লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে সৈয়দ আহাম্মেদ (৬৫) নামের এক সাবেক পুলিশ কর্মকর্তাসহ তার দুই ছেলেকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে পৌর মেয়রের ভাইয়ের বিরুদ্ধে।
শনিবার (৮ অক্টোবর) রাতে শহরের গাজী মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
সোমবার (১০ অক্টোবর) ওই পুলিশ কর্মকর্তার ভাই আমির হোসেন বাদী হয়ে রায়পুর পৌর মেয়রের ভাই নুরউদ্দিন শিবলুসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে রায়পুর থানায় মামলা করেছে।
পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, বাড়ি নির্মাণে চাঁদা না দেওয়ায় এ ঘটনা ঘটেছে। মামলা করায় মেয়র আমার বাড়ির নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিয়েছে।
অভিযোগে জানা যায়, পৌর শহরের পুলিশের সাবেক এসআই সৈয়দ আহাম্মেদ উপজেলা সড়কের গাজী মার্কেট এলাকায় একটি বহুতল ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করেন। নির্মাণে পৌরসভাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে অনুমোদন নিয়ে কাজ করছেন। নির্মাণ কাজের সময় পানি নিষ্কাশনে গাজী মার্কেটের ড্রেন ব্যবহার করে আসছেন। হঠাৎ করে গাজী মার্কেটের সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র গিয়াস উদ্দিন রুবেলের ভাই শিবলু চাঁদার দাবিতে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে দেয়।
শনিবার রাতে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা সৈয়দ আহাম্মেদ লাইন খুলে দিতে গেলে উভয়ের মধ্যে কথাকাটির এক পর্যায়ে শিবলু তার লোকজন খবর দিয়ে সৈয়দ আহাম্মেদ ও তার দুই ছেলেকে মারধর করে। পরে পুলিশ এসে উভয়কে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এ সময় পৌর মেয়র মীমাংসার কথা বলে তার ভাইসহ সবাইকে থানা থেকে জিম্মায় নিয়ে আসে। কিন্তু মেয়র মীমাংসা না করে উল্টো তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পরে ওই কর্মকর্তাও থানায় মেয়রের ভাইসহ ৭ জনকে আসামি করে মামলা করেন।
অভিযুক্ত শিবলুর সঙ্গে একাধিক বার যোগাযোগ করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে পৌর মেয়র গিয়াস উদ্দিন রুবেল বলেন, আমি বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেছি। কিন্তু পুলিশ কর্মকর্তার কারণেই মীমাংসা হয়নি। পৌরসভার নিয়ম অনুযায়ী কাজ না করায় নির্মাণ কাজটি বন্ধ রাখার জন্য বলা হয়েছে।
পুলিশের সাবেক এসআই সৈয়দ আহাম্মেদ বলেন, মেয়রসহ তার ভাই অর্ধশতাধিক লোকজন নিয়ে এসে বেদম মারধর করে উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। এখন আমাকে মেরে ফেলার হুমকিও দিচ্ছে। মেয়রের ভাই শিবলুর বিরুদ্ধে মামলা করায় মেয়র আমার নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। এর আগেও মেয়র নিজেই শহরের এক ব্যবসায়ীকে মারধর করে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠ বিচার দাবি জানাচ্ছি।
রায়পুর থানার ওসি হাসান জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, এ ঘটনায় উভয় পক্ষের থেকে দুটি মামলা হয়েছে। আমরা আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা করছি। কেউ কাউকে হুমকি দিলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
