সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

দমকা বাতাসের সঙ্গে মাঝারি বৃষ্টিপাত

উপকূলজুড়ে সতর্কতা: খুলনায় ৪০৯ সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২২, ১০:০৯

ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা খুলনায় দমকা বাতাসের সঙ্গে মাঝারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। রোববার (২৩ অক্টোবর) রাত ১২টা থেকে সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ৪৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটসহ উপকূলের ১৯ জেলায় আঘাত হানতে পারে বলে আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

খুলনা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আমিরুল আজাদ বলেন, ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে খুলনা অঞ্চলে রোববার দুপুর থেকেই আকাশ মেঘলাসহ গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল। রাত ১২টার পর থেকে দমকা বাতাসের সঙ্গে মাঝারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে।

তিনি জানান, রোববার রাত ১২টা থেকে সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ৪৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। দুপুর ১২টার পর থেকে বৃষ্টিপাত আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

খুলনা জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণহানি এড়াতে খুলনার ২ লাখ ৭৩ হাজার ৮৫০ জনের জন্য ৪০৯টি সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সাইক্লোন শেল্টারের মধ্যে সুন্দরবন সংলগ্ন দাকোপ উপজেলায় ১১৮টি, কয়রা উপজেলায় ১১৭টি, বটিয়াঘাটা উপজেলায় ২৭টি, ডুমুরিয়া উপজেলায় ২৫টি, পাইকগাছা উপজেলায় ৩২টি, তেরখাদা উপজেলায় ২২টি, রূপসা উপজেলায় ৩৯টি, ফুলতলা উপজেলায় ১৩টি ও দিঘলিয়া উপজেলায় ১৬টি প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

খুলনার জেলা প্রশাসক মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার জানান, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সকল প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। জরুরি শুকনা খাবার প্রস্তুত রাখা, সাইক্লোন শেল্টারে যারা আসবে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ আগতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার জন্য কাজ চলছে।

তিনি বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সঙ্গে, বিশেষ করে কয়রা, পাইকগাছা ও দাকোপের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে তাদের যাতে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া যায়, সে জন্য সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ২০ মে সুপার সাইক্লোন আম্ফানের আঘাতে খুলনার কয়রা, পাইকগাছা, সাতক্ষীরার, শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ২০০৯ সালের ২৫ মে ঘূর্ণিঝড় আইলায় খুলনার দাকোপ উপজেলায় ৬৫ জন প্রাণ হারান। ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর সিডরে জেলার কয়রা, পাইকগাছা, দাকোপ ও বটিয়াঘাটা উপজেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ইত্তেফাক/এসকে