বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

মায়ের ইচ্ছায় স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হয়েছেন বেলায়েত

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২২, ১১:৩০

গাজীপুরের বেলায়েত শেখ বেসরকারি স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে ভর্তি হয়েছেন। এর আগে ৪টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে আলোচনায় আসেন ৫৫ বছর বয়সের অদম্য বেলায়েত। 

তিনি রাজশাহীর বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে একই বিভাগে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু দূরত্ব ও মায়ের আপত্তির কারণে তিনি শেষ পর্যন্ত স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ভর্তির সিদ্ধান্ত নেন বলে জানিয়েছেন। বেলায়েত গত ২৭ সেপ্টেম্বর এই বিভাগে ভর্তি হন।

এ বিষয়ে তিনি জানান, 'রাজশাহীতে ভর্তি হওয়ার বিষয়ে আমার মায়ের আপত্তি ছিল। এছাড়া গাজীপুর থেকে রাজশাহীর দূরত্বও অনেক বেশি। এখন বাড়ি থেকেই ঢাকায় ক্লাস করতে পারবো।'

স্টেট ইউনিভার্সিটিতে বেলায়েতের ভর্তির বিষয়টি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালিজম, কমিউনিকেশন অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নাসরিন আক্তার বলেন, বেলায়েতের জ্ঞান অর্জনের যে সাধনা, যে আগ্রহ তা আমাদের অভিভূত করেছে। তার এই অগ্রযাত্রায় অংশ হতে পারায় আমাদের খুব ভালো লাগছে।

এদিকে তার শিক্ষা জীবনের সাধনাকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে নিয়ে যেতে সহযোগিতা করবেন বলেও তাকে আশ্বস্ত করেছেন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। 

প্রসঙ্গত, বেলায়েত ১৯৮৩ সালে প্রথমবার মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিলেও টাকার অভাবে সেবার নিবন্ধন করতে পারেননি। এরপর ১৯৮৮ সালে তিনি আবারও এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু সে বছর সারাদেশে বন্যার কারণে পরীক্ষা দিতে পারেননি।

এর কয়েক মাস পর তিনি একজন আলোকচিত্রী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। কর্মজীবন শুরু করার পর বেলায়েত পড়ালেখা ছেড়ে দেবার সিদ্ধান্ত নেন এবং তার ছোট ভাইদের মাধ্যমে তার স্বপ্ন পূরণের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন তিনি।  বর্তমানে বেলায়েত ২ ছেলে ও ১ মেয়ের জনক।

অদম্য বেলায়েত অবশেষে ২০১৯ সালে মাধ্যমিক ও ২০২১ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। যে বছর তিনি এইচএসসি পরীক্ষা দেন, একই বছর তার ছোট ছেলেও এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ না মিললেও 'শিক্ষার কোনো বয়স নেই' স্লোগানের মিছিলের কাল্পনিক নেতার চরিত্রে জাতিকে উৎসাহ দিয়েছেন বেলায়েত।

ইত্তেফাক/এআই