আমন ক্ষেতে বেড়েছে ইঁদুরের উপদ্রব

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২২, ১৪:২৪

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে আমন ধানের ক্ষেতে ব্যাপকহারে ইঁদুরের উপদ্রব শুরু হয়েছে। ইঁদুরের অনিষ্ট থেকে রেহাই পেতে কৃষকেরা নানা কৌশল প্রয়োগ করতে মাঠে মাঠে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে এলাকায় রোপা আমন ধানের আবাদ হয়েছে মোট ১৯ হাজার ১৬৫ হেক্টর জমিতে। যেসব এলাকায় জমি নিচু, সেসব এলাকায় ইঁদুরের উপদ্রব বেশি। সম্প্রতি বৃষ্টি হওয়ার পর এই উপদ্রব শুরু হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের চকসাত্রা গ্রামের কৃষক জামাত ফকিরের ৬০ শতাংশ জমির স্বর্ণা-৫ ধানের ফ্লাওয়ারিং শুরু হয়েছে। এমন অবস্থায় ইঁদুর ব্যাপকহারে ধানের গাছ কেটে ফেলছে। ফলে অনেক ধান গাছ মরে গেছে।

ঘুরকা ইউনিয়নের রয়হাটি গ্রামের কৃষক সোলায়মান হোসেনের গ্রামের মাঠে ৯ বিঘার মধ্যে প্রায় ২ বিঘা জমির ধান ইঁদুরে কেটে বিনষ্ট করেছে। ধামাইনগর ইউনিয়নের বিনোদবাড়ি গ্রামের কৃষক মণিলাল মাহাতো এবং ধানগড়া ইউনিয়নের তেলিজানা গ্রামের কৃষক আশরাফ আলীও একই সমস্যার কথা জানালেন। তারা জানান, বিষটোপ ও ফাঁদ পেতে তেমন কোন কাজ হচ্ছে না।

চান্দাইকোনা ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. শেখ সাদী জানান, ইঁদুরে আক্রান্ত ধান ক্ষেত সরেজমিনে দেখে তিনি কৃষকদের বিষটোপের জন্য লানির‍্যাট, ক্লের‍্যাট ও জিঙ্ক ফসফাইট প্রয়োগের পরামর্শসহ জমিতে কঞ্চি পুঁতে পলিথিনের টুকরা বেঁধে দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, বিষটোপ ও ফাঁদের ব্যবহার একটি প্রাচীন পদ্ধতি। এতে বিষাক্ত খাবার খেয়ে মারা যাচ্ছে ইঁদুর ও উপকারী কীট-পতঙ্গ। বিষাক্ত ইঁদুর ও কীটপতঙ্গ খেয়ে সাপ ও গুইসাপ মারা যাচ্ছে। এসব খেয়ে চিল পাখিও মারা যাচ্ছে, যা ইকোসিস্টেমের জন্য হুমকিস্বরূপ।

তিনি আরও বলেন, আমরা উভয়কূল রক্ষার্থে কৃষকদের জমির মধ্যে কঞ্চি পুতে টুকরা পলিথিন বেঁধে দেওয়াসহ আলো দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি। এতে কাজ হচ্ছে ভালো। বাতাসে পলিথিনের শব্দ ও আলোর প্রতিফলনে ইঁদুর ভয়ে পালাচ্ছে।

ইত্তেফাক/এসকে