সিএনজি স্টেশন থেকে শিল্পে গ্যাস সরবরাহ ফের শুরু

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২২, ০৪:০৯

দেশের শিল্প কারখানায় সিলিন্ডারের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ ফের শুরু করেছে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলো। গত ১৩ সেপ্টেম্বর গাজীপুরে একটি সিএনজি স্টেশনে বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনায় সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার সাত দিন পরে গত শুক্রবার তা পুনরায় শুরু করা হয়েছে।

জানা যায়, বিভিন্ন দেশে সিএনজি স্টেশন থেকে শিল্প কারখানায় সিলিন্ডারের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহের আইনগত অনুমোদন থাকলেও বাংলাদেশে তা নেই। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাও স্টেশনগুলোতে নেওয়া হয়নি। এর মধ্যেই দীর্ঘদিন ধরে অনেক শিল্প কারখানা সিএনজি স্টেশন থেকে গ্যাস নিয়ে আসছিল। গ্যাসের চাপ কম পেয়ে শিল্পমালিকরা যেমন আগ্রহ নিয়ে এ গ্যাস কেনেন, তেমনি শিল্প এলাকার স্টেশনগুলোও বাড়তি লাভের আশায় এ বেচাকেনায় জড়িত। আর দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস-সংকট থাকায় সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তারা এ বিষয়ে চোখ বন্ধ রেখে এ অনানুষ্ঠানিক বেচাকেনায় সম্মতি দিয়ে আসছেন।

রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানির (আরপিজিসিএল) এক কর্মকর্তা এবং কয়েক জন সিএনজি স্টেশন মালিক জানান, দেশে গ্যাস-সংকট বাড়তে থাকায় সিএনজি স্টেশন থেকে গ্যাস নেওয়ার জন্য শিল্প উদ্যোক্তারা ও ব্যবস্থাপকরা এখন মরিয়া। কিন্তু এ ধরনের সরবরাহের জন্য স্টেশনগুলোতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেই। দুর্ঘটনার ঝুঁকির মধ্যেই সিলিন্ডারে গ্যাস বিক্রি হচ্ছে। সম্প্রতি গাজীপুরের গাছা বড়বাড়ী এলাকায় হাজী ওয়াহেদ আলী সরকার সিএনজি ফিলিং স্টেশনে একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের সিলিন্ডারে গ্যাস দেওয়ার সময় দুর্ঘটনা ঘটে। এতে তিন কর্মী নিহত এবং আরো চার জন গুরুতর দগ্ধ হন।

ঐ দুর্ঘটনার পর সিএনজি স্টেশনগুলো সিলিন্ডারে গ্যাস বিক্রি বন্ধ করে দেয়। এরপর সিএনজি স্টেশন মালিকদের এবং সরকারের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদের বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা-তদবির করেন শিল্পমালিকরা। গত ১৬ অক্টোবর বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফেকচারস অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) এবং ১৯ অক্টোবর বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফেকচার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএমইএ) পেট্রোবাংলা এবং সিএনজি স্টেশন মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভারসন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনকে চিঠি দেয়। ঐ চিঠিগুলোতেও সিএনজি স্টেশনগুলো থেকে সিলিন্ডারের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহের জন্য সহযোগিতা চাওয়া হয়।

বিজিএমইএ সভাপতি ফারক হাসান স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, তৈরি পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠানে গ্যাসের চাপ কম থাকায় এবং অনিয়মিত গ্যাস সরবরাহের কারণে উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সকাল ৮টার পর থেকে গ্যাসের প্রেসার কমে কমে শূন্য পিএসআই হয়ে যায়। আবার রাত ১১টার পর কিছুটা উন্নতি হয়। এর ফলে উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যাঘাত ঘটছে। এ অবস্থায় সিএনজি স্টেশন থেকে যে সব কারখানা গ্যাস সরবরাহ নিতে চান তাদেরকে সিলিন্ডারের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ করার বিষয়ে একান্ত সহযোগিতা প্রয়োজন। কিন্তু স্টেশনগুলো গ্যাস সরবরাহ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

বিসিএমইএ সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম মোল্লা স্বাক্ষরিত চিঠিতে জানানো হয়, গত ছয় মাসের বেশি সময় ধরে সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত একটানা ১২ ঘণ্টা কারখানায় গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি মাঝে মাঝে একটানা কয়েক দিন পর্যন্তও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকে। এ অবস্থায় আমদানি বিকল্প ও রপ্তানিমুখী সিরামিক শিল্পে উৎপাদন অব্যাহত রাখতে সিএনজি স্টেশন হতে সিলিন্ডারের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিতে অনুরোধ জানানো হয়।

একটি সিএনজি স্টেশনের মালিক বলেন, সিএনজি ধারণের জন্য নির্ধারিত মানদ্লের সিলিন্ডার দরকার হয়। কিন্তু অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান অক্সিজেন, কার্বন ডাই অক্সাইডের সিলিন্ডার নিয়েও স্টেশনে চলে আসে এবং গ্যাস নিয়ে যায়। এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সরকার এ প্রক্রিয়াকে একটি বিধি ও নিয়মের মধ্যে আনলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ হবে।

এ প্রসঙ্গে সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভারসন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফারহান নূর বলেন, শিল্পের প্রয়োজনে সিএনজি স্টেশন থেকে গ্যাস দেওয়া অনেক দেশেই স্বাভাবিক ঘটনা। স্টেশন ও জননিরাপত্তা বিবেচনায় দেশেও এ প্রক্রিয়াটি যত দ্রুত সম্ভব বিধিসম্মত করা দরকার। নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সিলিন্ডারে গ্যাস সরবরাহ করার জন্য সরকার উদ্যোগ নিতে পারে। এটি যত দ্রুত করা যায় ততই মঙ্গল।

 

ইত্তেফাক/ইআ