গাইবান্ধা-৫ (ফুলছড়ি-সাঘাটা) আসনের উপ-নির্বাচনে অনিয়মের প্রথম দিনের তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ অক্টোবর) সকাল ৯ টায় গাইবান্ধা সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে এ তদন্ত কাজ শুরু হয়। শেষ হয় বিকেল সাড়ে চারটায়। নির্বাচন কমিশনের গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি এ তদন্ত পরিচালনা করেন।
এ তদন্ত চলবে বৃহস্পতিবার (২০ অক্টোবর) পর্যন্ত। তিন দিনে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট অন্তত ৬৮৫ জনের সাক্ষাতকার নেওয়া হবে।
তদন্তের প্রথম দিনে ফুলছড়ি উপজেলায় কর্তব্যরত নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ১৪০ জনের বক্তব্য গ্রহণ করা হয়। ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আলাউদ্দিন, সহকারী রিটানিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ আবদুল মোত্তালিব, ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল সোবহান, ফুলছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ কাওসার আলী, ১১ জন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, ৬৬ জন সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের ৫৫ জন পোলিং এজেন্ট এবং ফুলছড়ি উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত হয়ে তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ১ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার বুড়াইল মডেল স্কুল এন্ড কলেজের প্রভাষক মোঃ ওয়াহেদুজ্জামান প্রধান এই শুনানীতে অংশ নেন। তিনি জানান, এই শুনানীতে তার কেন্দ্রের বিশৃংখলার একটি ভিডিও তাকে দেখানো হয়। তারপর প্রশ্ন করা হয় এ রকম পরিস্থিতিতে তিনি কি করেছেন। তিনি বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে চেষ্টা করেছি। কিন্ত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয় নাই।
ফুলছড়ি উপজেলার মদনের পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার জাহাঙ্গীর আলম জানান, তার কেন্দ্রের সিসি ক্যামেরা নষ্ট থাকার কারনে ভোট স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন। তদন্ত কমিটি জানতে চায় কারা এই ক্যামেরা নষ্ট করে। এর উত্তরে তিনি জানান, বিষয়টি জানতে পারেনি। কারা এই ক্যামেরা নষ্ট করেছে।
শেষে উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মীদের উদ্দেশ্যে তদন্ত কমিটির আহবায়ক বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ বলেন, ফুলছড়ি উপজেলার ১১টি ভোটকেন্দ্রে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, সহকারি প্রিজাইডিং কর্মকর্তার বক্তব্য নিয়েছি ভিডিওচিত্র দেখিয়ে তাদের সাথে রিলেটেড বিষয়গুলোর। এখন আপনাদের সাথে কথা বলছি। প্রার্থীদের পোলিং এজেন্টদেরও বক্তব্য নিয়েছি। সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা ও গাইবান্ধা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং ফুলছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) বক্তব্য নেওয়া হবে। এবং আগামিকাল আমরা সাঘাটা উপজেলায় যাব। সবমিলে আমরা যে নোটিশ করেছি তাতে ৬৮৫ জনের একটা তালিকা আছে। এই তালিকা হয়তো কিছু বেড়ে যেতে পারে। কারণ আমরা কারো বক্তব্য নেওয়ার সময় তার রিলেটেড কোন নাম আসছে বা কোন বিষয় আসছে কিনা সেগুলোও আমরা দেখছি। এর চেয়ে বেশি আর কিছু এই মুহুর্তে বলতে পারছি না।
আগামি দিনে কি আশা করবো সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে অশোক কুমার দেবনাথ বলেন, এটাও বলতে পারছি না। আগামি দিনে কি হবে এটা কমিশনের বিষয়। আমরা রিপোর্ট দেওয়ার পরে কমিশন ডিসিশন নেবে।
ভোটগ্রহন চলাকালীন সময় আপনারা যা দেখেছেন সে অনুযায়ী তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা নিলেন না কেন; কাউকে আটক বা গ্রেপ্তারের বিষয়ে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে অশোক কুমার বলেন, এ বিষয়ে কমিশন বলতে পারবে। কেননা সব কিছু তো কমিশনের ডিসিশন অনুযায়ী হয়। সরাসরি কমিশন দেখছে, কমিশন দেখেই সিদ্ধান্ত দিয়েছে। এ বিষয়ে কি করতে হবে কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে অশোক কুমার আরও বলেন, সাত কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য বলা আছে। আশাকরি, আমরা এর মধ্যে দিতে পারবো।
প্রসঙ্গত, গাইবান্ধা-৫ আসনের সাংসদ ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়ার মৃত্যুতে এই আসনে গত ১২ অক্টোবর উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু ঢাকায় নির্বাচন কমিশন ভবন থেকে সিসি ক্যামেরায় বিভিন্ন অনিয়ম দেখে ভোটগ্রহন স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন। পরদিন বৃহস্পতিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল এ উপনির্বাচনে সংঘটিত অনিয়মের ঘটনা তদন্তে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথকে আহবায়ক এবং যুগ্মসচিব মো. কামাল উদ্দিন বিশ্বাস ও মো. শাহেদুন্নবী চৌধুরীকে সদস্য করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন।
