আগামী ২৩ অক্টোবর জেলা আওয়ামী লীগের ও আগামী ২৫ অক্টোবর মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন। এ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে অস্থিরতা থামছে না। ওয়ার্ড থেকে শুরু করে জেলার সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে এই অস্থিরতা। নেতারা একাধিক ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। দলের একে অপরের বিরুদ্ধে নানা ধরনের তির্যক মন্তব্য করতেও দ্বিধাবোধ করছেন না। আর এসব কারণেই আওয়ামী লীগের বিরোধ বেড়েই চলছে।
এ নিয়ে কর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে বিভক্তি। তবে আওয়ামী লীগের চলমান এই পরিস্থিতির জন্য দলের ভেতরের কিছু নেতার বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও স্বেচ্ছাচারিতা দায়ী বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের কর্মী সমর্থকরা। তাদের মতে একই পদে একই ব্যক্তি দীর্ঘদিন থাকায় এই সমস্যার দেখা দিয়েছে। নেতাদের মধ্যে পদের প্রতি মোহ জন্মে যাওয়ার কারণে পদ ছেড়ে নতুনদের স্থান দিতে চাচ্ছেন না—এমন অভিযোগ আওয়ামী লীগের তৃণমূলে।
ফলে জেলার যেখানেই আওয়ামী লীগের কাউন্সিল হচ্ছে কিংবা হওয়ার কথা রয়েছে, সেখানেই দেখা দিয়েছে বিরোধ। তৈরি হচ্ছে একাধিক কোন্দল। যে কারণে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতারা অনেক সময় জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছেন। তবে এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে দীর্ঘদিন ধরে একই পদে থাকা নেতাদের স্থান ছেড়ে নতুনদের স্থান করে দিতে হবে এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বোদ্ধা মহল।
তথ্য মতে, নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের রাজনীতি পুনর্গঠন নিয়ে শুরু হয়েছে নানা ধরনের তত্পরতা। আওয়ামী লীগকে আরো বেশি সংগঠিত করতে নেতারা কাজ শুরু করার পর থেকে আওয়ামী লীগে শুরু হয় অস্থিরতা। মন্ত্রী ও এমপি থেকে শুরু করে দীর্ঘদিন একই পদে থাকা নেতারা নতুনদের স্থান দিতে চাচ্ছেন না কমিটিতে। যে কারণে আওয়ামী লীগে জটিলতা দেখা দিয়েছে। তবে মন্ত্রী-এমপি যখন থানা আওয়ামী লীগের সভাপতির পদে আসেন তখন সাধারণ নেতাকর্মীরা মুখ খুলে প্রতিবাদ করতে সাহস করেন না। তবে চাপা ক্ষোভ থেকেই যায়। মন্ত্রী-এমপির ন্যায় একই পদে থাকতে চাচ্ছেন জেলা, বিভিন্ন উপজেলা, থানা ও ইউনিয়নের নেতারা। আর এ নিয়ে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্থানে বিদ্রোহ দেখা দিয়েছে। কমিটি গঠন নিয়ে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। বিদ্রোহ কমিটিও গঠন হয়েছে এবং কিছু স্থানে বিদ্রোহ কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন থানা কমিটিতে দীর্ঘদিন ধরে যারা পদ আকড়ে আছেন, আগামী কমিটিতেও তারাই পদে থাকতে চাচ্ছেন । আর এ নিয়েই মূলত আওয়ামী লীগে এই অস্থিরতা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন একই পদে থাকা কিছু নেতার বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতারও অভিযোগ উঠেছে। তবে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যে অস্থিরতা চলছে তার জন্য দলের বেশ কিছু নেতা দায়ী। এসব নেতা নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে গিয়ে আওয়ামী লীগে নব্যদের অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। কিংবা বিভিন্ন পদে পদায়ন করতে চাচ্ছেন, যা দলের এক পর্যায়ের নেতাকর্মী মেনে নিতে পারছেন না। যে কারণে দীর্ঘদিন চুপ থাকার পর এখন প্রতিবাদী হয়ে উঠতে শুরু করেছেন তারা।
