রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ক্রিমিয়া সেতু বিস্ফোরণের পেছনে ইউক্রেনকে দায়ী করার একদিন পরই কিয়েভে বেশ কয়েকটি বড় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় সময় সকাল ৮টার কিছুক্ষণ পর মধ্য কিয়েভে অন্তত দু'টি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। কিয়েভের মাইডান স্কয়ারের কাছে একটি বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ এবং শহরের ত্রয়েশ্চিনা এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে বলে জানায় বিবিসি।
এ ঘটনার পরপর এক টেলিগ্রাম পোস্টে বিস্ফোরণের ছবি দিয়ে ক্ষোভ ঝেড়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভালোদিমির জেলেনস্কি। তিনি লিখেছেন, 'আমরা সন্ত্রাসীদের মোকাবেলা করছি। রাশিয়া আমাদের দুনিয়া থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করছে।'
জেলেনস্কি বলেন, প্রথমত তারা (রুশরা) আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা চায়। তারা আমাদের শক্তি ব্যবস্থাকে ধ্বংস করতে চায়। তাদের দ্বিতীয় টার্গেট হলো মানুষ। যথাসম্ভব ক্ষতির জন্য হামলা চালানো হচ্ছে।
হামলার শিকার শহরগুলোতে থাকা জনতাকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সর্বদা নিরাপত্তা নিয়ম অনুসরণ করুন। মনে রাখবেন, এই শত্রু আসার আগেও ইউক্রেন ছিলো, পরেও ইউক্রেন থাকবে।
এর আগে গত শনিবার (৮ অক্টোবর) ক্রিমিয়াকে রাশিয়ার সঙ্গে সংযুক্তকারী সেতুর ওপর ট্রাক বিস্ফোরণে তিনজন নিহত হয়। ক্ষতি হয় সেতুর একটি অংশ। এ বিস্ফোরণের পেছনে ইউক্রেনকে দায়ী করেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। পুতিন বলেন, ইউক্রেনের স্পেশাল সার্ভিসের পরিকল্পনা, অংশগ্রহণ ও নির্দেশে এই হামলা হয়েছে। রোববার (৯ অক্টোবর) ক্রেমলিনের টেলিগ্রামে পোস্ট করা এক ভিডিও বার্তায় এটিকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ আখ্যা দিয়েছেন পুতিন।
অধিকৃত ক্রিমিয়া অঞ্চলের সাথে রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডের সংযোগ ঘটিয়েছে ক্রিমিয়া সেতু, যা কার্চ সেতু হিসেবেও পরিচিত। এ বন্দরে রাশিয়ার কৃষ্ণসাগর নৌবহরের ঘাঁটি অবস্থিত। সেতুটির বিস্ফোরণ নিয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাসহ দেশটির সাধারণ জনতাকে উল্লাস করতে দেখা যায়।
