বৃহস্পতিবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৬ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

বৈদ্যুতিক ফাঁদ পেতে বন্যহাতি হত্যা, খুনি আটক

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২২, ১৩:২৩

কক্সবাজারের উখিয়ায় ধান ক্ষেতে বিদ্যুৎ ফাঁদ পেতে বন্য হাতির হত্যার পর মাটিতে পুঁতে ফেলার চেষ্টা চালিয়েছেন এক কৃষক। এ ঘটনায় ক্ষেত মালিককে আটক করে মৃত হাতিটিকে উদ্ধার করেছে বনবিভাগ। 

শনিবার (২২ অক্টোবর) দিনগত রাতের কোনো এক সময় কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের ইনানী রেঞ্জাধীন উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের বন এলাকা আবু শামার ঘোনায় এ হাতি হত্যার ঘটনা ঘটে। ভোর হবার আগেই বনের পাদদেশে হাতিটি পুঁতে ফেলা হয়।

খবর পেয়ে রবিবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে রাজাপালং ইউনিয়নের ওই বন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সন্ধ্যা নাগাদ মাটি সরিয়ে মরা হাতিটি উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছেন রেঞ্জ কর্মকর্তা শামীম রেজা মিঠু। এ ঘটনায় জমির মালিক আবুল শামাকে আটক করা হয়েছে। তিনি উখিয়ার রাজাপালং পাইন্নাশিয়া এলাকার মৃত খলিলুর রহমানের ছেলে।

রেঞ্জ কর্মকর্তা শামীম রেজা মিঠু জানান, ইনানী রেঞ্জাধীন রাজাপালং বন বিটের আবু শামার ঘোনা নামক স্থানে জমির ধান ক্ষেতে হাতি ও অন্য প্রাণী প্রতিরোধে অবৈধভাবে বিদ্যুতের ফাঁদ পাতেন কৃষক আবুল শামা। রাতে পাহাড়ে বিচরণকালে একটি বন্যহাতি ওই বৈদ্যুতিক তারে আটকে মারা যায়। রাত থেকে ভোর পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে হাতিটির মৃতদেহ মাটিতে পুঁতে ফেলে ওই কৃষক। খবর পেয়ে বিট কর্মকর্তা ও সিপিজি সদস্যরা মাটি সরিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। 

তিনি আরো জানান, অভিযান চালিয়ে জমির মালিক আবুল শামাকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণি সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন ২০১২ অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়েছে।

অপরদিকে, বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি সার্জন ও উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তাদের এনে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শ অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।  

কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. সারোয়ার আলম বলেন, পাহাড়-বন বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল। সেখানে চাষাবাদ করে বন্যপ্রাণীর চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি সম্পূর্ণ বেআইনি। এর আগেও একইভাবে হাতি হত্যা করা হয়েছে। এরপর মানুষ-হাতির দ্বন্দ্ব নিরসন সচেতনতা বাড়াতে পাহাড়ের কাছাকাছি গ্রামে গ্রামে সভা-সমাবেশ করা হয়েছে। আজকের ঘটনায় মনে হচ্ছে এরপরও সচেতনতা আসেনি। তাই বন্যপ্রাণি সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন-২০১২ অনুযায়ী মামলা করা হয়েছে। আমরা চাইবো হাতি হত্যাকারী আটক ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি। 

ইত্তেফাক/জেডএইচডি