শাহবাজ-হামজার বিরুদ্ধে টাকা পাচারের মামলার রায়

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২২, ১৪:১১

পাকিস্তানের একটি বিশেষ আদালত প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও তার ছেলে হামজা শাহবাজকে ১ হাজার ৬০০ কোটি রুপি পাচারের মামলা থেকে খালাস দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (এফআইএ) এই মামলাটি করেছিল। জিও নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আদালতে এফআইএ অনুযায়ী বাবা ও ছেলে দুইজনের কারও ব্যাংক হিসাবে সরাসরি কোনো অর্থ জমা হয়নি। এরপর শাহবাজ পরিবারের বিরুদ্ধে করা এই অর্থপাচার মামলায় আদালত রায় ঘোষণা করেন।

বাবা-ছেলেকে আদালতে হাজির হতে বলা হলেও দুইজনের কেউই উপস্থিত ছিলেন না। শাহবাজ দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত আর হামজা অসুস্থ থাকায় হাজিরা থেকে অব্যাহতি চান তাদের আইনজীবী। 'কোনো সরাসরি সাক্ষ্যপ্রমাণ' না থাকায় ১ হাজার ৬০০ কোটি রুপি পাচারের অভিযোগ থেকে গত সপ্তাহে ক্ষমতাসীন পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) নেতাদের অব্যাহতি দেয় এফআইএ। বুধবার (১২ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী ও তার ছেলেকে খালাস দেন আদালত।

শুনানিতে এফআইএর কৌঁসুলি ফারুক বাজওয়া সন্দেহভাজনদের খালাস দেওয়ার বিরোধিতা করেন। তিনি জানান, ১ হাজার ৬০০ কোটি রুপি পাচারের ঘটনায় হামজা ও শাহবাজের জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তারা এই মামলা চালিয়ে যেতে চান। সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন পর্যন্ত মামলার কার্যক্রম চলা উচিত।

তবে বিশেষ আদালতের বিচারক ইজাজ আওয়ান জানান, আদালতে দাখিল করা চালান প্রতিবেদনে সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে ‘অকাট্য সাক্ষ্যপ্রমাণ’ দিতে পারেনি এফআইএ। ফলে আদালত সন্দেহভাজনদের খালাস দিয়েছেন।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তার বিরুদ্ধে করা মামলাটি ‘ভুয়া ও ভিত্তিহীন’ এবং ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে’ মামলাটি করা হয়েছিল বলে এক টুইটারে পোস্ট করেন তিনি।

২০২১ সালের ডিসেম্বরে শাহবাজ ও হামজার বিরুদ্ধে বিশেষ আদালতে এফআইএর দাখিল করা চালান প্রতিবেদনে চিনি কেলেঙ্কারির ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে ১ হাজার ৬০০ কোটি রুপি পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগ করা হয়।

আদালতে দাখিল করা এফআইএর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তদন্তকারী দল শাহবাজ পরিবারে ২৮টি বেনামি ব্যাংক হিসাব চিহ্নিত করেছে। এসব ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ২০০৮-১৮ সালের মধ্যে ১ হাজার ৬৩০ কোটি রুপি পাচার করা হয়।

ইত্তেফাক/ডিএস/এসএস