অর্থবছর শেষ হলেও হবিগঞ্জের সব উপজেলায় বজ্রপাতনিরোধক যন্ত্র (লাইটিং এরেস্টার মেশিন) স্থাপন প্রকল্পের কাজ শেষ হয়নি। কাজ বাস্তবায়নে ধীরগতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় গত অর্থবছরে (২০২১-২২) হবিগঞ্জ জেলায় বজ্রপাতনিরোধক যন্ত্র স্থাপনের জন্য ২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। এর মধ্যে বাহুবল উপজেলায় ১৫ লাখ, নবীগঞ্জে ৩০ লাখ, বানিয়াচঙ্গে ৪৫ লাখ, আজমিরিগঞ্জে ৩০ লাখ, হবিগঞ্জ সদরে ১৫ লাখ, লাখাইয়ে ২৫ লাখ, শায়েস্তাগঞ্জে ১০ লাখ, চুনারুঘাটে ১৫ লাখ ও মাধবপুরে ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে।
জানা গেছে, গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হবিগঞ্জ সদর, লাখাই শায়েস্তাগঞ্জ ও নবীগঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতনিরোধক যন্ত্র স্থাপনের কাজ শেষ হয়নি। আজমিরিগঞ্জ প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জানান, পৌরএলাকাসহ ছয়টি স্থানে বজ্রপাতনিরোধক যন্ত্র বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। নবীগঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতনিরোধক যন্ত্র বসানোর কাজ শেষ না হওয়ার ব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. তাজ উদ্দিন বলেন, ভাটি এলাকা থেকে পানি সরে না যাওযায় মেশিন বসাতে বিলম্ব হচ্ছে। তিনি বলেন, খুব তাড়াতাড়ি এ কাজ শেষ করা হবে। বানিয়াচঙ্গ উপজেলায় সাতটি জায়গায় বসানোর কথা থাকলেও তিনটি স্থানে এ যন্ত্র বসানোর কাজ শেষ হয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মলয় কুমার দাশ জানান, চারটি বজ্রপাতনিরোধক যন্ত্রে আইওটি সুবিধা থাকবে। এর মাধ্যমে যন্ত্রটি কি পরিমাণ বজ্রপাত প্রতিরোধ করেছে তা জানা সহজ হবে। সাধারণ বজ্রনিরোধক যন্ত্রের চেয়ে এর মূল্য প্রায় আড়াই লাখ টাকা বেশি। জেলা দুর্যোগ ও পুনর্বাসন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মঈন উদ্দিন জানান, নিচু এলাকায় পানি শুকিয়ে গেলেই যন্ত্র বসানোর কাজ শেষ হবে।
জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলায় বজ্রপাতে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ২০২০ সালে ১৫ ও ২০২১ সালে ১২ জন বজ্রপাতে মারা যান। সূত্র মতে, প্রতি বছর বজ্রপাতে গড়ে ১৫ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
