বৃহস্পতিবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৬ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

পরিবেশগত অপরাধ দমনে আইন করছে ইইউ

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২২, ১৭:৪০

মাদক পাচার ও ভুয়া পণ্যের ব্যবসার পর বিশ্বের তৃতীয় সবচেয়ে লাভজনক অবৈধ ব্যবসা পরিবেশগত অপরাধ। লাভের পরিমাণ বছরে ১১০ বিলিয়ন থেকে ২৮০ বিলিয়ন ডলার হতে পারে বলে জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সংগঠন ইউরোপোল। 

পরিবেশগত অপরাধের মধ্যে আছে বন্যপ্রাণীর অবৈধ বেচাকেনা, দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে বন ও বিভিন্ন সংরক্ষিত এলাকা থেকে গাছ কেটে কাঠ ব্যবসা, অবৈধ পন্থা ব্যবহার করে ময়লা অপসারণ এবং পরিবেশ, পানি কিংবা মাটিতে দূষিত উপাদান ছড়িয়ে দেওয়া।

আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের গোয়েন্দা কর্মকর্তা সাসা ব্রাউন সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘পরিবেশগত অপরাধের নিষ্ঠুরতা ও লাভের পরিমাণ অচিন্ত্যনীয়।' কিন্তু এটাকে এখনও ছোট অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে ডয়চে ভেলেকে জানান তিনি। অথচ এটা ‘আমাদের ভবিষ্যতের বিরুদ্ধে অপরাধ' বলে মনে করেন তিনি। 

ব্রাউন বলেন, বড় অপরাধ তদন্তের যেসব কৌশল আছে সেগুলো ব্যবহার করে পরিবেশগত অপরাধের তদন্ত হওয়া উচিত। যেমন ছদ্মবেশ ধরে তদন্ত করা, ফোনে আড়িপাতা, জিপিএস ট্র্যাকিং ইত্যাদি।

ইইউর পরিবেশ কমিশনার ভিরজিনিয়ুস সিঙ্কেভিচুস গতবছর বলেছিলেন, ‘‘ইউরোপে পরিবেশগত অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের প্রায়সময়ই শাস্তি পেতে হয় না। এ সম্পর্কিত আইন প্রয়োগের জন্য প্রণোদনাও খুব কম।'' 

এমন পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে আসতে একটি আইনের প্রস্তাব করেন তিনি। আগামী বছরের মাঝামাঝি সেটি কার্যকর হতে পারে।

ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ড ডাব্লিউডাব্লিউএফ-এর জার্মান শাখার কর্মকর্তা ক্যাথেরিনা লাঙ জানান, ক্রেতাদের পক্ষে তাদের কেনা পণ্যে ব্যবহত কাঠ অবৈধ উপায়ে সংগ্রহ করা হয়েছে কিনা, জানা সম্ভব নয়। কারণ কাঠের গায়ে যে দেশের নাম লেখা থাকে সেটি অনেক ক্ষেত্রেই ভুয়া বলে অতীতে পরীক্ষা করে দেখিয়েছে ডাব্লিউডাব্লিউএফ জার্মানি।

জেনেটিক ও আইসোটপিক ফিঙ্গারপ্রিন্টিং পরীক্ষা করে ডাব্লিউডাব্লিউএফ জার্মানি দেখিয়েছে যে, কোনো কাঠ ভিয়েতনাম থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে বলা হলেও আসলে সেটি ছিল নিম্নমানের কাঠ। 

ইত্তেফাক/এসআর