বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

রোহিঙ্গা শিশু নিহত, নারী গুলিবিদ্ধ

গভীর রাতে পুলিশ ও রোহিঙ্গাদের লক্ষ্য করে সন্ত্রাসীদের গুলিবর্ষণ

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২২, ০২:৩০

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তায় নিয়োজিত এপিবিএন সদস্য ও সাধারণ রোহিঙ্গাদের লক্ষ্য করে গত সোমবার গভীর রাতে দুই দফা এলোপাথাড়ি গুলি করেছে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা। গুলিতে তাসফিয়া আকতার (১১) নামে এক শিশু নিহত হয়েছে। গুলিবিদ্ধ হয়েছেন রোহিঙ্গা নারী বিলকিস। তাকে ক্যাম্পের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

উখিয়ার বালুখালী ১৮ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ব্লক এইচ-৫২-তে ও জামিয়াতুল ইসলামিয়া দারুল উলুম নদোয়াতুল মাদ্রাসা এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। গত বছরের ২২ অক্টোবর রাতে এই মাদ্রাসায় ছয় জনকে হত্যা করেছিল সন্ত্রাসীরা।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প। ছবি- সংগৃহীত

এ ব্যাপারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ১৮-এর নিরাপত্তায় নিয়োজিত ৮ এপিবিএনের সহকারী পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ফারুক আহমেদ বলেন, ময়নারঘোনা সিআইসি অফিসে দায়িত্বরত পুলিশ ও প্রহরীদের ওপর হঠাৎ গুলি করে সন্ত্রাসীরা। একইভাবে ক্যাম্প-১৮-এর এইচ/৫২ ব্লকের কয়েকটি শেলটার হাউজ ও জামিয়াতুল ইসলামিয়া দারুল উলুম নদোয়াতুল মাদ্রাসা এলাকায় পুলিশ ও সাধারণ রোহিঙ্গাদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে সন্ত্রাসীরা। এ সময় পুলিশও পালটা গুলি ছুড়লে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর ৮০ সদস্যের পুলিশের একটি দল বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। বাড়তি নিরাপত্তায় পুলিশ সদস্যরা হেলমেট ও বুলেট প্রুফ জ্যাকেট পরেন। এসময় মোহাম্মদ, সাইফুল ও এরফান নামের তিন সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সহকারী পুলিশ সুপার মো. ফারুক আহমেদ আরও বলেন, অভিযান চালানোর সময়   ঘটনাস্থলে রক্তের ছোপ ছোপ দাগ দেখা গেছে। কয়েক রাউন্ড গুলির খোসাও পাওয়া গেছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে। বিভিন্ন চেকপোস্টসহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি। সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে সাঁড়াশি অভিযান চলছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প। ছবি- সংগৃহীত

১৮ নম্বর ক্যাম্পের বাসিন্দা মোহাম্মদ হাবিব ও নূর মোহাম্মদ জানান, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা সোমবার গভীর রাতে ক্যাম্পের বিভিন্ন স্থানে একযোগে গুলি ছোড়ে। ক্যাম্প জুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকে ক্যাম্প ছেড়ে অন্যত্রে চলে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তাদের দাবি, ক্যাম্পের কয়েক জন মাঝি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত।

উখিয়া থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, ইয়াছিনের বসতঘর ও মাদ্রাসায় এলোপাথাড়ি গুলিবর্ষণ করে সন্ত্রাসীরা। ভয়ে রোহিঙ্গারা পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় ইয়াছিন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এসময় তার মেয়ে তাসফিয়া গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প। ছবি- সংগৃহীত

উল্লেখ্য, গত পাঁচ বছরে রোহিঙ্গাদের শীর্ষ নেতা মুহিবুল্লাহসহ শতাধিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন সংস্থার তথ্যমতে, হত্যাকাণ্ড হয়েছে ১২০টির বেশি। এর আগে ৯ সেপ্টেম্বর রাতে কুতুপালং ক্যাম্পে নিজ কার্যালয়ে গুলি করে হত্যা করা হয় আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের চেয়ারম্যান মুহিবুল্লাহকে। সম্প্রতি বেশ কয়েক জন মাঝি ও স্বেচ্ছাসেবককে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

ইত্তেফাক/এমএএম