যশোর শহরের রবীন্দ্রনাথ সড়কে অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে শহরের রাঙ্গামাটি গ্যারেজ এলাকার নিউ বিসমিল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসপে অভিযান চালিয়ে অস্ত্রসহ দোকান মালিক ও কর্মচারীসহ তিন জনকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় পাঁচটি নাইন এমএম পিস্তল, পাঁচ রাউন্ড গুলি ও আটটি ম্যাগাজিন জব্দ করা হয়।
আটককৃতরা হলেন সদর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের আহম্মদ আলীর ছেলে ও দোকান মালিক আব্দুল কুদ্দুস, একই গ্রামের ফারুক হোসেনের ছেলে সুমন হোসেন এবং শহরের বেজপাড়া এলাকার এলাহী বক্সের ছেলে আজিজুল ইসলাম।
স্থানীয়রা জানান, আব্দুল কুদ্দুস রাঙ্গামাটি গ্যারেজ এলাকার একটি দোকান ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে লেদ কারখানায় বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি তৈরি করতেন। এদিন পুলিশ হঠাত্ এসে ঐ দোকানে অভিযান চালায়। এলাকার লোকজন ডিবি পুলিশের অভিযানের সংবাদ পেয়ে হতবাক হন। প্রকাশ্যে এভাবে কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অস্ত্র তৈরি হতে পারে এটা তাদের কাছের অজানা ছিল।
ডিবি পুলিশের এসআই শাহিনুর রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঐ ওয়ার্কসপে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র তৈরির প্রমাণ পাওয়া যায়। এরপর সেখান থেকে অস্ত্র ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। এর আগে বেশ কয়েকবার তিনি সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। ডিবি পুলিশের ওসি রূপন কুমার সরকার জানান, নিউ বিসমিল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে দীর্ঘদিন দেশীয় পিস্তল, ওয়ান স্যুটারগানসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র তৈরি করে আসছিল বলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন।
বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে দোকানটিতে অভিযান চালানো হয়। এসময় সেখান থেকে অস্ত্র ও অস্ত্র তৈরির বেশকিছু সরঞ্জাম জব্দসহ দোকান মালিক আব্দুল কুদ্দুস ও দুই কর্মচারীকে আটক করা হয়। তিনি আরো জানান, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এই অস্ত্র তৈরি ছাড়াও তারা আর কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত আছে কি না, তা যাচাই করা হবে। বিষয়টি নিয়ে আমরা আরো তদন্ত করব। এভাবে আরো অস্ত্র তৈরি হয়েছিল কি না, বা এর সঙ্গে কারা জড়িত তা তদন্ত করে দেখা হবে।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলাল হোসাইন জানান, আটক তিন জনকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এ অস্ত্র তারা কোথায় বিক্রি করেন তা জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
