কংগ্রেস সভাপতি পদের নির্বাচনে খাড়গে ও থারুর এই পদের অন্যতম দাবিদার ছিলেন। ভোট গণনার মধ্যেই মারাত্মক অনিয়মের অভিযোগ করেছেন কেরালার সংসদ সদস্য ও এই নির্বাচনের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী শশী থারুর। তিনি ও তার নির্বাচনী এজেন্ট অভিযোগ করেছেন, এই রাজ্যে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন হয়নি। এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আগেই ঠিক করা ছিল মঙ্গলবারের (১৮ অক্টোবর) মধ্যে সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ভোট বাক্স দিল্লিতে দলীয় দফতরে চলে যাবে। বুধবার (১৯ অক্টোবর) সকাল থেকে শুরু হবে গণনা।
সেই অনুযায়ী স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত এআইসিসি নেতা মধুসূদন মিস্ত্রির তত্ত্বাবধানে সব ভোটবাক্স থেকে ব্যালটপেপার বের করে মেশানো হয়, যাতে কোন রাজ্যের কোন প্রতিনিধি কাকে ভোট দিয়েছেন বোঝা না যায়। দুই প্রার্থীর মনোনীত প্রতিনিধিদের সাক্ষী রেখে সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ শুরু হয় গণনা।
গণনা শুরুর কিছু পরেই শশী থারুরের নির্বাচনী এজেন্ট সলমন সোজ ‘নির্বাচনী অব্যবস্থা ও অনিয়মের’ অভিযোগ করেন। জম্মু ও কাশ্মীরের প্রবীণ কংগ্রেস নেতা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সৈফুদ্দিন সোজের পুত্র সলমন সোজ কংগ্রেস অফিসে জানান, একাধিক অনিয়মের অভিযোগ নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে লিখিতভাবে জমা দেওয়া হয়েছে। ব্যালট বাক্স যেভাবে 'সিল' করা দরকার, সেভাবে করা হয়নি। ভোটের সময় যাদের উপস্থিত থাকার কথা, তারা ছাড়াও অন্যদের উপস্থিতি খেয়াল করা হয়েছে। বিশেষভাবে উত্তরপ্রদেশ ও তেলেঙ্গানায় এসব অনিয়ম ধরা পড়েছে বলে মধুসূদন মিস্ত্রিকে জানানো হয়েছে।
থারুর নিজেও এক চিঠিতে উত্তরপ্রদেশের ভোট গণনা স্থগিত রাখার দাবি জানিয়ে মধুসূদন মিস্ত্রিকে লিখেছেন, অভিযোগগুলো গুরুতর। উত্তর প্রদেশের ভোট মোটেই বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠতে পারেনি। এই রাজ্যের ভোট অনিয়মের সব সীমা অতিক্রম করেছে। উত্তর প্রদেশের প্রতিনিধির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
চিঠিতে লেখা হয়, মল্লিকার্জুন খাড়গে নিশ্চিতই জানতেন না, কি বিপুল অনিয়ম হয়েছে উত্তরপ্রদেশে। জানলে কিছুতেই তিনি তা হতে দিতেন না। দলের পক্ষে এত গুরুত্বপূর্ণ এই ভোটকে এভাবে কলুষিত হতে দিতেন না।
অভিযোগের আনুষ্ঠানিক কোনো জবাব মিস্ত্রি দেননি। তবে কংগ্রেস থেকে বারবার জানানো হয়েছে, নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ করা দলের উদ্দেশ্য। সে জন্য দুই প্রার্থীর পক্ষেই 'লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড' সৃষ্টিতে নির্বাচন কর্তৃপক্ষ সচেষ্ট।
যদিও থারুরের নির্বাচনী এজেন্টদের বক্তব্য, পরিবর্তনের দাবিতেই এই ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা। যেভাবে চলে আসছে, সেভাবে চলতে দিতে এবং তা মেনে নিতে থারুর ভোটে দাঁড়াননি।
নির্বাচনী প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই কংগ্রেসমহলে এই ধারণা ছিল যে গান্ধী পরিবারের সমর্থন রয়েছে প্রবীণ খাড়গের দিকেই। কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী ও তার পুত্র রাহুল বারবার জানিয়েছেন, তারা কোনো পক্ষ অবলম্বন করছেন না।
তবু বুধবার সকালেই দেখা যায়, গণনা শুরুর আগেই কংগ্রেস অফিসের বাইরে সভাপতি খাড়গেকে অভিনন্দন জানিয়ে হোর্ডিং টাঙানো হয়েছে। স্পষ্টতই দলে যারা স্থিতাবস্থা রক্ষায় বিশ্বাসী, এই ভোটে তারা খাড়গের পক্ষ নিয়েছেন। তাকে জেতাতেই তারা সচেষ্ট, কারণ 'সেটাই নাকি পরিবারের অলিখিত নির্দেশ'।
