শুক্রবার, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২০ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

পৃষ্ঠপোষকতা পেলে টাঙ্গাইলের ফুটবল কন্যারা এগিয়ে যাবেন

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২২, ০১:৫০

প্রতিবন্ধকতা, ঘাত-প্রতিঘাত এবং নানা প্রতিকূলতাকে জয় করে টাঙ্গাইলের মুনালিসা একাডেমির এক ঝাঁক নারী ফুটবল কন্যারা এগিয়ে যেতে চায় দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বহু দূর। বিভিন্ন অজপাড়া গ্রাম থেকে ছুটে এসে মোহামেডান ও আবাহনী দলে খেলোয়াড় হিসেবে তারা পরিচিত। এ জন্য প্রয়োজন পৃষ্ঠপোষকতা। নানা সমস্যার মধ্যেও তবু তারা থেমে নেই। জাতীয় লিগ থেকে শুরু করে বিকেএসপি এবং জাতীয় দলে দক্ষতার সঙ্গে ফুটবল খেলে তারা সুনাম কুড়িয়েছে। নভেম্বরে ঢাকায় কমলাপুর স্টেডিয়ামে ১২টি ক্লাবের অংশগ্রহণে নারী ফুটবল লিগ শুরু হবে কিন্তু টাঙ্গাইলের নারী ফুটবল কন্যারা ঐ লিগে নাম লিখাতে পারেনি।

টাঙ্গাইলে মুনালিসা উইমেনস একাডেমির প্রধান পৃষ্ঠপোষক এবং মহিলা দলের কোচ কামরুন নাহার খান মুন্নি। তিনি টাঙ্গাইল সদরের উত্তরণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হলেও ফুটবল খেলাটাকে আঁকড়ে ধরে রেখেছেন। বর্তমান সরকার ২০১১ সালে জাতীয়ভাবে বঙ্গমাতা (নারীদের) ফুটবল প্রতিযোগিতা শুরু হলে তিনি টাঙ্গাইলের বিভিন্ন এলাকা থেকে নারী ফুটবল কন্যাদের সংগ্রহ শুরু করেন। তার বাসায় টাঙ্গাইল জেলাসহ বিভিন্ন জেলার মহিলা খেলোয়াড়দের থাকার ব্যবস্থা করেন। বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ২৮ জন নারী খেলোয়াড় রয়েছে যারা প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্রী। নিয়মিতভাবে ফুটবল, ভলিবল, অ্যাথলেটিক্স, টেবিল টেনিস, হকি, শুটিং ও ব্যাডমিন্টন খেলে আসছে। ফুটবল খেলাকেই প্রধান পেশা হিসেবে বেছে নেন তারা। খেলার জন্য মাঠ না থাকলেও টাঙ্গাইলের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব কলেজ মাঠে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন। ফুটবল দলের মধ্যে মোহামেডানে ১৪ জন এবং আবাহনীতে ১৪ জন নারী ফুটবলার নিয়মিত খেলে আসছে। জাতীয় লীগে ২০১৯, ২০২০, ২০২১ এবং ২০২২ সালেও তারা ফুটবল খেলায় দক্ষতা দেখিয়েছে। মোহামেডানের খেলোয়াড়রা হচ্ছে অধিনায়ক সাদিয়া, গোলকিপার তাসলিমা, তুন্নি, সুইমান মার্মা, শেবা, তানিয়া, ফেরদৌসী, মারিয়া, সুমি, সাদিয়া, নার্গিস, সুরমা, আলমিনা ও লুপা। আবাহনীর খেলোয়াড়রা হচ্ছেন সেঁজুতি (অধিনায়ক), গোলকিপার সুচমিতা বর্মন, মারিয়া জুনিয়র, খাদিজা, নার্গিস, রুমা, সেলিনা, আইরিন, ইলা, সায়লা, স্বপ্না, ইতি, আশা, লিজা ও নানদিয়া নকরেট।

নারী ফুটবল কন্যাদের মধ্যে সাদিয়া, সুরমা, সুচমিতা বর্মন এবং নানদিয়া নকরেট জানায়, টাঙ্গাইলের মুনালিসা উইমেনস একাডেমিতে নিয়মিত খেলতে পেরে তারা আনন্দিত। রয়েছে নানা প্রতিবন্ধকতা ও সমস্যা। পারিবারিক ও অর্থনৈতিকভাবেও বেশির ভাগই অস্বচ্ছল। তার পরও থেমে নেই। নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচ্ছে। ২০২০ সালে ফুটবলে বিকেএসপিতে সারা দেশ থেকে ১১ জন মেয়ে সুযোগ পেয়েছে। তাদের মধ্যে টাঙ্গাইলের চার জন। ২০২২ সালে আট জন সুযোগ পায়। এর মধ্যে টাঙ্গাইলের দুই জন মেয়ে। দেশের গণ্ডি পেরিয়া তারা এখন বিদেশের মাটিতে পা রাখতে চায়। টাঙ্গাইলের গোপালপুরের ফুটবল কন্যা কৃষ্ণা রানীর মতো তারাও দেশের সুনাম বয়ে আনবে বলে দৃঢ় প্রত্যয়ের কথা জানিয়েছেন। এ জন্য প্রয়োজন সরকারি বা ব্যক্তি পর্যায়ে হলেও তাদের জন্য পৃষ্ঠপোষকতা।

অপর দিকে নারী ফুটবলারদের উত্সাহিত করতে টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ একুশে পদক প্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ফজলুর রহমান খান ফারুক এবং জেলা প্রশাসক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ড. মো. আতাউল গনি বিভিন্ন সময় তাদের সহযোগিতা দিয়ে থাকেন বলে জানিয়েছেন মুনালিসা উইমেনস একাডেমির প্রধান পৃষ্ঠপোষক এবং মহিলা দলের কোচ কামরুন নাহার খান মুন্নি।

মহিলাদের ফুটবল খেলায় উদ্ধুদ্ধকরণের লক্ষ্যে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে উত্সব মুখর পরিবেশে মহিলাদের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়।

ইত্তেফাক/জেডএইচ