‘তারকারা কী প্রেম-বিয়ে করবে না? তারাও তো মানুষ!’

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২২, ১৪:১৮

জনপ্রিয় অভিনেতা মিশা সওদাগর। কয়েক দশক ধরে দেশীয় চলচ্চিত্রে খল-নায়কের আসনটি ধরে রেখেছেন নিজ যোগ্যতায়। একাধিক সিনেমার শুটিং নিয়ে ব্যস্ত থাকা দর্শকপ্রিয় এই অভিনেতা সম্প্রতি ওয়েব সিরিজেও যাত্রা শুরু করেছেন। পাশাপাশি মুক্তির মিছিলে রয়েছে তার ডজনখানেক সিনেমা। সার্বিক এই বিষয়গুলোসহ শাকিব খান-বুবলী ইস্যু নিয়ে তিনি কথা বললেন ইত্তেফাকের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এ এম রুবেল

বর্তমান কাজের ব্যস্ততা নিয়ে জানতে চাই—

এখন (গতকাল) সাইফুল ইসলাম মান্নুর নাম চূড়ান্ত না হওয়া একটি সিনেমার শুটিংয়ে আছি। এরপর ছোটকু আহমেদের ‘আহারে জীবন’ সিনেমার শুটিং করব। নভেম্বরের শুরুতে রায়হান রাফি ও ইকবালের ছবিতে অংশ নেবো। ডিসেম্বরে আরিয়ানের এবং জানুয়ারিতে মালেক আফসারির ছবির কাজ করব। এছাড়াও বর্তমানে ‘রিভেঞ্জ’, ‘আগুন’, ‘পর্দার আড়ালে’সহ বেশ কয়েকটি ছবির শুটিং চলছে। পাশাপাশি মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে আরও বেশকিছু ছবি। এর বাইরে সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে আমার প্রথম ওয়েব সিরিজ ‘যদি আমি বেঁচে ফিরি’। কথা চলছে বায়োস্কোপের একটি নতুন সিরিজের। যদি গল্প-চরিত্র ভালো লাগে তবে এর মাঝে সেটাও করব।

আপনার ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়েব সিরিজ মুক্তি পেয়েছে। প্রত্যাশা কতটা পূরণ হলো?

প্রথম কাজ হিসেবে দর্শকদের দারুণ সাড়া পেয়েছি। আশা করছি, সামনে আরও ভালো ভালো কাজ উপহার দিতে পারব।

সিনেমার পাশাপাশি ওটিটির কাজ করলেন। দুই মাধ্যমের পার্থক্য কতটা চোখে পড়ল?

আসলে সিনেমার সাথে কোনো মাধ্যমেরই তুলনা হবে না। সিনেমা একটি সেন্সরের ভেতর দিয়ে যায়। কিন্তু ওটিটিতে যেহেতু সেন্সর নেই সেহেতু কোনো কন্টেন্ট এখানে এক্সপেরিমেন্টের সুযোগ রয়েছে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, ওটিটিতে সব ধরনের কন্টেন্টে কাজ হয় বলে আমি বলবো, ওটিটি সব ধরনের গুণী শিল্পীদের ব্যস্ত থাকার প্লাটফর্ম। প্রকৃত শিল্পী বের হয়ে আসার প্লাটফর্ম ওটিটি। কিন্তু যাদের ফেসভ্যালু আছে তাদের জন্য সিনেমা।

মিশা সওদাগর। ছবি: সংগৃহীত

তাহলে কী বলতে চাচ্ছেন যারা প্রকৃত শিল্পী তাদের কাজের ক্ষেত্র তৈরি করছে ওটিটি?

হ্যাঁ, অবশ্যই। যারা সত্যিকারের ভালো অভিনেতা-অভিনেত্রী, অথচ সিনেমায় চরিত্র কম থাকায় তারা কাজের সুযোগ পাচ্ছিলেন না, তাদের জন্য ওটিটি আশীর্বাদ। ওটিটিতে গল্প কেন্দ্রিক কাজ বেশি হচ্ছে। ফলে তারা নিজেকে মেলে ধরার সুযোগ পাচ্ছেন।

অনেকেই বলছেন বাইরের দেশের মতো আমাদের চলচ্চিত্র হলের পাশাপাশি ওটিটিতে মুক্তি দিলে চলচ্চিত্র সংকট কিছুটা হলেও দূর হবে। আপনি কী মনে করেন?

না, না। আমার তেমনটা মনে হয় না। কারণ দুটি দু্ই মাধ্যম। ফিল্ম হলো আকাশ। কারও অনুমতি লাগে না, টিকেট কেটে দেখলেই হয়। কিন্তু ওটিটিতে টাকা দিয়ে সাবস্ক্রাইব করে সময় বের করে তবেই দেখতে হয়। আমাদের দেশের মানুষ এখনও কিন্তু এই মাধ্যমটির সঙ্গে সেভাবে পরিচিতও হতে পারেনি। ওটিটি চলচ্চিত্রের সহায়ক হতে পারবে না। আমার মতে, ‘শান’, ‘পরাণ’, ‘হাওয়া’ চলচ্চিত্র সংকট নিরসনে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।

‘শান’, ‘পরাণ’, ‘হাওয়া’ চলচ্চিত্রে সুদিনের আভাস দিয়েছে। কিন্তু এই ধারাবাহিকতায় আপনার পরামর্শ কী থাকবে?

এ ধরনের আরও সিনেমা দর্শকদের উপহার দিতে হবে। একটি সিনেমার সব যে ভালো লাগবে বিষয়টি তেমন না। কোনোটির নির্মাণ, কোনোটির গল্প, আবার কোনোটির অভিনয় বা গানও দর্শকদের হূদয় ছুঁয়ে যেতে পারে। একটি সিনেমার কোন দিকটা ভালো লাগবে সেটা দর্শকরাই বলতে পারবেন। একটি পরিবারে যে সমস্ত গুণাবলী থাকে সেগুলো যদি নির্মাতা সাজিয়ে তুলে ধরতে পারেন এবং সুন্দর দিনে মুক্তি দিতে পারেন তবে অবশ্যই দর্শকরা হতাশ করবেন না। পাশাপাশি সাংবাদিকসহ চলচ্চিত্রবোদ্ধাদের যুক্তিযুক্ত সমালোচনা করতে হবে।

শাকিব-বুবলীকে নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। এতে শিল্পীদের ব্যক্তি ইমেজে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে মনে করছেন?

এটা তাদের ব্যক্তিগত বিষয়। তাছাড়া তারকাদের নিয়ে গুঞ্জন হবেই। তারা তো নিজেদের বিয়ে-সন্তানের কথা স্বীকার করে নিয়েছে। তারপরও এত সমালোচনার কিছু আছে বলে মনে হয় না। তারকারা কী প্রেম-বিয়ে করবে না? তারাও তো মানুষ! শিল্পীদেরও ভুল-ভ্রান্তি হতে পারে। তবে সেটা সহনীয় পর্যায়ে থাকলেই ভালো। এটা বলতে পারেন, এতদিন পরে কেন তারা সম্পর্ক সামনে আনলেন! ক্যারিয়ারের প্রয়োজনে বা ব্যক্তিগত কারণে স্ত্রী-সন্তানকে লুকিয়ে রাখতেই পারে। এতে দোষের কী আছে?

ইত্তেফাক/বিএএফ