্মী সবুজ বার্নার্ড ঘোছালকে (৩১) হত্যা করে তার বন্ধু শাহীন (২৮)। হত্যার পর মরদেহ বটি ও দা দিয়ে আট টুকরা করে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলেছিল সে। গত রবিবার একটি ডোবা থেকে নিহতের ডান পায়ের হাঁটুর নিচের অংশসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়। এর আগের দিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নিহতের মরদেহের সাত টুকরা উদ্ধার করা হয়। খুনের এ ঘটনায় জড়িত শাহীনকে গ্রেফতার করেছে গাজীপুরের পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

গ্রেফতারকৃত শাহীনের বাড়ি সাতক্ষীরা জেলার তালা থানায়। অন্যদিকে নিহত সবুজ কালীগঞ্জ উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের ভাসানিয়া গ্রামের অমূল্য গনসালভেন্সের ছেলে। তিনি নাগরী এলাকার পানজোড়া গ্রামের পূর্বাচল অ্যাপারেলস্ লিঃ নামের পোশাক কারখানায় কোয়ালিটি চেকার (কিউসি) হিসেবে কাজ করতেন।

গাজীপুর পিবিআইর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাহীন এ খুন করেছে বলে স্বীকার করেছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার ভাড়া বাড়ির ঘর থেকে বটি-দা, রক্ত মাখা কাপড় ও লাশের টুকরা বহনের জন্য ব্যবহূত কয়েকটি বাজারের ব্যাগসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করে পিবিআইর সদস্যরা। পিবিআইর পুলিশ সুপার জানান, ঘনিষ্ট দুই বন্ধু সবুজ ও শাহীন প্রায়শই একত্রে বসে মাদক সেবন করতেন। গত ২৮ সেপ্টেম্বর দুপুরের পর শাহীন তার বাসায় বন্ধু সবুজকে ডেকে নিয়ে যান। এ সময় শাহীনের স্ত্রী তার কর্মস্থলে ছিলেন। সেখানে একত্রে মদপান করছিলেন সবুজ ও শাহীন। বোতলের মদ তেঁতো লাগার কথা বলে সবুজ তার বন্ধুকে বকাঝকা করলে তাদের মধ্যে বাগিবতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে সবুজকে সজোরে ঘুষি মারেন শাহীন। এতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান সবুজ। পরে লাশ গুম করতে বাড়িতে বসেই মরদেহটিকে আট টুকরা করেন শাহীন। পরে বাজারের ব্যাগে ভরে মরদেহের টুকরোগুলো প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলে দেন বলে শাহীন জানিয়েছে।

নিহতের বাবা অমূল্য জানান, ২৮ অক্টোবর সকালে কর্মস্থল পূর্বাচল অ্যাপারেলস্ লিঃ এর ফ্যাক্টরির উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন সবুজ। রাতে বাড়ি না ফেরায় স্বজনরা বিভিন্নস্থানে খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। সবুজের খোঁজ না পেয়ে কালীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি