বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

নির্বাচনের সময় পুলিশ ইসির নির্দেশেই কাজ করবে: আইজিপি

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২২, ২২:২৫

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেছেন, নির্বাচনের সময় পুলিশ বাহিনী নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনেই কাজ করে এবং ‘পরিস্থিতি বুঝে’ ব্যবস্থা নেয়। 

মঙ্গলবার ঢাকায় পুলিশ সদর দপ্তরে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতা সঙ্গে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে জনগণের সেবাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে মাঠ কর্মকর্তাদের প্রতি নির্দেশনা দিয়েছি। মানুষ পুলিশের সেবা পেতে প্রথম থানায় আসে। থানার দরজা কখনো বন্ধ হয় না। আমরা থানাকে মানুষের সেবা প্রাপ্তির প্রথম ভরসাস্থল হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। জনগণের সঙ্গে ভালো ব্যবহার ও জনগণের কথা শুনে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।  

পুলিশের ‘গ্রুপিং’, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এবং র‌্যাবের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়েও প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় তাকে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে দেশে রাজনৈতিক সহিংসতা হলে সেটি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ বাহিনীর ভূমিকা কি হবে-সেই প্রশ্নের জবাবে আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, ‘পুলিশের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ রয়েছে। আমরা নির্বাচনের সময় নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকি এবং তাদের দেওয়া নির্দেশনা পালন করি। পরিস্থিতি অনুযায়ী পুলিশ ব্যবস্থা নিয়ে থাকে।’

র‌্যাব প্রধানের দায়িত্ব পালন করে আসা চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন শুক্রবার পুলিশের নেতৃত্বে বেনজীর আহমেদের স্থলাভিষিক্ত হন। সেদিন নানা আনুষ্ঠানিকতায় নতুন আইজিপিকে বরণ করে নেওয়ার পাশাপাশি বেনজীরকে বিদায় জানানো হয়। সদ্য দায়িত্ব নেওয়া আইজিপির প্রথম সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নে টেকনাফের একরামুল হত্যা বিষয়টি আবারও উঠে আসে। 

র‌্যাব ‘সংস্কার’ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পরামর্শ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, ‘প্রতিষ্ঠান সব সময় সংস্কারের মধ্যে থাকে। সংগঠন বা প্রতিষ্ঠান লাইভ জিনিস, প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হয়। জঙ্গিবাদ বা সাইবার ক্রাইম দমন করতে হলে তাদের চেয়ে ভালো টেকনলোজি পুলিশকে সংগ্রহ করে তাদের মোকাবেলা করতে হবে। অপরাধের ধরন অনুযায়ী পরিবর্তন সময় সময় করতে হবে। এটা চলমান প্রক্রিয়া।’ পুলিশ বাহিনীতে ‘গ্রুপিংয়ের’ অভিযোগ প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, ‘আমি এই গ্রপিং সম্পর্কে জানি না, সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে খতিয়ে দেখব।’ তবে পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালনে আহ্বান জানান তিনি।

পুলিশ অন্যায়ের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা তুলে ধরে আইজিপি দেশের প্রতিটি থানাকে ‘জনগণের ভরসাস্থলে’ পরিণত করার প্রতিশ্রুতি দেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে প্রয়োজনীয় নিদর্শনা পোঁছে দেওয়া হয়েছে জানিয়ে আইজিপি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশে দুর্নীতি জিরো টলারেন্স নিশ্চিত করতে চাই। পুলিশের ভাবমূর্তি নির্ভর করে থানার ওপর। সংবাদ সম্মলনে বহুল আলোচিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়েও প্রশ্ন আসে। 

আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘অভিযোগ আসার পর আমাদের কিছু বাধ্যবাধকতা থাকে, আমরা যখন মামলা নিই সাংবাদিকদের প্রতি যে সংবেদনশীলতা, তাদের দায়িত্বপালনের সময় কোনো ঘটনা ঘটে, তাহলে এবিষয়ে আইনানুগভাবে আমার কাছ থেকে সহযোগিতা পাবেন।’ 

ইত্তেফাক/এএএম