দুপচাঁচিয়ায় কাজির বিরুদ্ধে নিকাহনামা জালিয়াতির অভিযোগে মামলা

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২২, ২০:৫৮

বগুড়ার দুপচাঁচিয়া থানার সাহারপুর পুকুর ও গোবিন্দপুর ইউনিয়নের নিকাহ ও তালাক রেজিস্টার কাজি মো. লুৎফর রহমানের (৪৮) বিরুদ্ধে নিকাহনামা জালিয়াতির অভিযোগে পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে বিবাহের নিকাহনামায় ৪৯ হাজার ৯৯৯ টাকা দেনমোহরের জায়গায় জালিয়াতি করে ৪ লাখ ৪৯ হাজার ৯৯৯ টাকা করার অভিযোগ করেছেন মো. আব্দুল কাদের নামে এক ভুক্তভোগী। 

নিকাহনামা জালিয়াতির অভিযোগে কাজি লুৎফর রহমান ও মো. গোফফারের বিরুদ্ধে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী মো. আব্দুল কাদের। বর্তমানে মামলাটি আদালতে চলমান রয়েছে। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বগুড়ার দুপচাঁচিয়া থানার সাহারপুর পুকুর ও গোবিন্দপুর ইউনিয়নের নিকাহ ও তালাক রেজিস্টারের দায়িত্ব পালন করেন কাজি মো. লুৎফর রহমান। পাশাপাশি স্থানীয় চাটখইর সিদ্দিকিয়া দাখিল মাদ্রাসার অফিস সহকারী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। দেনমোহরের টাকা কম-বেশি করা, বর ও কনে পক্ষকে নানান কায়দায় প্ররোচিত করে বিবাহ দেওয়া কিংবা বিচ্ছেদকরণ, নারীদের সঙ্গে অনৈতিক আচরণসহ বেশ কয়েকটি অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। 

অভিযোগের বিষয়ে কাজী মো. লুৎফর রহমান বলেন, ‘আমি গুরুতর অসুস্থ। আমার ভাগনে দেনমোহরের বিষয়ে জানে। আমি ওর সঙ্গে কথা বলে সব কিছু জানাবো। এই ব্যাপারে আমার তেমন কিছু স্মরণ নেই।’ 

মামলার আসামি মো. গোফফার ও মেয়ের প্রতিবেশী নানা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘মামলার বাদী মো. আব্দুল কাদের তার স্ত্রীর কোন ভরণপোষণ দেয়না। আর দেনমোহরের যদি জাল জালিয়াতি করে তবে সেটা আমি করিনি। কাজিই করেছেন।’

ভোক্তভোগী মো. আব্দুল কাদের বলেন, ‘কাজি লুৎফর রহমান টাকার বিনিময়ে যেকোনো কিছু করতে পারে। মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে আমার বিবাহের নিকাহনামায় ৪৯ হাজার ৯৯৯ টাকা দেনমোহরের জায়গায় জালিয়াতি করে ৪ লাখ ৪৯ হাজার ৯৯৯ করেছে। একইসঙ্গে আমার স্ত্রীকে ভুল বুঝিয়ে সংসার যেনো না করে সেই লক্ষ্যে যৌতুক আইনে মামলাও দিয়েছে।’

যৌতুক মামলার বাদী পক্ষের অ্যাডভোকেট তবিবুর রহমান (তবি) বলেন, ‘সংক্ষুব্ধ পক্ষ চাইলে আইনের আশ্রয় নিতেই পারেন। আদালত প্রকৃত ঘটনার প্রেক্ষিত বিষয়টির আইনগত সুরহা করবেন। অনেক সময় দুই পক্ষের মধ্যে অযাচিত কিছু ঘটনায় তারা আদালতে আসেন। আর আমাদের কাজ হলো আইনগত সেবা দেওয়া।’

ইত্তেফাক/এএএম