অভিনেত্রী মনিরা মিঠু। নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে সততা পরিশ্রম আর অভিনয় দিয়ে নিজের জাত চিনিয়েছেন। নিয়মিত কাজ করছেন নাটক, ওয়েব সিরিজ ও চলচ্চিত্রে। নিজের অভিনয় ভাবনা, চরিত্রাভিনেত্রীদের বর্তমান অবস্থাসহ ইন্ডাস্ট্রির নানা বিষয়ে তিনি কথা বললেন ইত্তেফাকের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এ এম রুবেল।
নতুন দুটি সিনেমার কাজ করছেন। এই সিনেমাগুলোতে আপনার ভূমিকা কেমন থাকছে?
‘জলে জ্বলে তারা’ সিনেমাটির কাজ এরইমধ্যে শেষ হয়েছে। এখন (গতকাল) ‘চাদর’ সিনেমাটির শুটিংয়ে আছি। দুটি সিনেমাতেই গুরুত্বপূর্ণ দুটি চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছি। জলে জ্বলে তারা সিনেমায় আমার চরিত্রের ব্যাপ্তি কম থাকলেও অনেক চ্যালেঞ্জিং একটি চরিত্র ছিল। শুধু শুটিং নয়, ডাবিং করতে গিয়েও রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়েছে। আর ‘চাদর’ সিনেমায় ৩টি মূল চরিত্রের একটি আমি।
এর বাইরে অন্যান্য কোন কাজগুলো নিয়ে ব্যস্ত আছেন?
বেশ কয়েকটি একক ও ধারাবাহিক নাটকের কাজ করছি। ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ নাটকটির পরবর্তী সিজনের কাজ শুরু করব। ক’দিন আগেই ‘পাপ’ শিরোনামের একটি নাটকে অভিনয় করলাম। এতে আমি দুই বয়সের দুটি চরিত্রে অভিনয় করেছি।
অনেকেই বলছেন, ওটিটি প্রকৃত শিল্পীদের নিজেকে প্রমাণের জায়গা তৈরি করেছে। আপনি কেমন দেখছেন?
দেখুন, আমিও এরইমধ্যে বেশ কয়েকটি ওটিটির কাজ করেছি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, ওটিটির কাজে আমাদের বয়সের পুরুষ চরিত্র অনেক আছে, তবে নারী চরিত্র বলতে গেলে নেই!
কিন্তু এখন তো ওয়েব সিরিজ-চলচ্চিত্র গল্পকে প্রধান্য দিয়েই নির্মিত হচ্ছে। চরিত্রের প্রয়োজনে শিল্পী কাস্ট করা হচ্ছে...
হ্যাঁ, এখনকার কাজগুলোতে গল্প আছে। কিন্তু লক্ষ্য করলে দেখবেন হিরোইন ছাড়া নারী চরিত্রের (চরিত্রাভিনেত্রী) দেখা খুব কম মেলে। আবার মিললেও তার ব্যাপ্তি খুঁজে পাবেন না। যদিও আমার কোনোকিছু নিয়ে আক্ষেপ নেই! তবে চরিত্রাভিনেত্রীদের টিকিয়ে রেখেছেন নাট্য নির্মাতারা।
ওটিটির কাজগুলো বেশ আলোচিত হচ্ছে। এতে নাটক আড়ালে চলে যাচ্ছে কি-না?
না, আমার সেটা মনে হয় না। আমার নাটক যুগ যুগ ধরে টিকে আছে, থাকবে। কারণ নাটক অনেক প্রাচীন একটি শিল্প, যা হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই!
নাটক, ওয়েব সিরিজ, চলচ্চিত্রে নিয়মিত কাজ করছেন। আসলে নিজেকে কোথায় দেখতে চান?
আমি যেভাবে কাজ করছি সেভাবেই কাজ করে যেতে চাই। কোথায় নিজেকে দেখবো এই বিষয়টি নিয়ে ভাবতে চাই না।
আমাদের দেশের চরিত্রাভিনেত্রীদের বরাবরই কঠিন সময় পার করতে হয়। সেই জায়গা থেকে আজকের মনিরা মিঠু হওয়ার পথ কতটা প্রতিকূল ছিল?
এই দীর্ঘ যাত্রা সত্যি অনেক কঠিন ছিল। অনেক কষ্ট আর পরিশ্রমের ফলে আজকের অবস্থান হয়তো তৈরি করতে পেরেছি। পাশাপাশি নির্মাতাদের আস্থা এবং দর্শকদের ভালোবাসা তো রয়েছেই।
ইন্ডাস্ট্রিতে তারকারা কাজের চেয়ে ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনায় থাকছেন। এতে শিল্পীদের ইমেজ নষ্ট হচ্ছে কি-না?
ইমেজ তো সংকটে পড়ছেই। তবে শিল্পীরাও তাদের কাজ দিয়ে সেই ইমেজ আবার ফিরেও নিয়ে আসেন। আসলে মানুষ প্রিয় তারকাদের নেগেটিভ দিকগুলো বেশিদিন মনে রাখে না।
ইদানিং অনেক তারকা ইউটিউবারদের নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করছেন। আপনি কী মন্তব্য করবেন?
এখন তো ব্যাঙের ছাতার মতো ইউটিউব চ্যানেল এবং ভূইফোঁড় অনলাইন চালু হয়েছে। তাদের মাধ্যমে শিল্পীরা হেয় হচ্ছে। আমি মনে করি, তাদের এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ড রুখতে সরকারকে সোচ্চার হতে হবে। মানহানির মামলা করে তাদের চিরতরে বন্ধ করে দিতে হবে।
