দ্বিমুখী শঙ্কায় হিমায়িত চিংড়িশিল্প

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২২, ০২:৩৪

দ্বিমুখী শঙ্কায় পড়েছে দেশের ‘সাদা সোনা’ খ্যাত হিমায়িত চিংড়িশিল্প। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের বিরূপ প্রভাব ও অব্যাহত বিদ্যুত্ সংকটের কারণে হিমায়িত চিংড়িশিল্পের অবস্থা নাজুক। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই দুটি দেশে চিংড়ি রপ্তানি একেবারে বন্ধ রয়েছে। এছাড়া ইউরোপের দেশগুলো থেকেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত রপ্তানি আদেশ। ফলে আবারও বিপাকে পড়েছে দেশের হিমায়িত চিংড়িশিল্প।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হিমায়িত চিংড়ির ৮৫ ভাগ রপ্তানি হয় ইউরোপে। এছাড়া বাকি ১৫ ভাগ চিংড়ি আমেরিকাসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশে যায়। দেশে করোনা ভাইরাসের ঢেউ শুরু হলে চিংড়ি রপ্তানি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে আর্থিক মন্দার কবলে পড়ে দেশের অন্যতম এই রপ্তানি খাত। করোনা ভাইরাসের আঘাত কেটে যাওয়ার পর আবার আশার আলো ফুটতে শুরু করে হিমায়িত চিংড়ি খাতে। কিন্তু এ আশাও হতাশায় রূপ নিয়েছে। 

মত্স্য পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ বিভাগ সূত্র জানায়, খুলনা অঞ্চল থেকে ২০২০-২১ অর্থবছরে হিমায়িত চিংড়ির সম্ভাবনাময় বাজার হিসেবে রাশিয়ায় ৭৩১ মেট্রিক টন ও ইউক্রেনে ১১৯ মেট্রিক টন চিংড়ি রপ্তানি হয়েছিল। যেখান থেকে বৈদেশিক মুদ্রায় আয় হয়েছিল ৬৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। ২০২১-২২ অর্থবছরে রপ্তানি হয় ২৬৯ টন  চিংড়ি, যেখান থেকে আয় হয় ২৩ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। তবে রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধের পর থেকে এই দুটি দেশে চিংড়ি রপ্তানি সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। ইউরোপের বাকি দেশগুলো থেকেও কাঙ্ক্ষিত রপ্তানি আদেশ পাওয়া যাচ্ছে না।

বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএফইএ) সূত্র জানায়, বাংলাদেশে ১০৫টি হিমায়িত খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা রয়েছে। যার মধ্যে শতকরা ৮০ ভাগ চিংড়ি প্রক্রিয়াজাতকরণ করা হয় খুলনা অঞ্চলের কারখানাগুলোতে। হিমায়িত চিংড়ি শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার নিচে রেখে সংরক্ষণ করতে হয়। কোনো কারণে এই তাপমাত্রার ওপরে উঠে গেলে ঐ চিংড়িতে ব্যাকটেরিয়া জমতে শুরু করে। তখন তার গুণমান নষ্ট হয়ে যায়, ফলে বিদেশে আর রপ্তানি করা যায় না। সূত্রমতে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রতিদিন দিন-রাত মিলিয়ে চার-পাঁচ ঘণ্টা লোডশেডিং করা হচ্ছে। এই লোডশেডিংয়ের সময় নিজস্ব প্রক্রিয়ায় হিমায়িত প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানাগুলোতে বিদ্যুত্ সরবরাহ চালু রাখতে হচ্ছে। ফলে হিমায়িত চিংড়ির উত্পাদন খরচ দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে গেছে।

বিএফএফইএর সহসভাপতি এস হুমায়ুন কবীর বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আগে বাংলাদেশ থেকে ২০০ কনটেইনার চিংড়ি রাশিয়া ও ইউক্রেনে রপ্তানি হতো। এর মধ্যে রাশিয়ায় সরাসরি রপ্তানি হতো ১০ শতাংশ চিংড়ি আর বাকি ৪০ শতাংশ চিংড়ি রপ্তানি হতো ইউরোপের দেশ থেকে। যার আর্থিক মূল্য প্রায় ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে ঐ দুটি দেশে সম্পূর্ণ চিংড়ি রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। এছাড়া যুদ্ধের কারণে ইউরোপের বাকি দেশগুলো থেকেও কাঙ্ক্ষিত রপ্তানি আদেশ পাওয়া যাচ্ছে না। এর ওপর প্রতিদিন দিন-রাত মিলিয়ে চার-পাঁচ ঘণ্টা লোডশেডিং চলছে। এর ফলে হিমায়িত চিংড়ির উত্পাদন খরচ দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে গেছে।

ইত্তেফাক/এএইচপি