রাশিয়া ছেড়ে পালিয়েছেন যুদ্ধের বিরোধিতাকারী সাংবাদিক

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২২, ১২:০৫

রাশিয়ায় টেলিভিশনে সংবাদ প্রচারের সময় যুদ্ধবিরোধী প্ল্যাকার্ড নিয়ে হাজির হওয়া আলোচিত সাংবাদিক মেরিনা ওভিসইয়াননিকোভা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গর্ত মার্চে রাশিয়ার সরকারি টিভি 'চ্যানেল ওয়ানে' সন্ধ্যার খবর প্রচারের সময় তিনি সংবাদ পাঠিকার পেছনে যুদ্ধবিরোধী প্ল্যাকার্ড হাতে হাজির হয়েছিলেন। মেরিনার হাতে প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, 'যুদ্ধ নয়, যুদ্ধ বন্ধ করো, প্রচারণায় বিশ্বাস করো না, তারা এখানে মিথ্যা কথা বলছে।'

মেরিনার আইনজীবী দিমিত্রি জাখভাতভের বরাত দিয়ে এএফপি জানায়, মেরিনা গৃহবন্দী থেকে বের হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি তার মেয়েকে নিয়ে দেশ ছাড়েন। এখন তারা ইউরোপে আছেন। যত দিন পর্যন্ত তারা প্রকাশ্যে কথা বলতে পারবেন না, ততদিন পর্যন্ত তারা অপেক্ষা করবেন। রাশিয়া আপাতত তাদের জন্য নিরাপদ নয়।

মার্চ মাসে মেরিনা চ্যানেল ওয়ানের সম্পাদক ছিলেন। এ ঘটনার পর তাকে আটক করা হয়। পাশাপাশি দেশটির সেনাবাহিনীর মর্যাদাহানির অভিযোগ করে তাকে ৩০ হাজার রুবল জরিমানা করা হয়। সে সময় ফ্রান্স সরকার তাকে আশ্রয় দিতে চাইলেও তিনি দেশ ছাড়তে রাজি হননি।

এ ঘটনার পর চাকরি ছেড়ে দিয়ে মেরিনা অধিকারকর্মী হয়ে উঠেন। তিনি প্রকাশ্যে যুদ্ধের বিরোধিতা শুরু করেন। জুলাইয়ের মাঝামাঝি ক্রেমলিনের কাছে পোস্টার হাতে বিক্ষোভ করেছিলেন মেরিনা। সেই পোস্টারে লেখা ছিল 'পুতিন একজন খুনি। তার সেনারা ফ্যাসিস্ট।'

এরপর আগস্টের শুরুর দিকে তাকে আটক করে রুশ কর্তৃপক্ষ। রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনী সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে গত আগস্টে তাকে দুই মাসের জন্য গৃহবন্দী করা হয়। ৯ অক্টোবর এ সাজার মেয়াদ শেষ হয়।

মেরিনার আইনজীবী দিমিত্রি জাখভাতভ জানান, ১৭ অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে মস্কোর একটি জেলা আদালতে তার বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তিনি কোথায়, তা জানাতে পারেনি।

৫ অক্টোবর মেরিনা টেলিগ্রামে এক পোস্টে লিখেন, তিনি নিজেকে নির্দোষ মনে করেন। যেহেতু রাষ্ট্রই তার নিজস্ব আইন মেনে চলে না, তাই তিনি চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে তার ওপর আরোপিত নিয়ন্ত্রণ মানবেন না এবং তিনি এ থেকে নিজেকে মুক্ত করছেন।

রাশিয়ার রাষ্ট্র পরিচালিত টেলিভিশন নেটওয়ার্ক রাশিয়া টুডে শনিবার (১৫ অক্টোবর) জানায়, মেরিনা তার ১১ বছরের মেয়েকে নিয়ে পালিয়েছেন। এখন কোথায় আছেন, তা জানা যায়নি।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কীভাবে তিনি দেশ ছাড়লেন এবং কোথায় গেলেন, তা এখনো পরিষ্কার নয়। তবে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে থাকা পলাতক আসামিদের তালিকায় মেরিনার নাম ছবিসহ দেখা গেছে।

ইত্তেফাক/এআই/ডিএস