সাভারের আশুলিয়ায় কূয়ার ভেতর থেকে নারী পোশাক শ্রমিকের গলা কাটা লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত নারী শ্রমিকের নাম পলি আক্তার।
বৃহস্পতিবার (২০ অক্টোবর) ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের সহযোগিতায় গভীর কুয়া থেকে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ
এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আশুলিয়ার টঙ্গাবাড়ি হাকিমপট্টি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। শুক্রবার বিকালে সাভারের নবীনগর র্যাব ক্যাম্পে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায় র্যাব। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের বোন বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, শেরপুর জেলার সদর থানাধীন চরদিবাড়ী গ্রামের মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে মো. রেজাউল ইসলাম (৪২), একই জেলার ঝিনাইগাতী থানার দড়িকালি গ্রামের মৃত সমির উদ্দিনের ছেলে মো. সামিউল (৩২) ও টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর থানাধীন শিককাঠুড়া গ্রামের মো. জলিল মিয়ার ছেলে সাইফুল ইসলাম (৪৯)।
র্যাব জানায়, নিহত পলি আশুলিয়ার টঙ্গাবাড়ি হাকিমপট্টি এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে পোশাক কারখানায় কাজ করতো। খুনি রেজাউল তার প্রতিবেশী। এলাকায় চায়ের দোকান চালায়। একই মহল্লায় থাকার সুবাদে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ১০ মাস ধরে তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক চলছিল। বিষয়টি রেজাউলের স্ত্রী জানতে পারলে পলিকে বকাঝকা করে। এর ফলে দুজনের প্রেমে কিছুটা ভাটা পড়ে। এক পর্যায়ে পলি রেজাউলকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকে।
হত্যার পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী কারখানা ছুটির পর প্রেমিক রেজাউল পলিকে বিয়ে করার কথা বলে
একটা অটোরিক্সায় তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে শ্রীখণ্ডিয়া বড়বিচরা এলাকায় নিয়ে দুই বন্ধু সাইফুল ও সামিউল পলিকে মাটিতে ফেলে চেপে ধরে। আর গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করে রেজাউল। এরপর মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার জন্য রেজাউল নিজের সাথে নেওয়া ছুরি দিয়ে পলিকে জবাই করে নির্জন জঙ্গলের গভীর কুয়ার ভেতর ফেলে দেয়।
এদিকে বৃহস্পতিবার বিকালে পচা গন্ধ বের হলে স্থানীয়রা কুয়ার ভেতর একটি লাশ দেখে থানায় খবর দেয়। ঘটনাস্থলে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় গলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
র্যাব-৪ এর সিপিসি-২ নবীনগর ক্যাম্পের এএসপি মাজাহারুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি, অটোরিক্সা এবং মোবাইলফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
