একটু কামাই হলেই মাংস খান মিনারা

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২২, ১৫:৩৬

তিন বছর ধরে রাজধানীর কাওরান বাজারে পাঁচ টাকা পিস গুড় আর ১০ টাকায় প্রতি পিস রুটি বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন মিনারা। স্বামীর অসুস্থায় ছয় জনের পেটের চাহিদা মেটাতে নিজেই হাল ধরেছেন সংসারের। বিয়ের পর থেকেই গ্রামে মানুষের বাড়িতে রান্না-বান্নার কাজ করতেন তিনি। 

রাজধানীর কুনিপাড়া বউবাজার এলাকায় পরিবারসহ সাড়ে তিন হাজার টাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন মিনারা। পেটের দায়ে ঢাকায় আসা মিনারার প্রতিদিনের আয় একশো থেকে দুইশো টাকা। তিনি বলেন, 'ঘর ভাড়া না দিলে কোনো উপায় নেই। পেটের মধ্যে ভাত না দিলেও ভাড়া দেওয়া লাগবো'। 

আল্লাহই সংসার চালাচ্ছে জানিয়ে মিনারা বলেন, 'জিনিস পাতির যে রেট তাতে জীবন বাঁচেই না কারো। আটা ৫০ টাহা কেজি। বইয়া থাকলে তো পেটে ভাত যাইবো নাহ। আগে একটু সস্তা আছিলো ভালোই চলছে সংসার, এখন কষ্টে চলতাছে। না কামাই করলে না খাইয়া থাকা লাগে, সেটা কষ্টের। কাম করলে কয়টা ভাত হয়। যারা টাকা পয়সা কামাই করে তারা গরুর মাংস দিয়া খায় আর আমরা করি না হেইল্লেগা শাক, আলু ভর্তা আবার কোনো দিন ডাইল দিয়াও খাই। আর যদি কোনো দিন একটু কামাই করতে পারি ওই একটু মাংস আইন্ন্যা খাই।' 

কোনো দিন  ৫ কেজি আবার কোনো দিন ১০ কেজি আটার রুটি বিক্রি হয় মিনারার। তার বেশির ভাগ ক্রেতা রিকশা চালক জানিয়ে তিনি বলেন, 'আমার এহানে বেশি রিকশা চালকরা খায়। তাও যেদিন কামাই করতারে হেদিন খায় আর না করতে পারলে তো আহেনা কারণ হেগোও তো বউ-পোলাপান আছে। কোনো সময় একটা রুটি আর একটু পানি খাইয়া যায়গা।' 

কষ্ট হলেও মানুষের কাছে হাত পাততে চাননা জানিয়ে মিনারা বলেন, 'ভালো খাবার কি মনে করলেই কিনবার পাই। পেডের মধ্যে কষ্ট দিয়া তাহার ঘরভাড়া দেই। হাত বারায় খাওয়ার চাইতে কষ্ট করে খাওয়া ভালো, আল্লাহর ভরসা। হাত বাড়াইলে কি মানষে দেই? দিলেও দুই টাহা বা পাঁচ টাহাই দিবেন এর থেকে কি বেশি দিবো। কষ্ট যতদিন করতে হইবো করতাছি। ধরেন আপনার কাছে হাত পাতলাম আপনি দিলেন নাহ তহন আবার ঘুরতে হইবো নাহ তার চেয়ে এই কষ্ট করে খাওয়া ভালো নাহ?'

ইত্তেফাক/এসএস