বৃহস্পতিবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৬ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

‘সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করেছি ভালো কিছু করার’

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২২, ২২:২৫

‘পরাণ’ সিনেমা দিয়ে দেশ-বিদেশ মাতিয়ে ‘দামাল’ নিয়ে আসছেন পরিচালক রায়হান রাফী। ২৮ অক্টোবর সিনেমাটি মুক্তি পাবে বলে ঘোষণা দিয়েছে সিনেমার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ইমপ্রেস টেলিফিল্ম।

সত্য ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সিনেমার গল্পটি লিখেছেন ফরিদুর রেজা সাগর। মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা ফুটবল টিমের সত্য ঘটনার সঙ্গে ফিকশনের আশ্রয় নিয়ে গড়ে উঠেছে সিনেমার গল্প। অল্প করে আছে এ সময়টাও।

মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছন সিনেমাটিতে সিয়াম-রাজ-মিম। আরও অভিনয় করেছেন ইন্তেখাব দিনার, সুমিত সেনগুপ্ত, রাশেদ অপু, সাঈদ বাবু, নাজমুস সাকিব, শাহনাজ সুমি প্রমুখ।

ছবি: সংগৃহীত

মুক্তি উপলক্ষে মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এসময় পরিচালক রায়হান রাফী বলেন, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যেসব সিনেমা তৈরি হয় সেগুলো বেশিরভাগই অনুদানের সিনেমা। বাণিজ্যিকভাবে কেউ মুক্তিযুদ্ধের সিনেমা বানায় না। সেই জায়গা থেকে আমরা আমাদের সবটুকু দিয়ে আমরা চেষ্টা করেছি ভালো কিছু করার। যা আবাল-বৃদ্ধ সবাই হলে গিয়ে পরিবার নিয়ে দেখতে পারবে। সেই সঙ্গে তার হাততালি দেবে, নাচবে, কাঁদবে এবং বের হওয়ার সময় তৃপ্তি নিয়ে বের হবে।

বিদ্যা সিনহা মিম বলেন, আমি তো মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি। যুদ্ধের সময়কার ফুটবল খেলাও দেখিনি। কিন্তু সেই সময়ের একটি গল্পে আমি কাজ করতে পেরেছি। এটা আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া। যখন আমি এই সিনেমার শুটিং করেছি তখন মনে হতো আসলেই যুদ্ধ হচ্ছে এবং আমি সেই সময়টাতেই আছি। খেলা বাদেও এই সিনেমায় অনেক কিছু আছে। আপনার সেটা সিনেমা হলে গেলেই বুঝতে পারবেন।

ছবি: সংগৃহীত

শরিফুল রাজের কথায়, বাংলা সিনেমা নিয়ে আগে মানুষের ধারণা ছিলো সেটা একেবারে বদলে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে মানুষ সিনেমা দেখতে। যেভাবে মানুষ আমার ‘পরাণ’ ‘হাওয়া’র সঙ্গে ছিলো তেমনি ‘দামাল’র সঙ্গে মানুষ থাকবে।’  

সিয়াম আহমেদ বলেন, ‘আসলে একটা সিনেমার পেছনে যে কতো শ্রম আর মেধা খরচ হয়, সেটা পর্দার সামনে বসে অনুভব করা যায় না। আজ আপনাদের আমি একটা ঘটনা বলি। রোজ সকালে যেতাম আমরা মাঠে। রোদের মধ্যে সারা দিন প্র্যাকটিস করতাম আর খেলতাম। এর মধ্য দিয়েই আসলে সিনেমার ফুটেজগুলো বেরিয়ে আসে। তো এভাবে একদিন একটি দৃশ্যে আমি আর রাজ দৌড়াচ্ছিলাম মাঠে। দৌড়াতে দৌড়াতে আমরা দুজনেই বমি করছিলাম। বাট থামছিলাম না। কারণ, ওটা এক টেকের শট ছিল। থামলেই শট নষ্ট হবে। আবার দিতে হবে পুরোটা। তো পর্দায় কিন্তু সেই দৃশ্যে আমাদের কষ্টটা কেউ দেখবে না। এজন্য বলছি, আপনারা যখন ছবিটা দেখবেন, তখন একটু হলেও টের পাবেন- আমরা আসলে শুয়ে-বসে ছবিটা বানাইনি। আমাদের প্রতিটা মানুষের অনেক ঘাম-শ্রম এতে নিবেদিত।’

ইত্তেফাক/বিএএফ